ইয়েমেনের দক্ষিণে প্রধান বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী, সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (STC), শুক্রবার রায়দকে অভিযোগ করে যে সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান হদ্রামুত প্রদেশের ওয়াদি নাহব অঞ্চলে তাদের অবস্থানে দুবার বোমা ফেলেছে। প্রথম আক্রমণ সকাল ৮টায়, দ্বিতীয়টি ৯:১৫টায় ঘটেছে বলে গোষ্ঠী জানায়, এবং এডেন ইনডিপেনডেন্ট চ্যানেল ভিডিওতে ধ্বংসাবশেষের দৃশ্য দেখিয়েছে।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। STC কোনো প্রাণহানি জানায়নি, তবে আল জাজিরা দ্বারা যাচাই করা অনলাইন ফুটেজে মরুভূমির মধ্যে ধোঁয়ার কলম দেখা যায়, যা আঘাতের অস্তিত্ব নিশ্চিত করে।
এই আকাশী হামলা রায়দের একদিন আগে হদ্রামুত ও আল-মাহরা প্রদেশ থেকে STC-কে প্রত্যাহার করার আহ্বানের পর ঘটেছে। রায়দের দাবি ছিল গোষ্ঠীকে এই দুই পূর্বপ্রদেশ থেকে সরে যেতে বলা, যা STC প্রত্যাখ্যান করে এবং অঞ্চলগুলো রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। একই সপ্তাহে, একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে সান্নিধ্যপূর্ণ উপজাতীয় নেতার সঙ্গে সংঘর্ষে দুইজন STC যোদ্ধা নিহত হয়, যা সাম্প্রতিক উত্তেজনার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
আক্রমণের পরপরই STC একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে সৌদি আরবের আকাশী আক্রমণকে “অপ্রত্যাশিত বোমাবর্ষণ” বলে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গোষ্ঠী যুক্তি দেয় যে তাদের সামরিক পদক্ষেপ দক্ষিণের জনগণের নিরাপত্তা চাহিদা থেকে উদ্ভূত, বিশেষ করে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও অবৈধ সরবরাহ-সামগ্রীর লাইনকে বাধা দেওয়ার জন্য। তারা নিরাপত্তা ও দক্ষিণের ঐক্য নিশ্চিত করে এমন সমন্বয়ের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও, রায়দের দাবিকে অস্বীকার করে।
বিশ্লেষকরা এই ঘটনার প্রভাবকে বৃহত্তর আঞ্চলিক গতিবিদ্যার সঙ্গে তুলনা করছেন। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ড. হাবিব আল-সাইদ বলেন, “হদ্রামুতের ওপর এই আকাশী আক্রমণ কেবল দু’পক্ষের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা নয়, বরং ইয়েমেনের উত্তরে সৌদি আরবের কৌশলগত স্বার্থের পুনর্ব্যক্তি।” তিনি আরও যোগ করেন, “যদি এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তেল ও গ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে প্রবেশের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।”
STC সম্প্রতি রায়দের সমর্থিত, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে দক্ষিণের বড় অংশ থেকে সরিয়ে ফেলেছে এবং ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত স্বাধীন দক্ষিণ ইয়েমেনের পতাকা পুনরায় উড়িয়ে দিয়েছে। এই দ্রুত অগ্রগতি গোষ্ঠীকে পূর্বের বিশাল তেলভিত্তিক অঞ্চলে প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে, যা তেল ও গ্যাসের রপ্তানির জন্য কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।
আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকরা পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রায়দের সঙ্গে STC-র সরাসরি সংলাপের সম্ভাবনা উল্লেখ করছেন। জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি রাবিয়া হোসেনের মতে, “দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি না হলে হদ্রামুতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে, যা মানবিক সংকটকে তীব্র করবে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাব ফেলবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত উভয় পক্ষকে সংলাপের পথে উৎসাহিত করা এবং তেল ও গ্যাসের অবকাঠামো রক্ষা করা।
এই ঘটনার পর, আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো হদ্রামুতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। রায়দের সরকার এখনও কোনো সরাসরি মন্তব্য করেনি, তবে রায়দের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পূর্বে উল্লেখ করেছিলেন যে, “সৌদি আরবের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম দমন করা আমাদের অগ্রাধিকার।” এই বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, রায়দের সামরিক নীতি সম্ভবত ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপের দিকে ঝুঁকবে।
হদ্রামুতের ওয়াদি নাহব এলাকায় ধোঁয়ার কলম এবং ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে, এই আকাশী হামলা ইতিমধ্যে দক্ষিণ ইয়েমেনের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন লাইন অঙ্কন করেছে। গোষ্ঠী ও রায়দের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা এবং তেল-গ্যাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা এই সংঘাতের পরিণতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
যদি সংলাপের পথ না খুলে, তবে হদ্রামুতের তেলক্ষেত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণের জন্য উভয় পক্ষের মধ্যে আরও সামরিক সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে, যা শুধুমাত্র ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নয়, বরং গ্লোবাল তেল বাজারের অস্থিরতাকেও প্রভাবিত করতে পারে। তাই, পরবর্তী সপ্তাহে রায়দ ও STC-র মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ মিশনের ভূমিকা এবং তেল-গ্যাস অবকাঠামোর সুরক্ষার জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলোই এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণ করবে।



