ময়মনসিংহের গৌরীপুরের টেঙ্গাপাড়া গ্রামে শ্রী শাহজাহান উদ্দিন (র.) আউলিয়ার মাজারে বৃহস্পতিবার রাতের দিকে অজানা ব্যক্তিদের দ্বারা ধ্বংস কাজ করা হয় এবং মাজারের ভিতরে মল‑মূত্র নিক্ষেপ করা হয়। গৌরীপুর থানার ওসি মো. কামরুল হাসান ঘটনাটি জানিয়ে বলেন, স্থানীয়দের জানার পরই তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার ভোরে মাজারে বেশ কয়েকজন ভক্ত পৌঁছায় এবং দেখেন যে মাজারের মূল অংশের বাউন্ডারি ভেঙে পড়ে আছে। তদুপরি, মাজারের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থানে মল‑মূত্র ও গোবর ছড়িয়ে থাকা দেখা যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে শোকের স্রোত তৈরি করে।
গৌরীপুরের ইউপি সদস্য মো. জুয়েল মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মাজারের বাউন্ডারি ভাঙচুরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাতের অন্ধকারে কে এই কাজটি করেছে তা এখনও স্পষ্ট নয় এবং কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক আহমেদ মাজারের বয়স সম্পর্কে বলেন, “এই মাজার কত পুরনো তা ঠিক বলা কঠিন, তবে এখানে প্রতিদিনই ভক্তরা আসেন এবং বিভিন্ন কাজ করেন। মাজারের ধ্বংস কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি মাজারের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
মাজারের খাদেম মো. সাইদুর রহমান, বয়স সাতাতি, জানান যে তিনি প্রায় চল্লিশ বছর ধরে এই মাজারের রক্ষণাবেক্ষণে যুক্ত আছেন। তিনি মাজারের প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে বলেন, “বাপ‑দাদাদের কাছ থেকে শোনা যায় যে মুঘল সম্রাটের সময় এই মাজার এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর হাজার হাজার ভক্ত এখানে আসেন।” তিনি অতীতের শান্তিপূর্ণ পরিবেশের সঙ্গে বর্তমান ঘটনার তীব্র বৈপরীত্য তুলে ধরেন।
ভাঙচুরের পর মাজারের আশেপাশে ভিড় জমে, শত শত ভক্ত দুঃখ প্রকাশ করে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানায়। তারা মাজারের পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানায়।
ওসি মো. কামরুল হাসান মাজারের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের বর্ণনা দেন, “মাজারের একাংশ ভেঙে গেছে এবং পলিথিনে মল‑মূত্র ভরে নিক্ষেপ করা হয়েছে। গত আট থেকে দশ বছর পর্যন্ত এখানে কোনো ওরস হয়নি, তাই এই ধ্বংসের প্রভাব বিশেষভাবে গুরুতর।” তিনি জানান, ঘটনাস্থলে কোনো সরাসরি সাক্ষী পাওয়া যায়নি।
পুলিশের মতে, এখন পর্যন্ত কোনো নাগরিক অভিযোগ দাখিল করেনি এবং সন্দেহভাজন চিহ্নিত করার জন্য কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি। তবে, গৌরীপুর থানা দ্রুত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে মাজারের ধ্বংস ও মল‑মূত্র নিক্ষেপ উভয়ই অপরাধের অন্তর্গত এবং সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারিত হতে পারে। যদি সন্দেহভাজন ধরা পড়ে, তবে তারা ধ্বংসের ক্ষতি পুনরুদ্ধার, শাস্তি ও জরিমানা সহ দায়বদ্ধ করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও ধর্মীয় সংস্থাগুলি মাজারের নিরাপত্তা বাড়াতে সমন্বিত পদক্ষেপের কথা প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে মাজারের চারপাশে পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ দলকে শক্তিশালী করা এবং ভক্তদের সচেতনতা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মাজারের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে, সম্প্রদায়ের শোকের সঙ্গে সঙ্গে তদন্তের ত্বরান্বিত প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট। গৌরীপুরের বাসিন্দা ও ভক্তরা আশা করেন যে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিরা সনাক্ত হয়ে ন্যায়বিচার পাবেন এবং মাজারের পুনর্নির্মাণ কাজ শীঘ্রই শুরু হবে।



