ঢাকায় আজ অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে জামাত‑ইসলামি আমীর শাফিকুর রহমান নতুন জোট গঠনের শর্ত ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, কোনো রাজনৈতিক দল যদি জোটে যোগ দিতে চায়, তবে তাকে দুর্নীতি ত্যাগ করতে হবে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ না করে সমান সেবা দিতে হবে। তদুপরি, সংশ্লিষ্ট দলকে সকল সংস্কার সুপারিশের বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে।
এই শর্তগুলোকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জামাত‑ইসলামির মধ্যে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা নিয়ে অনুমান বাড়ছে। পার্টিগুলো ইতিমধ্যে একে অপরের সঙ্গে আলোচনায় লিপ্ত, যদিও চূড়ান্ত চুক্তি এখনো প্রকাশিত হয়নি।
জামাত‑ইসলামি বর্তমানে আটটি ইসলামী দল নিয়ে গঠিত একটি জোটের অংশ, যার মধ্যে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এই জোটের লক্ষ্য নির্বাচনী মঞ্চে একত্রিত হয়ে ভোটের প্রভাব বাড়ানো।
শাফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর, তিনি ঢাকার কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ইসলামী ছাত্র শিবিরের সম্মেলনে শিক্ষার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, জামাত‑ইসলামি এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে প্রত্যেকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে এবং বেকারত্বের ঝুঁকি কমবে।
শিবিরের সদস্যদের ছাত্র সমাজের রক্ষক হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি অতীতের ৫৪ বছরকে স্মরণ করেন, যখন ছাত্রদের হাতে থেকে কলম ছিনিয়ে নেওয়া, ভুল পথে চালিত করা এবং অস্ত্র সরবরাহের ঘটনা ঘটেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কখনো কখনো সামরিক ক্যাম্পে রূপান্তরিত করা হয়েছিল।
যদিও তিনি স্বীকার করেন যে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হয়েছে, তবু তিনি সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ অন্ধকার দূর না হওয়া পর্যন্ত ছাত্র শিবিরকে তার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।
জোটের সচিব জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ারও একই সভায় তার মতামত প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী দলগুলো যুক্তি ও আদর্শের পরিবর্তে মিথ্যা তথ্য ও প্রচার ব্যবহার করে শিবিরকে স্বাধীনতা বিরোধী এবং ‘রোগকাটা’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছে, তবে তা প্রমাণ করা যায়নি। তিনি আরও জানান, চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়ন নির্বাচনে শিবিরের প্রস্তাবিত প্রার্থীরা ভোটে পরাজিত হয়েছে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী সেশনে ওমর বিন হাদি, যিনি ইনকিলাব মঞ্চের শহীদ শারিফ ওসমান হাদি’র বড় ভাই, তারাও বক্তব্য রাখেন। তিনি নিজের পরিচয় শহীদ ভাই হিসেবে নয়, বরং একজন নাগরিক হিসেবে তুলে ধরেন এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
এই ঘোষণাগুলো দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন দিক নির্দেশ করে। যদি জামাত‑ইসলামি নির্ধারিত শর্তে কোনো দলকে গ্রহণ করে, তবে তা নির্বাচনী জোটের কাঠামোকে পুনর্গঠন করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ভোটের ভারসাম্য পরিবর্তন করতে পারে। একই সঙ্গে, ছাত্র শিবিরের শিক্ষামূলক ও সামাজিক পরিকল্পনা দেশের যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
অবশেষে, বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, এই শর্তাবলীর বাস্তবায়ন এবং জোটের সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতায় কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে।



