চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালি ইকো পার্কে আজ সকালবেলা একটি হাতি আক্রমণে একজন কৃষক প্রাণ হারিয়ে ফেলেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে যখন শিকারী তার নিজস্ব জমিতে কাজ করতে গিয়েছিলেন।
মৃতদেহের পরিচয় পাওয়া গেছে ৪৫ বছর বয়সী কামাল উদ্দিনের, যিনি চামবাল ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয়ভাবে কৃষিকাজে নিয়োজিত ছিলেন এবং পার্কের সীমার মধ্যে অবস্থিত তার একটী ব্যক্তিগত জমিতে ফসল চাষ করতেন।
বাঁশখালি ইকো পার্কটি চুনতি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এলাকার সীমানার পাশে অবস্থিত, যেখানে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫টি বন্য হাতি বসতি স্থাপন করেছে। এই সংরক্ষণ এলাকা ও পার্কের আশেপাশের ভূমি মাঝে মাঝে হাতি ও মানুষের মধ্যে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
সকাল প্রায় দশটায় পার্ক রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগকে হাতি আক্রমণের খবর জানানো হয়। তৎপরতা দেখিয়ে একটি অনুসন্ধান দল现场ে পৌঁছে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। দলটি দ্রুতই কামাল উদ্দিনের দেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করে না, কারণ শারীরিক ক্ষতি গুরুতর ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রমণে শিকারের মাথা ও বুকে গভীর আঘাত লেগে গিয়েছিল, যা তৎক্ষণাৎ মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দেহটি উদ্ধার করার পরই পার্কের নিরাপত্তা কর্মীরা তা স্থানীয় পুলিশ ও বন বিভাগকে হস্তান্তর করে।
বাঁশখালি ইকো পার্কের কিছু অংশ ব্যক্তিগত মালিকানাধীন, যেখানে কামাল উদ্দিনের মতো কৃষকরা তাদের জমিতে চাষাবাদ চালিয়ে যান। এই ব্যক্তিগত জমিগুলো কখনও কখনও বন্যপ্রাণীর চলাচলের পথে পড়ে, ফলে মানব-প্রাণী সংঘর্ষের সম্ভাবনা বাড়ে।
বন বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-রেঞ্জার উল্লেখ করেছেন যে, আক্রমণের পরপরই তদন্ত দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রমাণ সংগ্রহ এবং সাক্ষী সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে পার্কের ক্যামেরা রেকর্ড, স্থানীয় বাসিন্দাদের বিবৃতি এবং হাতির গতিপথ বিশ্লেষণ করা হবে।
অধিকন্তু, স্থানীয় পুলিশও এই ঘটনার আইনি দিকটি অনুসন্ধান করবে। মানব-প্রাণী সংঘর্ষে প্রায়শই সংশ্লিষ্ট পক্ষের দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও কৃষি আইন প্রয়োগ করা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হবে।
চুনতি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এলাকায় বসবাসকারী হাতি গোষ্ঠী নিয়মিতভাবে পার্কের পার্শ্ববর্তী কৃষি জমিতে প্রবেশ করে। এই চলাচল প্রাকৃতিকভাবে তাদের খাদ্য অনুসন্ধানের অংশ, তবে মানব বসতির কাছাকাছি আসার ফলে সংঘর্ষের সম্ভাবনা বাড়ে।
বন বিভাগ কর্তৃক জানানো হয়েছে যে, হাতি ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পার্কের সীমানা ও সংরক্ষণ এলাকার মধ্যে অতিরিক্ত বেড়া ও সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এছাড়া, স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপদ চাষাবাদ পদ্ধতি ও বিকল্প আয় উৎসের পরিকল্পনা করা হবে।
এই ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা একত্রে একটি জরুরি সভা করে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। সভায় বলা হয়েছে, হাতি গোষ্ঠীর চলাচল পর্যবেক্ষণ ও মানবিক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা জরুরি।
কামাল উদ্দিনের পরিবারকে দেহ হস্তান্তর করার পর শোক প্রকাশের পাশাপাশি পার্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও মানব-প্রাণী সংঘর্ষের সমাধানে ত্বরিত পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। পরিবার ও স্থানীয় সমাজের এই দাবি ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, এই দুঃখজনক ঘটনা মানব ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থানের চ্যালেঞ্জকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ত্বরিত তদন্ত ও কার্যকরী নিরাপত্তা ব্যবস্থা এই ধরনের দুর্ঘটনা পুনরায় ঘটতে বাধা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



