প্লুরিবাস সিরিজের প্রথম সিজনের শেষ পর্বের পর, শো‑এর প্রধান চরিত্র মানুসোস ওভিয়েডো‑এর ভূমিকায় অভিনয়কারী কার্লোস‑ম্যানুয়েল ভেসগা প্রকাশ্যে ক্যারল স্টার্কাকে বিশ্বাসঘাতক বলে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি বলছেন, পারাগুয়েতে বসবাসের সময় একটি ভিডিও টেপের মাধ্যমে বিশ্বকে হাইভ মাইন্ডের হাত থেকে রক্ষা করার আহ্বান পেয়ে তিনি নিউ মেক্সিকোর আলবুকার্কে গিয়ে স্টার্কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সিদ্ধান্ত নেন।
প্লুরিবাসের কাহিনী একটি বৈশ্বিক হাইভ মাইন্ডের উত্থানকে কেন্দ্র করে, যেখানে মানবজাতি একত্রে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শাসন গঠন করতে চায়। শো‑এর প্রথম সিজনে মানুসোসের মতো ‘ইমিউন’ চরিত্রগুলোকে এই সংযুক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করতে দেখা যায়।
ভেসগা জানান, তিনি পারাগুয়েতে থাকা সময়ে স্টার্কা যে ভিডিও টেপ পাঠিয়েছিলেন, তাতে পৃথিবীকে রক্ষা করার জরুরি আহ্বান ছিল। সেই টেপের প্রভাবেই তিনি নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে আলবুকার্কে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, যাতে স্টার্কার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারেন।
আলবুকার্কে পৌঁছানোর পর মানুসোসের মুখোমুখি হয়েন এমন এক ক্যারল স্টার্কা, যিনি পূর্বে টেপে প্রকাশিত তীব্রতা ও জরুরিতার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে উপস্থিত হন। তার এখনো কোনো তৎপরতা দেখা যায় না, এবং মানুসোসের ‘হিংসাত্মক’ পদ্ধতিকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
দুই চরিত্রের মধ্যে হিংসা ব্যবহার নিয়ে মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মানুসোসের মতে, হাইভ মাইন্ডের বিরুদ্ধে লড়াইতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যেখানে স্টার্কা শান্তিপূর্ণ সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন। এই দ্বন্দ্বই শেষ পর্বের মূল সংঘর্ষের ভিত্তি গঠন করে।
পর্বে প্রকাশ পায় যে ক্যারল স্টার্কা তার সহায়ক জোসিয়ার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন, যাকে তিনি ‘জয়েনড’‑এর চ্যাপারোন হিসেবে চেনেন। জোসিয়া চরিত্রটি শো‑এর অন্য অভিনেত্রী করোলিনা উইড্রা অভিনয় করেছেন। এই রোমান্টিক বাঁধন স্টার্কার আচরণে বড় পরিবর্তন আনে।
মানুসোসের এক আরেকটি প্রচেষ্টা ছিল রিক নামের এক ব্যক্তিকে ‘আন‑জয়েন’ করার চেষ্টা করা। যদিও তা তৎক্ষণিকভাবে সফল হয়নি, তবে এই পরীক্ষা তাকে বুঝতে সাহায্য করে যে স্টার্কার শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিও কার্যকর হতে পারে।
এরপর মানুসোস স্টার্কার সঙ্গে সহযোগিতা করে বিশ্বকে রক্ষা করার প্রস্তাব দেন, তার শর্তে শান্তিপূর্ণ পদ্ধতি অনুসরণ করে। তবু স্টার্কা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, এবং জোসিয়ার সঙ্গে ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন।
ভেসগা এই ঘটনাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে বর্ণনা করেন, কারণ স্টার্কা পূর্বে যে ভিডিও টেপে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, তা এখন তার নিজের স্বার্থে বদলে গেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্টার্কা প্রথম দুই পর্বে ‘ওল্ড‑স্কুলার’‑দের সমালোচনা করলেও, এখন তিনি নিজেই তাদের মতোই আচরণ করছেন।
এই বিবরণ অনুযায়ী, সিজন‑ওয়ান ফাইনালটি শো‑এর ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্টার্কার পরিবর্তিত মনোভাব এবং মানুসোসের নতুন কৌশল পরবর্তী সিজনে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা দর্শকদের জন্য বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে।
শো‑এর নির্মাতা ভিন্স গিলিগান ইতিমধ্যে সিজন‑দুইয়ের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা নিয়ে কিছু ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবে শেষ পর্যন্ত কী ঘটবে তা এখনও অজানা। দর্শকরা এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পর্বের জন্য উচ্চ প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছেন।



