বেভারলি হিলসের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা মারিলিন গ্রানাস, শির্লি টেম্পলের প্রথম স্ট্যান্ড‑ইন হিসেবে কাজ করা অভিনেত্রী, ৯৮ বছর বয়সে ২১ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেছেন। পরিবার এই তথ্য জানিয়ে থাকে, এবং নাতি, চলচ্চিত্র ইতিহাসবিদ আর্থার গ্রান্ট উল্লেখ করেছেন যে শেষ সময়ে গ্রানাস ডিমেনশিয়ায় ভুগছিলেন।
মারিলিন রোয়েনা গ্রানাস ১৫ আগস্ট ১৯২৭-এ লস এঞ্জেলেসে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে তিনি টেম্পলসহ কয়েকজন শিশুর সঙ্গে ছোট ছোট চলচ্চিত্রে কাজ করেন, যেমন ১৯৩৩ সালের “গ্ল্যাড র্যাগস টু রিচেস”, “কিড ইন হলিউড” এবং “দ্য কিডস লাস্ট ফাইট”। এই অভিজ্ঞতা তাকে পরবর্তীতে শির্লি টেম্পলের স্ট্যান্ড‑ইন হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ দেয়।
টেম্পল যখন একটি নৃত্যশালায় তার সহপাঠীদের সঙ্গে কাজ করছিলেন, তখন গ্রানাসকে শিশুর সঙ্গে পিঠে পিঠে দাঁড়িয়ে কাজ করতে বলা হয়। দুজনের উচ্চতা ও শারীরিক গঠন একদম মিল থাকায় প্রযোজকরা তাকে টেম্পলের স্ট্যান্ড‑ইন হিসেবে নিয়োগ করেন। গ্রানাসের মতে, তখনই তাদের বন্ধুত্বের ভিত্তি গড়ে ওঠে।
স্ট্যান্ড‑ইন হিসেবে প্রথম কাজ ছিল টেম্পলের “বেবি, টেক এ বো” (১৯৩৪) যা দুই বছর বয়সে টেম্পলকে সিনেমা হলে দেখিয়েছিল। এরপর তিনি “ব্রাইট আইস” (১৯৩৪), “নাও অ্যান্ড ফরএভার” (১৯৩৪), “কার্লি টপ” (১৯৫) এবং “দ্য লিটল কলোনেল” (১৯৫) সহ বেশ কয়েকটি হিট ছবিতে টেম্পলের সঙ্গে কাজ করেন। “দ্য লিটল কলোনেল” ছবিতে টেম্পল ও বিল “বোজ্যাঙ্গলস” রবিনসন যখন বিখ্যাত সিঁড়ি দৃশ্যটি অভিনয় করছিলেন, তখন গ্রানাস মাত্র কয়েক ফুট দূরে ছিলেন।
গ্রানাস টেম্পলের সঙ্গে কাজের সময়কে “অসাধারণ সময়” বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দুজনই সেটে একে অপরের সঙ্গে বিভিন্ন খেলায় মেতে উঠতেন, এবং সেটের ব্যবহার না হলে তারা একসাথে “হাউস” খেলতেন। এই বন্ধুত্বের স্মৃতি গ্রানাসের জীবনের অন্যতম উজ্জ্বল মুহূর্ত হিসেবে রয়ে গিয়েছে।
১৯৬০-এর দশকে গ্রানাসের সাক্ষাৎকারে তিনি টেম্পলের শৈশবের কঠিন দিকগুলো উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, টেম্পলের জন্য সাধারণ স্কুলে যাওয়া, বন্ধু বানানো বা সাইকেল চালানোর মতো স্বাভাবিক শিশুকালীন অভিজ্ঞতা ছিল না; পুরো সময়ই সেটের দুজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এই পরিস্থিতি টেম্পলের জন্য অস্বাভাবিক এবং একাকী করে তুলেছিল।
গ্রানাসের পারিবারিক পটভূমি সম্পর্কে জানা যায়, তিনি ইহুদি বংশোদ্ভূত ছিলেন, তবে টেম্পলের মা গারট্রুডের সম্ভাব্য বৈষম্যের ভয়ে তিনি এই পরিচয় গোপন রাখতেন। এই গোপনীয়তা তার পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে গ্রানাসের নাতি উল্লেখ করেন।
বেভারলি হিলসে দীর্ঘ সময় বসবাসের পরেও গ্রানাসের জীবন চলচ্চিত্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল। তিনি প্রায় দশক ধরে টেম্পলের সঙ্গে কাজ করা স্মৃতিগুলোকে জীবন্ত রাখার চেষ্টা করেছেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।
মারিলিন গ্রানাসের মৃত্যুর খবর চলচ্চিত্র জগতের বহু পুরনো সদস্যের মধ্যে শোকের স্রোত তৈরি করেছে। তার সঙ্গে কাজ করা সহকর্মীরা তাকে স্মরণ করে বলেন, তিনি সবসময় পেশাদারিত্ব এবং উষ্ণতা দিয়ে কাজের পরিবেশকে সমৃদ্ধ করতেন।
গ্রানাসের পরিবার জানিয়েছে, তার শেষ দিনগুলোতে তিনি ডিমেনশিয়া রোগে ভুগছিলেন, তবে তার স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা এখনও চলচ্চিত্র ইতিহাসে অম্লান। তার নাতি, আর্থার গ্রান্ট, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তার গল্পগুলো সংরক্ষণে উৎসাহিত করছেন।
শির্লি টেম্পল, যিনি ১৯৩০-এর দশকে শিশু অভিনেত্রী হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছিলেন, গ্রানাসের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের কথা বহুবার উল্লেখ করেছেন। দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠা সম্পর্কটি শুধুমাত্র কাজের সীমা ছাড়িয়ে, একটি স্নেহপূর্ণ বন্ধুত্বে রূপান্তরিত হয়েছিল।
মারিলিন গ্রানাসের জীবনচিত্র, তার শৈশবের চলচ্চিত্রে উপস্থিতি থেকে শুরু করে শির্লি টেম্পলের সঙ্গে স্ট্যান্ড‑ইন হিসেবে কাজ করা পর্যন্ত, একটি অনন্য চলচ্চিত্র ঐতিহ্যের অংশ। তার ৯৮ বছর বয়সে পরলোকগমন চলচ্চিত্রের পুরনো যুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি চিহ্নিত করে।



