ঢাকা শহরের গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে অবস্থিত খদ্দর বাজার শপিং কমপ্লেক্সে শুক্রবার বিকেল প্রায় ৫টা ২৮ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুনটি ভবনের আট তলার ছাদে থাকা একটি গোডাউনে শুরু হয় এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পাঁচ মিনিট পরই, অর্থাৎ বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিটে, প্রথম দলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশন থেকে মোট ছয়টি ইউনিট তৎক্ষণাৎ কাজ শুরু করে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত হয়।
কমপ্লেক্সের উপরের তলায় অবস্থিত গোডাউনের কাঠামো ও সংরক্ষিত পণ্যের ধরণের কারণে অগ্নি দ্রুত বিস্তার লাভের আশঙ্কা ছিল। ফায়ার ফাইটাররা উচ্চতায় পৌঁছে পানির চাপ বাড়াতে অতিরিক্ত পাম্প ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের ফলে উৎপন্ন ঘন কালো ধোঁয়া জিরো পয়েন্ট এবং গুলিস্তানের পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ার ঘনত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশেপাশের রাস্তা ও গলিগুলো অস্থায়ীভাবে অন্ধকারে ডুবে যায়।
বাজারের নিচতলা ও পার্শ্ববর্তী দোকানগুলোতে কাজ করছিলেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা অগ্নিকাণ্ডের তীব্র গন্ধ ও ধোঁয়া লক্ষ্য করে তৎক্ষণাৎ আতঙ্কিত হয়। তারা দ্রুত ভবন থেকে বেরিয়ে আসে এবং আশেপাশের নিরাপদ স্থানে সমবেত হয়। কোনো আহত বা প্রাণহানি না হওয়ায় প্রথমে শোকের চেয়ে স্বস্তি প্রকাশ পায়।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, গুলিস্তানের রাস্তা ও গলির সংকীর্ণতা, পাশাপাশি ভিড়ের উপস্থিতি কারণে পানির সরবরাহে কিছুটা বিলম্ব হয়। তবে কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং অতিরিক্ত হোসে ও হাইড্রান্ট ব্যবহার করে আগুন দমন করছে।
অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা ও বিস্তারের ঝুঁকি সত্ত্বেও, ফায়ার ফাইটারদের দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে অগ্নি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বর্তমান পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর বা গুরুতর আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ধোঁয়ার প্রভাবের কারণে শ্বাসযন্ত্রের অস্বস্তি কিছু লোকের মধ্যে দেখা গেছে, যা চিকিৎসা কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও নির্ধারিত হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত দল ঘটনাস্থলে প্রমাণ সংগ্রহ, গ্যাস লিক, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা মানবিক অবহেলার সম্ভাবনা যাচাই করছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং সিটি কর্পোরেশনও এই ঘটনার তদন্তে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। ডিএমপি ফায়ার সার্ভিসের সাথে সমন্বয় করে প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক দিক বিশ্লেষণ করবে। সিটি কর্পোরেশন ভবনের নিরাপত্তা মানদণ্ড ও অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে।
অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন, বিশেষত অগ্নি প্রতিরোধ ও অগ্নি নিরাপত্তা আইন, ২০১৫ অনুসারে, ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা মানদণ্ড লঙ্ঘন করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে শাস্তি আরোপের বিধান রয়েছে। যদি তদন্তে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি বা অবহেলা প্রকাশ পায়, তবে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরবর্তী পর্যায়ে, ফায়ার সার্ভিসের ফরেনসিক দল আগুনের মূল কারণ নির্ধারণের জন্য রসায়নিক বিশ্লেষণ ও ইলেকট্রিক্যাল পরীক্ষা চালাবে। তদন্তের ফলাফল ভিত্তিক রিপোর্ট আদালতে উপস্থাপন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের জন্য ক্ষতিপূরণ বা সহায়তা ব্যবস্থা গৃহীত হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা পুনর্মূল্যায়ন, জরুরি সাড়া পরিকল্পনা শক্তিশালীকরণ এবং জনসাধারণকে অগ্নি সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতন করার জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে এই পদক্ষেপগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



