লক্ষ্মীপুরে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশ জানায়, আগুনের জন্য ১০,০০০ টাকার বদলে মো. রুবেল নামের এক ব্যক্তি নিযুক্ত করা হয়। ঘটনাটি ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ রাতের দিকে ঘটেছে এবং নির্বাচনী নথিপত্রের ক্ষতি ঘটিয়েছে।
ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে, লক্ষ্মীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ৪১ বছর বয়সী মো. রুবেলকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারটি ১০ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মজুপুর এলাকায় তার বাসা থেকে করা হয়। পুলিশ সুপারমিনিস্টার মো. আবু তারেকের মতে, রুবেলকে শ্যামল চক্রবর্তী নামের এক ব্যক্তি ২,০০০ টাকা পাঠিয়ে কাজের নির্দেশ দেন।
শিকারের বিবরণে রুবেলকে জানানোর পরে, তিনি শহরের ঝুমুর রহমানিয়া হোটেল থেকে এক লিটার পানির বোতল কিনে তা ফেলে দেন। এরপর স্টেডিয়ামের সামনে বেলালের দোকান থেকে একই পরিমাণ পেট্রল সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে যান। মাস্ক পরা এক যুবক ওই পেট্রল‑ভরা বোতলটি দরজার গর্তে ঢুকিয়ে আগুন জ্বালান।
আগুনের ফলে নির্বাচনী কার্যালয়ের নিচতলার একটি কক্ষে সংরক্ষিত নথি ও সামগ্রী পুড়ে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকা কর্মীদের মতে, অগ্নিকাণ্ডের সময় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, তবে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট হয়েছে।
দুপুরে, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসাইন ঘটনাস্থলে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং তদন্তের অধীনে রয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শ্যামল চক্রবর্তী রুবেলকে প্রথম ২,০০০ টাকা পাঠানোর পর, পরের দিন বাকি ৮,০০০ টাকা আরেকটি বিকাশ নম্বরে পাঠান। রুবেলের স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, নির্বাচনী ভবনের উত্তর পাশে অবস্থিত জমি থেকে ব্যবহৃত পানির বোতলটি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, দুইটি বিকাশ নম্বরও শনাক্ত করা হয়েছে।
শিকারের মূল সূত্র হিসেবে শ্যামল চক্রবর্তীকে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি পূর্বে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এবং প্রয়াত বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) ছিলেন। তার ভূমিকা ও আর্থিক লেনদেনের বিশদ এখন তদন্তের অংশ।
পুলিশের মতে, রুবেলকে গ্রেফতার করার পর তার জিজ্ঞাসাবাদে পুরো পরিকল্পনা প্রকাশ পেয়েছে। বর্তমানে রুবেলকে অপরাধমূলক দায়ে হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং শ্যামল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। আদালতে পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণের জন্য প্রস্তুতি চলছে।
এই ঘটনার পর, নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছে। নির্বাচনী নথিপত্রের ক্ষতি পুনরুদ্ধারের জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধ রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে।



