২৪ ডিসেম্বর, পশ্চিম তীরের একটি রাস্তায় নামাজরত ফিলিস্তিনি নাগরিকের ওপর ইসরায়েলি সৈন্যের গাড়ি চালিয়ে চাপা দেয়া হয়েছে; ঘটনাটির ভিডিও রেকর্ডিং রয়ে গেছে। রেকর্ডিংটি রোয়টার্সের মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক নজরদারি বাড়ে।
আহত ব্যক্তি জরুরি সেবার মাধ্যমে হাসপাতালে পৌঁছায়, তবে চিকিৎসকের মতে তিনি শারীরিকভাবে অক্ষত এবং কয়েক দিনের পরে বাড়িতে ফিরে যান। তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে এবং কোনো গুরুতর আঘাতের রিপোর্ট নেই।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি পূর্বে রিজার্ভ সৈন্য হিসেবে কাজ করতেন; তার সামরিক পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাকে ‘গৃহবন্দী’ অবস্থায় রাখার কথা জানায়।
ইসরায়েলি মিডিয়া সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গাড়ি চালিয়ে চাপা দেওয়ার পর সৈন্যকে তৎক্ষণাৎ গৃহবন্দী করা হয়েছে; তবে ইসরায়েলি পুলিশ রোয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধের কোনো উত্তর দেয়নি। এই অস্বচ্ছতা ঘটনাটির রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে তুলেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বেসামরিক হামলার সংখ্যা এই বছর কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে, এক হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছে।
এই প্রবণতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি বিশেষজ্ঞ রবার্ট হ্যানসন উল্লেখ করেন, “পশ্চিম তীরে বেসামরিক আক্রমণের ধারাবাহিকতা শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য বড় বাধা এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।”
ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার প্রতিনিধি মারিয়া গোমেজও একই মত প্রকাশ করে, “ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে বেসামরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ মিশনের অনুমোদন বাড়াতে হবে।”
ইসরায়েলি সরকার এ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়া বা দায় স্বীকার করেনি; তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে, “সামরিক কর্মীকে কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে” বলে যুক্তি দেয়।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করে, আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ দায়েরের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে। তারা দাবি করে, “ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এই ধরনের আচরণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।”।
অঞ্চলীয় বিশ্লেষক আহমেদ আলী বলেন, “পশ্চিম তীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতি হচ্ছে; এই ধরনের ঘটনা উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলবে এবং দীর্ঘমেয়াদী সমঝোতার পথে বাধা সৃষ্টি করবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “দুই পক্ষেরই আন্তর্জাতিক চাপের মুখে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করা জরুরি।”
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে চলমান আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো এই ঘটনাকে পুনরায় পর্যালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা ইসরায়েলকে মানবিক আইনের মানদণ্ড মেনে চলতে এবং বেসামরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বলছে।
পরবর্তী সপ্তাহে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পশ্চিম তীরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত হবে; সেখানে এই ঘটনা এবং সামগ্রিক বেসামরিক আক্রমণের প্রবণতা নিয়ে আলোচনা হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি শমনের দিকে অগ্রসর হওয়া।



