দিল্লির জন্য ভিকি হজারে ট্রফি-তে ফিরে আসা ভারত কোহলির প্রথম ম্যাচে তিনি ১৬,০০০ লিস্ট‑এ রান অর্জনের গতি রেকর্ড ভেঙে দিলেন। ১৫ বছর পর আবার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া কোহলি, আন্দ্রা দলের বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরুতে ৩৩০তম লিস্ট‑এ ইনিংসে ১০১ বলের ১৩১ রান করে দিলেন, যার ফলে দিল্লি চার উইকেটের পার্থক্যে জয়লাভ করে।
কোহলি এই রেকর্ডে তেন্ডুলকার পূর্বের চিহ্ন অতিক্রম করেন; তেন্ডুলকারকে ৩৯১ ইনিংসের পর ১৬,০০০ রান পৌঁছাতে হয়েছিল। তেন্ডুলকারের লিস্ট‑এ ক্যারিয়ার শেষ হয় ৫৩৮ ইনিংস, ৫৫১ ম্যাচে মোট ২১,৯৯৯ রানে, যার মধ্যে ৪৫২টি ওডিআইতে ১৮,৪২৬ রান। কোহলির ওডিআই রেকর্ডে এখন পর্যন্ত ২৯৬ ম্যাচে ১৪,৫৫৭ রান।
১৬,০০০ রান অর্জনের দ্রুততম পাঁচজন ব্যাটসম্যানের তালিকায় দুইজন ভারতীয়ই শীর্ষে—কোহলি এবং তেন্ডুলকার। তাদের সঙ্গে গর্ডন গ্রীনিডজ (৪২২ ইনিংস), রিকি পন্টিং (৪৩০ ইনিংস) এবং গ্রাহাম গুচ ও ভিভ রিচার্ডস (প্রতিটি ৪৩৫ ইনিংস) অন্তর্ভুক্ত।
মুম্বাইয়ের জন্য রোহিত শর্মা, ৭ বছর পর ভিকি হজারে ট্রফিতে ফিরে এসে আবার শোয়ায় দারুণ পারফরম্যান্স দেখালেন। ৩৮ বছর ২৩৮ দিন বয়সে তিনি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্ববয়স্ক শতকোটি স্কোরার হয়ে ৬২ বলেই শতকোটি সম্পন্ন করেন। শেষ পর্যন্ত ৯৪ বলের মধ্যে ১৮টি চৌকো এবং ৯টি ছয়কো দিয়ে ১৫৫ রান তৈরি করে মুম্বাইকে আট উইকেটের পার্থক্যে জয় এনে দিলেন।
রোহিতের শতকোটি অর্জনের আগে, ২০২৩‑২৪ মৌসুমে বেঙ্গালোরের অনুস্টুপ মজুমদার ৩৯ বছর বয়সের পরেও দুইটি শতকোটি স্কোর করে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন। রোহিতের এই ইনিংস মুম্বাইকে শক্তিশালী শিকারের মতো চালিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, যেখানে দলটি দ্রুতগতিতে লক্ষ্য অর্জন করে এবং প্রতিপক্ষের বলকে সীমাবদ্ধ রাখতে সক্ষম হয়।
দিল্লি ও মুম্বাই উভয় দলই এই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়েছে, যা তাদের পরবর্তী রাউন্ডে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। ভিকি হজারে ট্রফি-র পরবর্তী ম্যাচে দিল্লি এবং মুম্বাইয়ের শিডিউল এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে উভয় দলের কোচ ও বিশ্লেষকরা এই পারফরম্যান্সকে টুর্নামেন্টের শীর্ষে পৌঁছানোর মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
কোহলির ১৬,০০০ রান রেকর্ড ভাঙা এবং রোহিতের ১৫৫ রান উভয়ই ভারতীয় ক্রিকেটের অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতায় অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পুনরায় উজ্জ্বলতা দেখিয়েছে। এই অর্জনগুলো শুধুমাত্র ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ ওডিআই ও বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
কোহলির তালিকাভুক্তি রেকর্ডের পাশাপাশি, তার ১৩১ রানও দলকে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করেছে। তার আক্রমণাত্মক শটের নির্বাচন এবং দ্রুত রানের গতি দিল্লিকে চূড়ান্ত পর্যায়ে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। রোহিতের ১৫৫ রানও একইভাবে মুম্বাইকে দ্রুত স্কোরে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে, যেখানে তিনি শতকোটি পৌঁছানোর পরই আক্রমণাত্মক রনের ধার বজায় রেখেছেন।
ভিকি হজারে ট্রফি-র এই দুই বড় পারফরম্যান্সের পর, পরবর্তী রাউন্ডে কোন দলগুলোকে চ্যালেঞ্জ করতে হবে এবং কীভাবে তারা এই গতি বজায় রাখবে, তা এখনই বিশ্লেষকদের দৃষ্টির কেন্দ্রে।



