প্রাক্তন আইজিপি মোহাম্মদ নুরুল হুদা ১৮ ডিসেম্বর রাতে মব সন্ত্রাসের ঘটনা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তৃত মন্তব্য করেন। তিনি জানিয়েছেন, মব সন্ত্রাসের মোকাবিলায় পুলিশ বাহিনীর কাজের গতি যথেষ্ট ধীর এবং তা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগের কারণ।
হুদা উল্লেখ করেন, মবের আক্রমণ রোধে পুলিশ যে ‘হতাহতের আশঙ্কা’কে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরছে, তা বাস্তবিক কোনো যুক্তি নয়; বরং তা এক ধরনের অযৌক্তিক অজুহাত। তিনি বলেন, সঠিক পদক্ষেপ না নিলে মবের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা অব্যাহত থাকবে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের ‘ইনসাইড আউট’ অনুষ্ঠানে হুদা তার তিন দশকের বেশি সময়ের পুলিশ ক্যারিয়ার থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি ১৯৭০ সালে পুলিশে যোগ দেন এবং ২০০০ সালের ৭ জুন থেকে ২০০১ সালের ৬ নভেম্বর পর্যন্ত আইজিপি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। আইজিপি পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে কাজ করেন এবং ২০০৩ সালে সম্পূর্ণ অবসর গ্রহণ করেন।
হুদা ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অধীনে জাতীয় পরামর্শক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন এবং ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত পুলিশের কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অবসর জীবনে তিনি লেখালেখি ও গবেষণায় মনোনিবেশ করে সময় কাটাচ্ছেন।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পরপরই হুদা এই ঘটনার তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের ধরার সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, হাদির হত্যাকারীরা যদি দেশে থাকে তবে তাদের ধরা সম্ভব এবং তা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়াবে। “অন্যান্য অনেক কেসেও পরে দোষী ধরা পড়েছে; তাই এই কেসে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি,” তিনি যুক্তি দেন।
হুদা আরও উল্লেখ করেন, হাদির হত্যার পর এক মাসও অতিক্রম হয়নি, তাই এখনই দোষী নির্ধারণে তাড়াহুড়ো করা ঠিক হবে না, তবে তদন্তের গতি বাড়িয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের অপরাধের পেছনে কোনো গোপন ষড়যন্ত্র, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা গোষ্ঠীগত বিরোধ আছে কিনা তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে হুদা আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচন যদি পুরো দেশে সমানভাবে পরিচালিত হয়, তবে বর্তমানের স্থানীয় গন্ডগোল জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়বে না। “শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব, কারণ গন্ডগোলের ক্ষমতা সীমিত এবং তা পুরো দেশ জুড়ে বিস্তৃত হবে না,” তিনি বলেন।
হুদা উল্লেখ করেন, মব সন্ত্রাসের মোকাবিলায় পুলিশকে দ্রুত এবং দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়। তিনি অতিরিক্তভাবে বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শৈথিল্য দূর করতে প্রশিক্ষণ, তত্ত্বাবধান ও স্বচ্ছতা বাড়ানো প্রয়োজন।
মব সন্ত্রাসের ঘটনা এবং হাদির হত্যাকাণ্ডের তদন্তের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সরকারী সূত্র থেকে কোনো নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়নি, তবে হুদা আশাবাদী যে সংশ্লিষ্ট বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সকল স্তরের কর্তৃপক্ষের সমন্বিত কাজ প্রয়োজন।
প্রাক্তন আইজিপি নুরুল হুদার এই মন্তব্যগুলো দেশের নিরাপত্তা নীতি, মব সন্ত্রাসের মোকাবিলা এবং নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে। তার অভিজ্ঞতা ও বিশ্লেষণ ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।



