মেঘনা নদীর হাইমচর এলাকায় রাত দুইটার কাছাকাছি দুইটি যাত্রীবাহী লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে। সংঘর্ষে ‘এমভি জাকির সম্রাট‑৩’ এবং ‘এমভি অ্যাডভেঞ্চার‑৯’ লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে এবং তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিডিবিডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা জানান, এই দু’টি নৌযানের রুট পারমিট বাতিলের সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করা হবে এবং ঘটনাটির আইনি দিক থেকে মেরিন কোর্টে মামলা দায়ের করা হবে।
সদরঘাট নৌ থানা থেকে ওসি সোহাগ রানা জানান, সংঘর্ষের ফলে চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং সেগুলো সদরঘাট টার্মিনালে রাখা হয়েছে। মৃতদেহের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীদের বিবরণ অনুযায়ী, ‘এমভি জাকির সম্রাট‑৩’ লঞ্চটি ভোলার ঘোষেরহাট থেকে ঢাকা দিকের পথে রওনা হয়ে হাইমচর পার হয়ে গিয়েছিল। একই সময়ে, ঢাকা‑বরিশাল রুটে চলমান ‘এমভি অ্যাডভেঞ্চার‑৯’ লঞ্চটি বিপরীত দিক থেকে আসছিল।
দুইটি নৌযান একে অপরের মুখোমুখি হয়ে ধাক্কা খায়। ঘটনাস্থলে ঘন কুয়াশা ছিল, যার ফলে দৃষ্টিসীমা কমে গিয়েছিল এবং নেভিগেশন কঠিন হয়ে পড়ে। এই পরিবেশই সংঘর্ষের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
সংঘর্ষের পর নিকটস্থ জরুরি সেবা দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মৃতদেহের পাশাপাশি আহত কয়েকজন যাত্রীকে নিকটস্থ হাসপাতালへ স্থানান্তর করা হয়। আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
বিডিবিডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের মতে, রুট পারমিট বাতিলের মাধ্যমে ভবিষ্যতে একই রকম দুর্ঘটনা রোধের জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট নৌযানগুলোকে তাত্ক্ষণিকভাবে সেবা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তদন্তের জন্য গঠিত কমিটি এখন পর্যন্ত প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কমিটির সদস্যদের মধ্যে মেরিন কোর্টের আইনজীবী, নৌচালক সমিতির প্রতিনিধিরা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত।
মেরিন কোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় রুট পারমিট বাতিলের পাশাপাশি নিরাপত্তা মানদণ্ড লঙ্ঘনের অভিযোগও থাকবে। আদালত থেকে প্রাপ্ত রায়ের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট নৌযান মালিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নৌযান চালকদের মধ্যে এই ঘটনার প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। অনেকেই নিরাপদ নৌপরিবহন নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নিয়মের আহ্বান জানিয়েছেন।
অধিক তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। ভবিষ্যতে নৌপরিবহনের নিরাপত্তা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।



