22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিচীন যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর তাইওয়ান অস্ত্র বিক্রির প্রতিক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞা...

চীন যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর তাইওয়ান অস্ত্র বিক্রির প্রতিক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ

চীন ২৬ ডিসেম্বর তার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি প্রতিরক্ষা সংস্থা এবং দশজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহের জন্য নতুন ১১.১ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজের প্রতিক্রিয়ায় চীনা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। এই পদক্ষেপটি বেইজিংয়ের তাইওয়ান সংক্রান্ত নীতির লঙ্ঘনকে কঠোরভাবে মোকাবেলা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।

বৈদেশিক মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর চীনে থাকা সম্পদ জমানো হবে এবং চীনা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের সঙ্গে তাদের কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না। একই সঙ্গে, নিষিদ্ধ ব্যক্তিদের চীনে প্রবেশের অনুমতি রদ করা হবে এবং তাদের চীনে থাকা সম্পদও বাজেয়াপ্ত করা হবে।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি প্রধান প্রতিরক্ষা সংস্থার শাখা অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে বোয়িংয়ের সেন্ট লুইস শাখা, নর্থরপ গ্রুম্যান সিস্টেমস কর্পোরেশন, এল৩হ্যারিসের মেরিটাইম সার্ভিসেস এবং লাজারাস এআই উল্লেখযোগ্য। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে চীনে তাদের সম্পদ স্থগিত করা হবে এবং চীনা বাজারে তাদের কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে।

ব্যক্তিগত স্তরে, নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্তদের মধ্যে অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা এবং সংশ্লিষ্ট দশজন শীর্ষ নির্বাহী অন্তর্ভুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে চীনে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদ জমানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা ২৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, তাইওয়ানকে স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রদান করা বাধ্যতামূলক, যদিও তাইওয়ান বেইজিংয়ের দাবি অস্বীকার করে। তাই, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরবরাহ তাইওয়ানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ১৭ ডিসেম্বর ঘোষিত সর্বশেষ অস্ত্র প্যাকেজে ৮২টি হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম (HIMARS), ৪২০টি আর্মি ট্যাকটিকাল মিসাইল সিস্টেম (ATACMS) এবং ৬০টি স্বয়ংচালিত হাউইসার আর্টিলারি সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত, যার মোট মূল্য প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া ড্রোনসহ অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামও ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যে তাইওয়ানে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, তাইওয়ান বিষয়ক কোনো উত্তেজনাপূর্ণ পদক্ষেপকে চীন কঠোরভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহের “ঝুঁকিপূর্ণ” প্রচেষ্টা বন্ধ করতে আহ্বান জানায়। এই সতর্কতা চীনের দৃষ্টিকোণ থেকে তাইওয়ানকে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে, তার সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইচ্ছা প্রকাশ করে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই নিষেধাজ্ঞা চীনের তাইওয়ান নীতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপকে বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং ভবিষ্যতে দু’দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের তাইওয়ানকে সমর্থন অব্যাহত রাখার সম্ভাবনা কমে না, ফলে দুই শক্তির মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার নতুন পর্যায়ের দরজা খুলে যেতে পারে।

সারসংক্ষেপে, চীনের এই নিষেধাজ্ঞা তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহের যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের সরাসরি প্রতিক্রিয়া, যা উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা আরও তীব্র করে তুলবে এবং ভবিষ্যতে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতির পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করবে।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments