অ্যাভাটার ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশের তরুণ চরিত্র টুকের ভূমিকায় অভিনয় করা ট্রিনিটি ব্লিস, চলচ্চিত্রের সেটে শৈশব কাটিয়ে বড় হয়েছে। ২০১৭ সালে মাত্র সাত বছর বয়সে জেমস ক্যামেরনের নির্বাচনে তিনি টুকের ভূমিকা পেয়ে, জেক সুলি (সাম ওর্থিংটন) ও নেয়তিরি (জো স্যালডানা) পরিবারের সবচেয়ে ছোট সন্তান হিসেবে পরিচিত হয়।
ব্লিসের প্রথম শ্যুটিং শেষ হয় যখন তিনি নয় বছর বয়সী ছিলেন, তবে অতিরিক্ত ফটোশুটের মাধ্যমে তিনি পরবর্তী বছরগুলোতেও টুকের চরিত্রে ফিরে আসতে পারেন। সর্বশেষ শ্যুটিং কয়েক মাস আগে সম্পন্ন হয়, ফলে তিনি এখনো গল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
বছরের পর বছর সেটে বেড়ে ওঠার ফলে তার শারীরিক উচ্চতা টুকের বর্ণিত উচ্চতার সঙ্গে মিলে যায়। তিনি ১৬ বছর বয়সে পৌঁছে, ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি থেকে ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত উচ্চতা অর্জন করেছে, যা শ্যুটিং রুমের দেয়ালে চিহ্নিত উচ্চতার তালিকায় তাকে শীর্ষে নিয়ে এসেছে।
ট্রিনিটি, থাউজ্যান্ড ওকসের বাসিন্দা, ম্যানহাটন বিচের বিশাল সেটে সময় কাটিয়েছেন, যেখানে তিনি এবং অন্যান্য শিশুরা একসাথে বেড়ে উঠেছেন। এই পরিবেশে তিনি চলচ্চিত্রের জগতে নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলেছেন, যা সাধারণ শৈশবের চেয়ে ভিন্ন রঙে রঙিন।
টুকের চরিত্রটি জেক ও নেয়তিরির একমাত্র জৈবিক কন্যা এবং সবচেয়ে ছোট ভাইবোন, তাই তাকে সবসময় বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হয়। তার নিরাপত্তা প্রায়ই শত্রু চরিত্রের হুমকির মুখে পড়ে, যার মধ্যে রয়েছে কুয়ারিচ (স্টিফেন ল্যাং) এবং নতুন ভিলেন ভ্যারাং, যাকে ওনা চ্যাপলিন অভিনয় করেছেন।
শুটিংয়ের সময় ওনা চ্যাপলিনের সঙ্গে ট্রিনিটির সম্পর্ক ক্যামেরার বাইরে বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল। তারা একসাথে বন্ধুত্বের ব্রেসলেট বানাত, গিটার ও উকুলেলে সুর তুলত এবং একে অপরকে স্কুলের কাজ সম্পন্ন করতে সাহায্য করত। এই মুহূর্তগুলোতে ভিলেনের চরিত্রের কঠোরতা দূর হয়ে, সহকর্মী হিসেবে একে অপরকে সমর্থন করা দেখা যায়।
টুকের চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি ট্রিনিটি গায়ক-গীতিকার হিসেবে নিজের দক্ষতা গড়ে তুলছেন। তিনি গানের রচনা ও গিটারের সুরে নিজেকে প্রকাশ করে, যা তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য একটি নতুন দিক উন্মোচন করে।
অ্যাভাটার ফ্র্যাঞ্চাইজির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে “দ্য ওয়ে অফ ওয়াটার” এবং “ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ” দুটোই বড় স্ক্রিনে দর্শকদের সামনে এসেছে। এই সিরিজের সাফল্য ডিজনির সামগ্রিক আয়েও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে, যা পোস্ট-প্যান্ডেমিক সময়ে বিশ্বব্যাপী ছয় বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় অর্জন করেছে।
ট্রিনিটি ব্লিসের গল্পটি দেখায় কীভাবে একটি তরুণ শিল্পী বড় স্ক্রিনের জগতে শৈশব কাটিয়ে নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে পারে। ভবিষ্যতে তিনি কী ধরনের প্রকল্পে অংশ নেবে তা এখনও অজানা, তবে তার বর্তমান অভিজ্ঞতা তাকে নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত করেছে।



