২০২৫ সালে বিজ্ঞান জগতে প্রাণী সম্পর্কিত বেশ কিছু আকর্ষণীয় ঘটনা নজরে এসেছে। টেক্সাসে একটি বিরল পাখি, একটি অস্বাভাবিক শিকার পদ্ধতি ব্যবহারকারী মাকড়সা এবং আর্কটিকের নরহোয়ালদের খেলাধুলাপূর্ণ আচরণ এই বছরের শীর্ষ প্রাণী গল্পে স্থান পেয়েছে।
প্রথমে পরিচয় করিয়ে দিই উলোবোরাস প্লুমিপেস নামে পরিচিত একটি মাকড়সার সঙ্গে, যা সাধারণত বিষের মাধ্যমে শিকারের প্রাণীকে নিধন করে। তবে এই প্রজাতি শিকারের চারপাশে মজবুত সিল্কের জাল গুটিয়ে, তারপর নিজের হজমনালীর তরলকে উল্টে শিকারের উপর ছিটিয়ে দেয়।
মাকড়সাটি শিকারের ওপর সিল্কের ঘন জাল গুটিয়ে নিরাপদে ধরে রাখার পর, তার অন্ত্রের থেকে নির্গত বিষাক্ত তরল শিকারের দেহে ছড়িয়ে দেয়। এই তরলটি শিকারের জন্য তীব্র ক্ষতিকারক, যা সাধারণ গৃহমাকড়সার বিষের সমান প্রভাব ফেলে। ফলে শিকারের দ্রুত মৃত্যু নিশ্চিত হয়, যদিও মাকড়সা কোনো কামড় ব্যবহার করে না।
এই শিকার পদ্ধতি মাকড়সা জগতের গবেষকদের নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করেছে, কারণ এটি প্রচলিত বিষাক্ত কামড়ের বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের আচরণ শিকারের ধরন ও পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার একটি উদাহরণ।
টেক্সাসের এক বনভূমিতে ‘গ্রু জে’ নামে পরিচিত একটি অদ্ভুত পাখি দেখা গিয়েছে। এই পাখির মাথা ও মুখের রঙ সবুজ জে’র মতো, তবে লেজের রঙ নীল জে’র মতো নীলচে। তার কণ্ঠস্বরও উভয় প্রজাতির মিশ্রণ, যেখানে গর্জন ও রাট্টলিং শব্দের মিশ্রণ শোনা যায়।
বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই পাখি হল সবুজ জে (Cyanocorax yncas) এবং নীল জে (Cyanocitta cristata) এর হাইব্রিড। দুই প্রজাতি প্রায় সাত মিলিয়ন বছর আগে আলাদা হয়ে গিয়েছিল, তবে সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবিক কার্যকলাপের ফলে তাদের বাসস্থান একে অপরের কাছাকাছি এসে গিয়েছে।
এই হাইব্রিড পাখি, যা এখন পর্যন্ত খুবই বিরল, প্রাকৃতিক জগতের অন্যান্য হাইব্রিডের সঙ্গে তুলনা করা যায়, যেমন পিজলি ভালুক বা কয়ওয়ালফ। গবেষকরা এটিকে প্রজাতির অভিযোজনশীলতা ও পরিবেশগত পরিবর্তনের সূচক হিসেবে দেখছেন।
আরেকটি মনোমুগ্ধকর পর্যবেক্ষণ হল আর্কটিকের নরহোয়ালদের আচরণ, যা সাম্প্রতিক ড্রোন রেকর্ডিংয়ে ধরা পড়েছে। ড্রোন ক্যামেরা নরহোয়ালদের একটি আর্কটিক চার মাছের পিছনে অনুসরণ করতে দেখেছে, যেখানে তারা তাদের শিং ব্যবহার করে মাছকে ধাক্কা দেয়, উল্টে দেয় এবং কখনও কখনও তা নিয়ে খেলাধুলা করে।
নরহোয়ালদের এই আচরণকে বিজ্ঞানীরা সম্ভবত অনুসন্ধানমূলক ও খেলাধুলাপূর্ণ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। শিংটি মূলত শিকার ধরতে ব্যবহৃত হয়, তবে এই ভিডিওতে দেখা যায় যে তারা শিং দিয়ে মাছকে গাইড করে, যা তাদের বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক আচরণের নতুন দিক প্রকাশ করে।
এই তিনটি ঘটনা ২০২৫ সালের প্রাণী জগতের বৈচিত্র্য ও অপ্রত্যাশিত আচরণকে তুলে ধরেছে। মাকড়সার অস্বাভাবিক শিকারের পদ্ধতি, হাইব্রিড পাখির উদ্ভব এবং নরহোয়ালদের খেলাধুলা সবাইকে প্রাকৃতিক জগতের জটিলতা ও সৌন্দর্য সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেয়।
প্রকৃতির এই অদ্ভুত ঘটনাগুলি পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে আমাদের পরিবেশের পরিবর্তন ও প্রজাতির অভিযোজনশীলতা সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা লাভ করা সম্ভব। আপনি কি আপনার দৈনন্দিন জীবনে এমন কোনো অপ্রত্যাশিত প্রাণী আচরণ লক্ষ্য করেছেন? আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং প্রাকৃতিক জগতের রহস্যময় দিকগুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যান।



