লিভারপুলের ঐতিহাসিক ওলটন পিকচার হাউস, যা শহরের সর্বপ্রাচীন বেঁচে থাকা সিনেমা হল, ক্রিসমাসের ছুটির দিনে পুনরায় দরজা খুলে দিল। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে ১০ বছরের সঙ্গী জ্যাকব মোলয়, লুসি অ্যাগেটের সামনে একটি রোমান্টিক প্রস্তাব রাখেন, যা দর্শকদের হৃদয় স্পর্শ করে।
সিনেমা হলটি ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং কোভিড‑১৯ মহামারীর কারণে ২০২০ সালে বন্ধ হওয়ার পর, সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টায় ক্রিসমাসের ১২ দিন পর্যন্ত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য অস্থায়ীভাবে খোলার সুযোগ পায়। পুনরায় খোলার দিনেই জ্যাকব এবং লুসি, যাদের প্রথম ডেটও এই একই হলেই হয়েছিল, “ইটস এ ওন্ডারফুল লাইফ” চলচ্চিত্রটি দেখার জন্য ভিড়ের মধ্যে প্রবেশ করেন।
চলচ্চিত্রের শেষ অংশে জ্যাকব হঠাৎ বড় স্ক্রিনে উপস্থিত হন, হাতে হাতে লেখা কয়েকটি কার্ড ধরে। তিনি দর্শকদের জানিয়ে দেন যে তার কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আছে। এরপর তিনি এক হাঁটু গেড়ে লুসিকে বাগদত্তা হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন, এবং লুসি আনন্দের সঙ্গে সম্মতি জানান। জ্যাকবের শেষ কার্ডে “She said yes” লেখা ছিল, যা মুহূর্তটিকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছিল।
প্রস্তাবের পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে ওলটন পিকচার হাউসের কর্মীদের সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়। জ্যাকবের মতে, প্রস্তাবের ধারণা তিন সপ্তাহ আগে গড়ে ওঠে, আর তিনি সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে এনগেজমেন্ট রিং খোঁজা শুরু করেন। পুনরায় খোলার সময়ের সাথে এই পরিকল্পনা মিলিয়ে, তিনি এটিকে “একটি ছোট সুযোগ” হিসেবে বর্ণনা করেন।
সিনেমা হলের কর্মীরা প্রস্তাবের জন্য বিভিন্ন আইডিয়া প্রদান করেন। মূলত জ্যাকব লুসিকে প্রজেকশন রুমে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন, তবে পুরনো রুমের ধুলো এবং রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরিবর্তে, কর্মীরা প্রস্তাবের ভিডিওটি চলচ্চিত্রের আগে সংযোজনের প্রস্তাব দেন, যা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়।
প্রস্তাবের সময় জ্যাকবের কণ্ঠস্বর স্ক্রিনে শোনাতে কিছুটা কষ্ট হয়, তাই তিনি শেষ পর্যন্ত টেক্সটের মাধ্যমে প্রশ্নটি প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেন। এই সরলতা এবং সৃজনশীলতা দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করে, এবং লুসির উত্তরে রুমে আনন্দের ঢেউ তোলা হয়।
ওলটন পিকচার হাউসের ইতিহাসও এই রোমান্সের সঙ্গে যুক্ত। ১৯২৭ সালে উদ্বোধন হওয়ার পর, এটি লিভারপুলের সাংস্কৃতিক দৃশ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কোভিডের প্রভাবের ফলে ২০২০ সালে বন্ধ হওয়ার পর, স্থানীয় নাগরিকদের উদ্যোগে পুনরায় খোলার জন্য ক্যাম্পেইন চালু হয়, এবং ক্রিসমাসের ১২ দিন পর্যন্ত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে পুনর্জীবন পায়।
পুনরায় খোলার পর, সিনেমা হলটি নতুন বছরের শুরুতে বৃহৎ সংস্কার কাজের জন্য আবার বন্ধ হয়। এই সংস্কার কাজের লক্ষ্য হল আধুনিক প্রযুক্তি ও সাউন্ড সিস্টেম যুক্ত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি আধুনিক সিনেমা অভিজ্ঞতা তৈরি করা।
জ্যাকবের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রস্তাবের প্রস্তুতি তিন সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হয়, এবং তিনি সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে এনগেজমেন্ট রিংয়ের বাজারে নজর দেন। তিনি বলেন, ওলটন সিনেমা যখন ১২ দিনের ক্রিসমাস ফিল্মের জন্য পুনরায় খোলার ঘোষণা দেয়, তখনই এটি তার জন্য আদর্শ সময় ছিল।
সিনেমা হলের কর্মীরা এই রোমান্টিক মুহূর্তকে সফল করতে বিভিন্ন সৃজনশীল সমাধান প্রদান করেন। তারা প্রস্তাবের ভিডিওটি চলচ্চিত্রের আগে সংযোজনের ব্যবস্থা করেন, এবং স্ক্রিনে টেক্সটের মাধ্যমে প্রশ্নটি প্রদর্শন করেন। এই সমন্বয়টি দর্শকদের জন্য একটি অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে, যা জ্যাকবের কণ্ঠস্বরের পরিবর্তে টেক্সটের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
প্রস্তাবের পর লুসি আনন্দে ভরে ওঠেন এবং জ্যাকবের সঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য সম্মতি জানান। এই রোমান্টিক দৃশ্যটি ওলটন পিকচার হাউসের পুনরুজ্জীবিত ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় যোগ করে, যেখানে পুরনো স্মৃতি এবং নতুন স্বপ্ন একসাথে মিলিত হয়।
সিনেমা হলের পুনরায় খোলার মাধ্যমে লিভারপুলের বাসিন্দারা শুধু চলচ্চিত্রের আনন্দই পাননি, বরং একটি হৃদয়স্পর্শী প্রেমের গল্পের সাক্ষীও হয়েছেন। জ্যাকব এবং লুসির এই বিশেষ মুহূর্তটি শহরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভবিষ্যতে বহু বছর ধরে স্মরণীয় থাকবে।



