প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার সংবাদকেন্দ্রের ওপর হামলা, লুটপাট ও অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ আরেকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। ৩৩ বছর বয়সী আতাহার আলি, যাকে স্বপন নামেও চেনা যায়, পঞ্চগড় থেকে গৃহীত হয়েছেন। এই গ্রেফতারটি তেজগাঁও থানা অফিসার‑ইন‑চার্জের জানানো তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাতের দিকে সম্পন্ন হয়।
তেজগাঁও থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ কয়া শি নিউ মারমা জানান, গ্রেফতারটি পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য ও সহায়তার ভিত্তিতে করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্যের মাধ্যমে সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। গ্রেফতারের আগে তিনি ইতিমধ্যে আদালতে হাজির হয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি নির্ধারণের জন্য বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান।
আতাহার আলি ফেসবুকে হামলার সংবেদনশীল ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করে জনমতকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ। তিনি এই বিষয়বস্তুগুলো ব্যাপকভাবে শেয়ার করার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়ানোর উদ্দেশ্য রাখেন বলে পুলিশ উল্লেখ করেছে। এই ধরনের অনলাইন কার্যকলাপকে উস্কানিমূলক বলে বিবেচনা করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
হামলার পরপরই পুলিশ ৩২ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে, যা এখন পর্যন্ত মোট গ্রেফতার সংখ্যা। এই সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তদন্তের গতি ত্বরান্বিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
হামলাটি ২০২৪ সালের শেষের দিকে ঘটেছিল, যখন অগ্নিকাণ্ড, লুটপাট ও ধ্বংসের মাধ্যমে দুইটি প্রধান সংবাদমাধ্যমের অফিসে বিশাল ক্ষতি হয়। ঘটনাস্থলে আগুনের ধোঁয়া ও ধ্বংসাবশেষের ছবি তৎকালীন সংবাদে ছড়িয়ে পড়ে, যা জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
পুলিশের মতে, আক্রমণকারীরা পূর্ব পরিকল্পনা করে গৃহীত উপকরণ ব্যবহার করে অফিসে প্রবেশ করে ধ্বংস কাজ সম্পন্ন করে। তদুপরি, কিছু সন্দেহভাজন সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার ভিডিও শেয়ার করে অন্যদেরকে অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করেছে, যা তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অধিক তদন্তে পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করে গ্রেফতার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তেজগাঁও থানা ও অন্যান্য থানা সমন্বিতভাবে কাজ করে অপরাধীর নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলতে চায়। বর্তমানে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে এবং আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করা হচ্ছে।
অপরদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করে রাজধানীর শাহবাগে রাতভর একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। সংগঠনটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই কর্মসূচির মাধ্যমে হাদির হত্যার দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই দাবি ও কর্মসূচি দেশের নিরাপত্তা ও আইনি ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সামগ্রিকভাবে, তদন্তের অগ্রগতি ও গ্রেফতার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অপরাধের শিকড় খুঁজে বের করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার দিকে মনোনিবেশ করেছে। ভবিষ্যতে আদালতে মামলার পর্যালোচনা ও শাস্তি নির্ধারণের মাধ্যমে এই ধরনের হিংসাত্মক আক্রমণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



