22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্য২০২৫ সালে হান্টিংটন রোগ ও জিন থেরাপি সহ তিনটি চিকিৎসা অগ্রগতি রোগীর...

২০২৫ সালে হান্টিংটন রোগ ও জিন থেরাপি সহ তিনটি চিকিৎসা অগ্রগতি রোগীর জীবনে আশার সঞ্চার

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালে বিজ্ঞান তহবিলের কাটছাঁটের পরেও গবেষকরা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা অগ্রগতি অর্জন করেছেন, যা রোগীর জীবনমান উন্নত করার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। এই অগ্রগতিগুলো হান্টিংটন রোগের জন্য নতুন ওষুধ, একটি শিশুর জন্য ব্যক্তিগতকৃত জিন থেরাপি এবং শিংলস টিকার সঙ্গে ডিমেনশিয়া ঝুঁকি হ্রাসের সম্পর্ক নিয়ে গঠিত।

হান্টিংটন রোগ একটি ক্রমবর্ধমান স্নায়বিক ব্যাধি, যা রোগীর চলাচল ও স্বেচ্ছা নিয়ন্ত্রণকে ধ্বংস করে। বর্তমানে কোনো স্থায়ী চিকিৎসা না থাকলেও, নিউরোসায়েন্স জার্নাল “Nature Medicine”-এ প্রকাশিত একটি ক্লিনিকাল ট্রায়াল দেখিয়েছে যে, একটি ভাইরাসভিত্তিক ভেক্টর ব্যবহার করে রোগজনিত প্রোটিনের উৎপাদন বন্ধ করা যায়। রোগীর মস্তিষ্কে সরাসরি ইনজেকশন করা হলে, রোগের অগ্রগতি সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ধীর হয়ে যায়।

এই ফলাফলটি হান্টিংটন রোগে আক্রান্ত রোগী ও তাদের পরিবারকে নতুন আশার সঞ্চার করেছে, যদিও দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, ভাইরাসের মাধ্যমে RNA সরবরাহের পদ্ধতি ভবিষ্যতে অন্যান্য স্নায়বিক রোগেও প্রয়োগ করা যেতে পারে।

একই বছর, নিউরাল জিন থেরাপি ক্ষেত্রে একটি অগ্রগতি ঘটেছে, যেখানে নবজাতক KJ Muldoon-কে ব্যক্তিগতকৃত CRISPR‑ভিত্তিক থেরাপি দিয়ে রক্ষা করা হয়েছে। KJ-র জিনে একটি ত্রুটি ছিল, যার ফলে শরীরে অ্যামোনিয়া জমা হয়ে জীবনহানিকর অবস্থায় পৌঁছায়। গবেষকরা রোগীর নির্দিষ্ট জিন মিউটেশনকে লক্ষ্য করে, CRISPR‑Cas9 সিস্টেমের মাধ্যমে ত্রুটিপূর্ণ অংশটি মুছে সঠিক জিন সিকোয়েন্স যুক্ত করেছেন।

এই থেরাপি প্রথমবারের মতো রোগীর নিজস্ব জিনগত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে রক্তে অ্যামোনিয়া স্তর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। গবেষণা দল এই পদ্ধতিকে “প্রেসিশন জিন থেরাপি” নামে উল্লেখ করেছে এবং ভবিষ্যতে বিরল জেনেটিক রোগে একই পদ্ধতি ব্যবহার করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।

শিংলস টিকার সঙ্গে ডিমেনশিয়া ঝুঁকি হ্রাসের সম্ভাবনা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। ওয়েলসের একটি জনসংখ্যা গবেষণায় দেখা গেছে, শিংলস টিকাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ডিমেনশিয়া বিকাশের সম্ভাবনা প্রায় ২০ শতাংশ কম। একই ফলাফল অস্ট্রেলিয়ার একটি স্বতন্ত্র গবেষণায়ও পুনরায় নিশ্চিত হয়েছে। টিকাটি মূলত ভ্যারিসেলা জোস্টার ভাইরাসের পুনরায় সক্রিয়তা রোধ করে, যা শিংলসের কারণ এবং সম্ভবত স্নায়ুক্ষতি ঘটায়।

এই তথ্যগুলো ইঙ্গিত করে যে, শিংলস টিকা শুধুমাত্র ত্বকের রোগই নয়, বরং বয়সজনিত স্নায়বিক অবনতি প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে, ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে টিকার সুনির্দিষ্ট প্রভাব নিশ্চিত করতে বৃহত্তর স্কেলের ক্লিনিকাল ট্রায়াল প্রয়োজন।

সারসংক্ষেপে, ২০২৫ সালে বিজ্ঞানী সম্প্রদায়ের এই তিনটি অগ্রগতি দেখায় যে, সীমিত তহবিলের মাঝেও গবেষণা চালিয়ে যাওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। হান্টিংটন রোগের অগ্রগতির হার কমানো, ব্যক্তিগতকৃত জিন থেরাপি দিয়ে জীবন রক্ষা এবং শিংলস টিকা দিয়ে ডিমেনশিয়া ঝুঁকি হ্রাস—all এই ফলাফল রোগীর ভবিষ্যৎকে আরও নিরাপদ করে তুলতে পারে। তাই, বায়োমেডিক্যাল গবেষণায় ধারাবাহিক বিনিয়োগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা উচিত, যাতে আরও বেশি রোগী এই ধরনের উদ্ভাবনের সুবিধা পেতে পারে।

আপনার পরিবারে কোনো জেনেটিক রোগ বা স্নায়বিক সমস্যার ঝুঁকি থাকলে, আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে এই নতুন থেরাপি ও টিকার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা উপকারী হতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Science News
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments