মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলায় শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় একটি অটো রিকশা উল্টে এক নারী প্রাণ হারান। দুর্ঘটনা টঙ্গীবাড়ি উপজেলার আমতলী সেগুনতলা পাঁকা রাস্তায় ঘটেছে। রিকশা ব্রিজ থেকে নামার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাওয়ায় ঘটনাটি ঘটেছে।
মৃত্যুর শিকার নারীকে স্থানীয়ভাবে বিউটি আক্তার (বেগম) নামে পরিচিত। তিনি লৌহজং উপজেলার কলমা গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. ফারুক মিয়ার স্ত্রী। পরিবার জানায়, বিউটি আক্তার বয়সের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে তিনি স্থানীয় সমাজে পরিচিত ছিলেন।
অটো রিকশার চালক মো. ফারুক মিয়া, লৌহজং উপজেলার কলমা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে টঙ্গীবাড়ি থেকে বালিগাঁও পর্যন্ত যাত্রা করছিলেন। গন্তব্যে পৌঁছানোর পথে রিকশা ব্রিজের ঢালু অংশে গতি কমাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনা ঘটার সময় রিকশা টঙ্গীবাড়ি থেকে বালিগাঁও যাওয়ার পথে ছিল। ফারুক মিয়া রিকশা চালিয়ে তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে গন্তব্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন। রিকশা ব্রিজের নিচে পাঁকা রাস্তায় পৌঁছানোর মুহূর্তে হঠাৎ করে ডানদিকে ঝুঁকে গিয়ে উল্টে যায়।
উল্টে যাওয়ার ফলে বিউটি আক্তার রিকশার বাইরে পড়ে যান এবং মুখ ও মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তার শিরা-নালীতে রক্তপাত এবং মস্তিষ্কে আঘাতের লক্ষণ দেখা যায়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে টঙ্গীবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর পর, উপস্থিত চিকিৎসক দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা চালিয়ে যান, তবে আঘাতের তীব্রতা অতিরিক্ত হওয়ায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। চিকিৎসক রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস স্থিতিশীল না হওয়ায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতদেহের শারীরিক পরীক্ষা পরবর্তী সময়ে করা হয়।
টঙ্গীবাড়ি থানার এসআই আব্দুর রহিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন। তিনি জানান, স্থানীয় সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে রিকশা ঢালের ওপর গতি কমাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেছে। ক্যামেরা রেকর্ডে রিকশার গতি হ্রাসের পর হঠাৎ বাঁক নেওয়া স্পষ্ট দেখা যায়।
পুলিশের মতে, রিকশার ব্রেক সিস্টেমে কোনো ত্রুটি বা অতিরিক্ত লোডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে রিকশা চালকের গতি এবং ঢালের ঢালু অংশে গাড়ি চালানোর পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে রিকশার টেকনিক্যাল পরীক্ষা এবং চালকের ড্রাইভিং রেকর্ড সংগ্রহ করা হবে।
অধিক তদন্তে রিকশার রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড, চালকের লাইসেন্সের বৈধতা এবং গন্তব্যের রুটের নিরাপত্তা মানদণ্ড যাচাই করা হবে। স্থানীয় ট্রাফিক আইন অনুযায়ী, ঢালু রাস্তায় গতি সীমা অতিক্রম করা এবং ব্রেকের যথাযথ ব্যবহার না করা অপরাধের ধরণে পড়ে। সংশ্লিষ্ট আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় শংসাপত্র সংগ্রহ করা হবে।
বিক্রেতা ও পরিবারকে মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রদান করা হয়েছে এবং শোকের সময়ে পরিবারকে সমর্থন জানানো হয়েছে। মৃতদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং শোকের আচার-অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় প্রশাসন পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই ধরনের দুর্ঘটনা স্থানীয় রাস্তায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নির্দেশ করে। টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পাঁকা রাস্তায় অতিরিক্ত গতি, অপর্যাপ্ত সিগন্যাল এবং রিকশা চালকদের প্রশিক্ষণের অভাব সমস্যার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ রিকশা চালকদের জন্য নিরাপদ চালনা প্রশিক্ষণ এবং রাস্তায় গতি সীমা কঠোরভাবে প্রয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
অধিক তদন্ত চলমান থাকায়, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য সকল প্রমাণ সংগ্রহ করছে। কোনো অপরাধমূলক দায়িত্ব প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে, রিকশা চালকদের নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়াতে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করা হবে।



