28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিতারেক রহমানের ফিরে আসা ও নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ভারতের মন্তব্য

তারেক রহমানের ফিরে আসা ও নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ভারতের মন্তব্য

বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান, ১৭ বছর পর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল তার প্রত্যাবর্তনকে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দেখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা ভারতের মূল লক্ষ্য।

তারেক রহমানের লন্ডন থেকে ঢাকা পর্যন্ত যাত্রা ২৫ ডিসেম্বর শেষ হয়। দেশের রাজধানীর ৩০০ ফুট এলাকার বিশাল ভেন্যুতে বিএনপি-র নেতৃত্ব ও কর্মীদের বিশাল সমাবেশে তাকে স্বাগত জানানো হয়। উপস্থিতির সংখ্যা লক্ষাধিকের কাছাকাছি বলে অনুমান, যা তার ফিরে আসার রাজনৈতিক গুরুত্বকে তুলে ধরে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশে মুক্ত, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা ভারতের দীর্ঘমেয়াদী নীতি। তিনি যুক্তি দেন, তারেক রহমানের স্বদেশে ফিরে আসা ঘটনাটিকেও এই নীতির আলোকে বিশ্লেষণ করা উচিত।

আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার প্রশ্ন উঠলে, জয়সওয়াল সংক্ষিপ্তভাবে পুনরায় জোর দেন যে বাংলাদেশে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তিনি কোনো নির্দিষ্ট দলকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করেননি, বরং সমগ্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে গুরুত্ব দেন।

এছাড়া, জয়সওয়াল বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি অব্যাহত বৈরিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে চলমান হিংসা ও বৈষম্যকে “অত্যন্ত উদ্বেগজনক” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।

দিল্লি ও অন্যান্য শহরে বাংলাদেশি মিশন ও ভিসা সেন্টারের চারপাশে সম্প্রতি বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও, জয়সওয়াল এই বিষয়গুলোতে কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি মূলত নির্বাচনী পরিবেশ ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে দৃষ্টিপাত করেছেন।

তারেক রহমানের ফিরে আসা আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কিছু বিদেশি সংবাদমাধ্যমে তাকে “সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে এ ধরনের বিশ্লেষণ সরকারী বা পার্টি পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত নয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে এখনো নির্বাচনের সময়সীমা নির্ধারিত হয়নি, তবে বছরের শেষের দিকে ভোটের সময়সূচি নির্ধারিত হওয়ার কথা। তারেকের প্রত্যাবর্তন এই সময়ে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে বিরোধী গোষ্ঠীর কৌশলগত পুনর্গঠনকে প্রভাবিত করতে পারে।

বিএনপি-র সংগঠিত স্বাগত অনুষ্ঠানে হাজারো নেতা ও কর্মী অংশগ্রহণ করেন, যা পার্টির সংগঠনের শক্তি ও সমর্থনের মাত্রা প্রকাশ করে। অনুষ্ঠানে পার্টির উচ্চপদস্থ নেতারা তারেকের রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন, যদিও নির্দিষ্ট নীতি বা মন্ত্রিপদে দখল সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেয়া হয়নি।

ভারতের এই মন্তব্যের ফলে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সূক্ষ্মতা বাড়তে পারে। দু’দেশই প্রতিবেশী হিসেবে একে অপরের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নজর রাখে, এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য পারস্পরিক সমর্থন প্রকাশ করা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বাস্থ্যের ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময়ের পর তারেকের হঠাৎ ফিরে আসা বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন গতিশীলতা তৈরি করতে পারে। যদিও এখনো তার রাজনৈতিক পরিকল্পনা বা সম্ভাব্য মন্ত্রিপদীয় দায়িত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য নেই, তবে তার উপস্থিতি ভোটারদের মনোভাব গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।

নির্বাচনের আগে পার্টিগুলো সক্রিয়ভাবে ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাবে, এবং আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল উভয়ই ভোটারদের সমর্থন জোরদার করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করবে। এই সময়ে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সংখ্যালঘু অধিকার ইত্যাদি বিষয়গুলো রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে, এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই প্রক্রিয়াকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments