জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জামাত‑ই‑ইসলামীর মধ্যে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে সিট‑শেয়ারিং চুক্তি চূড়ান্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। পার্টির সূত্র অনুযায়ী, আগামী এক‑দুই দিনের মধ্যে এই চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে, যা নির্বাচনী তালিকায় উভয় দলের প্রার্থীদের স্থান নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে। তবে এনসিপি‑এর কিছু উচ্চপদস্থ নারী নেতা এই সম্ভাব্য চুক্তির বিরোধিতা করছেন এবং পার্টির স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় রক্ষার দাবি জানাচ্ছেন।
এনসিপি‑এর প্রধান নারী নেতাদের মধ্যে সিনিয়র জয়েন্ট কনভেনার সামন্তা সরমিন, জয়েন্ট মেম্বার সেক্রেটারি নুসরাত তাবাসসুম, সিনিয়র জয়েন্ট মেম্বার সেক্রেটারি তাসনিম জারা, জয়েন্ট কনভেনার মোনিরা শারমিন এবং তাজনুভা জাবিন অন্তর্ভুক্ত। তারা যুক্তি দেন যে এনসিপি ইতিমধ্যে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলেছে এবং জামাতের সঙ্গে কোনো ইলেকটোরাল সমঝোতা সেই পরিচয়কে দুর্বল করে দিতে পারে।
একজন গোপন সূত্রের মতে, পার্টির শীর্ষ পাঁচজন নেতা, যার মধ্যে কনভেনার নাহিদ ইসলাম এবং মেম্বার সেক্রেটারি আখতার হোসেন অন্তর্ভুক্ত, জামাতের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পক্ষে। তবে একই সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রায় ত্রিশজন সিনিয়র নেতা, বিশেষ করে নারী নেতারা, এই চুক্তির বিরোধিতা করছেন। এই অভ্যন্তরীণ বিভাজন পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয়কে জটিল করে তুলেছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
নারী নেতারা উল্লেখ করেছেন যে, জামাতের সঙ্গে সম্ভাব্য সিট‑শেয়ারিং চুক্তির আওতায় প্রার্থীরূপে নাম লেখানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, যদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তবে তারা কোনো প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে ইচ্ছুক নয়। এই অবস্থান পার্টির অভ্যন্তরে সমন্বয়মূলক আলোচনার তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছে।
জামাত‑ই‑ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পোরওয়ার গতকাল বিকেলে জানিয়েছেন যে, এনসিপি‑এর সঙ্গে আলোচনা এক‑এক করে চলছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সিট‑শেয়ারিংয়ের সম্ভাবনা রয়েছে এবং ডিসেম্বর ২৯ তারিখের নোমিনেশন পেপার জমা দেওয়ার শেষ সময়ের আগে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। পোরওয়ার আরও বলেন, চূড়ান্ত ফলাফল নোমিনেশন জমা, সম্ভাব্য প্রত্যাহার এবং চলমান আলোচনার ওপর নির্ভরশীল।
পোরওয়ারের বক্তব্যে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ২০২৬ সালের আগে জামাত‑ই‑ইসলামী সিদ্ধান্ত নেবে যে, তারা কোনো জোট গঠন করবে, সিট‑শেয়ারিং চুক্তি করবে নাকি অন্য কোনো পদ্ধতিতে নির্বাচনে অংশ নেবে। এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করতে পারে, বিশেষ করে যখন দুই দলই ভোটার ভিত্তি ও সংস্থার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এনসিপি‑এর মেম্বার সেক্রেটারি আখতার হোসেন চুক্তি সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। তার এই অস্বীকৃতি পার্টির অভ্যন্তরে তথ্যের ঘাটতি বাড়িয়ে তুলেছে এবং মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, যদি এনসিপি ও জামাতের মধ্যে সিট‑শেয়ারিং চুক্তি চূড়ান্ত হয়, তবে উভয় দলের ভোটার ভিত্তি একত্রিত হয়ে নির্বাচনী ফলাফলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। অন্যদিকে, নারী নেতাদের বিরোধিতা এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন পার্টির সংহতি ও নির্বাচনী কৌশলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। আগামী দিনগুলোতে পার্টিগুলোর আলোচনার অগ্রগতি এবং নোমিনেশন প্রক্রিয়ার ফলাফল দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করবে।



