অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার ও যুব‑ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করে ১৩তম সংসদ নির্বাচনের জন্য স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে দৌড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া আসিফ মাহমুদ, সম্প্রতি মেটা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তার যাচাইকৃত ফেসবুক পেজ মুছে ফেলা হয়েছে। মাহমুদ নিজে ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করে পেজ মুছে ফেলার স্ক্রিনশট শেয়ার করে এই ঘটনার প্রমাণ দিয়েছেন।
মাহমুদের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ১৩তম সংসদ নির্বাচনের তফসিল প্রকাশের পূর্বে নেওয়া হয়। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার ও যুব‑ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে এসে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চেয়েছিলেন। এই পদত্যাগের পর তিনি স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে দৌড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহে মনোনিবেশ করেন।
পেজ মুছে ফেলার খবর জানার পর মাহমুদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি পেজ মুছে ফেলার স্ক্রিনশট সংযুক্ত করে মেটা কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপের কারণ ও তার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। স্ক্রিনশটটি পেজের নাম, যাচাইকরণ চিহ্ন এবং মুছে ফেলার তারিখ স্পষ্টভাবে দেখায়।
মেটা, যা ফেসবুকের মূল মালিক, ব্যবহারকারী নীতিমালার ভিত্তিতে যাচাইকৃত পেজ মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মেটা কর্তৃক প্রকাশিত কোনো বিবৃতি না থাকলেও, সাধারণত রাজনৈতিক প্রোফাইলের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা, নীতি লঙ্ঘন বা নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে পেজ বন্ধ করা হয়। এই ক্ষেত্রে পেজের মুছে ফেলা মাহমুদের স্বাধীন প্রার্থীরূপে নির্বাচনী প্রচারণার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
মাহমুদের স্বাধীন প্রার্থী হওয়ার প্রক্রিয়া জুলাই মাসে শুরু হয়। তিনি ঢাকা‑১০ নির্বাচনী এলাকার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহের শেষ তারিখের আগে নিজে আবেদনপত্র জমা দেন। এই প্রক্রিয়ায় তিনি ধানমন্ডি, নিউ মার্কেট, কলাবাগান এবং হাজারীবাগ থানা সমন্বিত এলাকাকে তার নির্বাচনী ক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করেন।
ঢাকা‑১০ নির্বাচন ঐতিহাসিকভাবে বহুবার পার্টি ভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখেছে, তবে স্বাধীন প্রার্থীর উপস্থিতি ভোটারদের পছন্দের বৈচিত্র্য বাড়াতে পারে। মাহমুদের পূর্ববর্তী সরকারি অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় প্রশাসনিক কাজের জ্ঞানকে তার প্রচারণার মূল শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি ভোটারদের কাছে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অন্যান্য দলীয় নেতারা এই ঘটনার প্রতি নীরবতা বজায় রাখলেও, স্বাধীন প্রার্থীর প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মন্তব্য করা হয়েছে। কিছু বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন যে, মেটা কর্তৃক পেজ মুছে ফেলা স্বাধীন প্রার্থীর ডিজিটাল উপস্থিতি সীমিত করতে পারে, তবে ঐতিহ্যবাহী প্রচার মাধ্যম ও সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তিনি তার বার্তা পৌঁছাতে সক্ষম হতে পারেন।
আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে মাহমুদের দল ইতিমধ্যে ক্যাম্পেইন অফিস স্থাপন, স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন এবং ভোটার তালিকা বিশ্লেষণ চালু করেছে। তিনি নির্বাচনের পূর্বে ভোটারদের সঙ্গে একাধিক জনসমাবেশের পরিকল্পনা করেছেন, যেখানে স্থানীয় সমস্যার সমাধান ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বিবরণ উপস্থাপন করা হবে।
মেটা পেজের মুছে ফেলা এবং স্বাধীন প্রার্থীরূপে দৌড়ানোর এই দুইটি ঘটনা ঢাকা‑১০ নির্বাচনের গতিপথে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভোটারদের প্রতিক্রিয়া ও নির্বাচনী ফলাফল কীভাবে গড়ে উঠবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে মাহমুদের রাজনৈতিক যাত্রা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।



