বাংলাদেশ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৫ সম্মেলন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি) ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে এবং ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। তিন দিনের এই আন্তর্জাতিক শিক্ষামূলক ইভেন্টের মূল থিম ‘ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর’। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব দেশের তরুণদের জন্য মডেল ইউএনকে বাস্তব কূটনীতির জটিলতা বোঝার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর কেবল ফসিল জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য শক্তিতে পরিবর্তনের বিষয় নয়, এটি মানুষের জীবন, সমতা এবং যৌথ দায়িত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও ইউনিস্যাবের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ মো. শাইখ ইমতিয়াজ স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি মডেল ইউএনকে মতবৈচিত্র্য বোঝার অনুশীলন হিসেবে বর্ণনা করে, অংশগ্রহণকারী তরুণদের আগামী ২৫ বছরে বাংলাদেশের কেমন চিত্র দেখতে চান, সে বিষয়ে চিন্তা করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় কূটনীতি কেবল প্রযুক্তিগত বা নীতিগত সমাধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না, তা উল্লেখ করেন। ন্যায়বিচার, মানবিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক স্বচ্ছতার প্রশ্নগুলোও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক বৈষম্য এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশের অভিজ্ঞতা আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে, এ কথা বক্তারা জোর দেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে দ্য টাইমস অব বাংলাদেশের প্রকাশক মো. মাসুদ রাজ্জাক, সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ও ইউনিস্যাবের সাবেক সভাপতি ড. তৌফিক জোয়ার্দার, এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মুনতাসির মামুন উপস্থিত ছিলেন। তারা তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, জাতিসংঘের বাস্তব ভূমিকা এবং ন্যায়ভিত্তিক বৈশ্বিক নীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তাঁরা উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কার্যকরী অংশগ্রহণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন ও ন্যায়সঙ্গত নীতি গড়ে তোলা সম্ভব। এই দৃষ্টিকোণ থেকে যুব সমাজের ভূমিকা অপরিহার্য।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান বলেন, দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাস্তব চিন্তার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা দরকার। এ জন্য বিএএনএমইউএন (BUNMUN) এর মতো উদ্যোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি উল্লেখ করেন যে, এমন প্ল্যাটফর্মগুলো শিক্ষার্থীদের তত্ত্বকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে সহায়তা করে, ফলে তারা আন্তর্জাতিক আলোচনায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশ নিতে পারে।
সম্মেলনের কর্মসূচিতে ইউএন সংস্থার সিমুলেশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি নিয়ে কর্মশালা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার বিষয়ক প্যানেল আলোচনা অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা রেজোলিউশন খসড়া, আলোচনায় অংশগ্রহণ এবং সমঝোতা গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন।
এই ধরনের সিমুলেশন শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণাত্মক দক্ষতা, জনসমক্ষে কথা বলার ক্ষমতা এবং দলগত কাজের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে তারা বাস্তব কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সূক্ষ্মতা সম্পর্কে ধারণা পায়।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য এই সম্মেলন আন্তর্জাতিক নীতি, টেকসই জ্বালানি এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার বাস্তবিক দিকগুলো অন্বেষণের একটি অনন্য সুযোগ প্রদান করে।
আপনি যদি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বা টেকসই জ্বালানিতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী হন, তবে মডেল ইউএন মত সম্মেলনে অংশ নেওয়া কীভাবে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি ও দক্ষতা পরিবর্তন করতে পারে, তা একবার ভাবুন।



