তাজিকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে এই সপ্তাহে তীব্র গুলিবর্ষণ ঘটেছে, যার ফলে পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে তিনজনকে তাজিকিস্তান কর্তৃপক্ষ ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ঘটনাটি শামসিদ্দিন শোখন জেলার দূরবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে সংঘটিত হয়। তাজিকিস্তানের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কমিটি জানিয়েছে যে তিনজন সশস্ত্র ব্যক্তি মঙ্গলবার দেশের সীমান্তে অনুপ্রবেশ করে, পরের দিন তাজিক গার্ডের সঙ্গে গুলিবর্ষণ করে নিহত হয়।
তাজিকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে প্রায় ১,৩৪০ কিলোমিটার (৮৩০ মাইল) দীর্ঘ, অধিকাংশই অনিরক্ষিত সীমান্ত রয়েছে, যা পাঞ্জ নদীর তীর বরাবর পাহাড়ি ভূখণ্ডে বিস্তৃত। আফগানিস্তানে তালিবানের শাসনকে তাজিকিস্তান দীর্ঘদিন থেকে বিরোধপূর্ণ দৃষ্টিতে দেখেছে এবং সীমান্তে সশস্ত্র অনুপ্রবেশের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে।
এই মাসে তাজিকিস্তানের সীমান্তে একাধিক সশস্ত্র আক্রমণ ঘটেছে, যার ফলে মোট বারো থেকে বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তাজিকিস্তান ও বেইজিং উভয় সরকারই এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী’ হামলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং উল্লেখ করেছে যে শিকারদের মধ্যে চীনা নাগরিকও অন্তর্ভুক্ত, যারা দূরবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে কাজ করছিলেন।
সর্বশেষ গুলিবর্ষণের পর নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে তিনটি এম-১৬ রাইফেল, একটি কালাশনিকভ আক্রমণাত্মক রাইফেল, তিনটি বিদেশি উৎপাদিত সাইলেন্সারযুক্ত পিস্তল, দশটি হ্যান্ড গ্রেনেড, একটি নাইট ভিশন স্কোপ এবং বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করেছে। এই অস্ত্রশস্ত্রের উপস্থিতি সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রমের মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে।
দুশানবে সরকার জানিয়েছে যে এই আক্রমণটি আফগানিস্তান থেকে উত্পন্ন তৃতীয় ঘটনা, যা পূর্বে একই অঞ্চলে ঘটেছে। তাজিকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থা উল্লেখ করেছে যে পূর্বে দুইটি অনুরূপ আক্রমণ ঘটেছে, যেখানে সশস্ত্র দলগুলো সীমান্ত অতিক্রম করে তাজিকিস্তানের গ্রাম ও গিরিপ্রান্তে হামলা চালিয়েছে।
চীনের সঙ্গে তাজিকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে, চীনা নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দু’দেশের জন্য অগ্রাধিকার। বেইজিং তাজিকিস্তানের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে এবং সীমান্তে চীনা শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এই ধরনের ঘটনা চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে তাজিকিস্তানে চলমান অবকাঠামো কাজকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
একজন আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, “সীমান্তে ঘন ঘন সংঘর্ষ তালিবানের শাসনকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারাতে বাধ্য করতে পারে, বিশেষ করে যখন তারা সীমান্তে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়।” বিশ্লেষক আরও যোগ করেন, “এটি তাজিকিস্তানকে তার সীমান্ত রক্ষা করার জন্য অতিরিক্ত সামরিক ও গোয়েন্দা সম্পদ বরাদ্দ করতে বাধ্য করবে, যা অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলবে।”
তাজিকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ যদিও চলমান, তবে সাম্প্রতিক আক্রমণগুলো উভয় দেশের মধ্যে বিশ্বাসের ফাটল বাড়িয়ে তুলেছে। তাজিকিস্তান সরকার সীমান্তে নিরাপত্তা শক্তিশালী করার জন্য অতিরিক্ত গার্ড মোতায়েন এবং নজরদারি ব্যবস্থা বাড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে, তালিবানের সঙ্গে সীমান্তে সমঝোতা চুক্তি পুনর্বিবেচনা করার সম্ভাবনা উত্থাপিত হয়েছে।
অবশিষ্ট সময়ে তাজিকিস্তান ও চীন উভয়ই সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই সংঘর্ষকে মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে আরও কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।



