কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বানাশুয়া বীরেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় ২৫ ও ২৬ ডিসেম্বর দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা পরিচালনা করে হীরক জয়ন্তী উৎসবের সূচনা করে। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার পঞ্চাশ বছর পূর্ণতা পেতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা একত্রিত হন এবং ঐতিহাসিক মুহূর্তটি স্মরণীয় করে তোলার জন্য নানা কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।
প্রথম দিন, বৃহস্পতিবার বিকালে, উজ্জ্বল রঙের বেলুন আকাশে ছুঁড়ে দিয়ে অনুষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। বেলুনের রঙিন দৃশ্যটি উপস্থিত সবাইকে উৎসবের আনন্দে মগ্ন করে এবং হীরক জয়ন্তীর গুরুত্বকে চিত্রায়িত করে।
বেলুনের পরপরই একটি মোটরবাইক র্যালি শুরু হয়, যেখানে কয়েকটি মোটরবাইক স্থানীয় গ্রামগুলো ঘুরে ঘুরে উৎসবের বার্তা ও শুভেচ্ছা পৌঁছে দেয়। র্যালির অংশগ্রহণকারীরা গাছের ছায়া, মাঠের পথ ও গ্রামবাড়ি পার হয়ে গিয়ে শিক্ষার গুরুত্ব ও বিদ্যালয়ের সাফল্যকে তুলে ধরেন।
সন্ধ্যায় বিদ্যালয়ের নিজস্ব শিল্পী ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, আধুনিক গান ও নাট্যাংশের মিশ্রণ দেখা যায়, যা উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠান শেষে রঙিন ফায়ারওয়ার্কস আকাশকে আলোকিত করে, হীরক জয়ন্তীর উজ্জ্বলতা প্রতিফলিত করে।
দ্বিতীয় দিন, শুক্রবারে, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ র্যালি ও স্মৃতিকথা সেশন পরিচালিত হয়। বহু বছর পর পুনরায় একত্রিত হওয়া প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অতীতের স্মৃতি ও বন্ধুত্বের কথা ভাগ করে নেয়, যা তাদের চোখে জল এনে দেয়।
স্মৃতিকথা সেশনের সময়, প্রথম ব্যাচের এক প্রাক্তন ছাত্র, আলহাজ মোহাম্মদ আবদুল হক, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, উপস্থিত ছিলেন। তার উপস্থিতি তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়ায়।
অনলাইন মাধ্যমে বিদ্যালয়ের কৃতিত্বপূর্ণ শিক্ষার্থী ডা. সুবোধ কুমার দেবনাথ ও কোহিনুর হক রুবি ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। তাদের ভিডিও বার্তা ও শুভেচ্ছা শিক্ষার্থীদের মধ্যে গর্বের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
উৎসবের অংশ হিসেবে হীরক জয়ন্তী স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এই স্মারক গ্রন্থে বিদ্যালয়ের পাঁচ দশকের সাফল্য, শিক্ষার্থীদের অর্জন ও শিক্ষকমণ্ডলীর অবদান সংকলিত হয়েছে। মোড়ক উন্মোচনের মুহূর্তটি ক্যামেরার সামনে ধরা পড়ে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্মরণীয় নথি হিসেবে সংরক্ষিত হবে।
সন্ধ্যাবেলায় আবার একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ক্লোজআপ ওয়ান দলের তারকা সাজিয়া সুলতানা পুতুল ও সাব্বিরের সুরেলা গানের পরিবেশন করা হয়। তাদের পারফরম্যান্সে আধুনিক রিদম ও ঐতিহ্যবাহী সুরের সমন্বয় দেখা যায়, যা উপস্থিত সকলকে নাচতে বাধ্য করে।
রাঙামাটি থেকে আগত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিল্পীরা গান ও নৃত্যের মাধ্যমে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন। তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও সুরেলা গানের মেলবন্ধন অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করে এবং দর্শকদের মধ্যে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান বাড়ায়।
এই দুই দিনের অনুষ্ঠান বিদ্যালয়ের শিক্ষাগত ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি সম্প্রদায়ের সংহতি ও সমন্বয়কে দৃঢ় করেছে। শিক্ষার্থীরা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরাসরি অভিজ্ঞতা শোনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গড়ে তুলতে পারে।
উদযাপন শেষে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন যে, এই ধরনের বৃহৎ অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সমাজের সমন্বিত সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি ভবিষ্যতে আরও বেশি আলাপ-আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
শিক্ষা ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও সংযোগের গুরুত্ব বাড়াতে, বিদ্যালয়গুলো নিয়মিতভাবে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মেলামেশা, কর্মশালা ও ক্যারিয়ার গাইডেন্স সেশন আয়োজন করতে পারে। এতে বর্তমান শিক্ষার্থীরা বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে পরামর্শ পাবে এবং তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও সুসংগঠিত হবে।
আপনার বিদ্যালয়েও যদি কোনো গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন উদযাপন করতে চান, তবে পরিকল্পনা শুরু করার সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করুন: (১) প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি ও যোগাযোগের ব্যবস্থা, (২) স্থানীয় সংস্কৃতি ও শিল্পকে অন্তর্ভুক্ত করে অনুষ্ঠান পরিকল্পনা, (৩) সামাজিক মিডিয়া ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভার্চুয়াল অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি, এবং (৪) স্মারক গ্রন্থ বা ভিডিও ডকুমেন্টেশন প্রস্তুত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ।
আপনার বিদ্যালয়ের পরবর্তী বড় অনুষ্ঠান কীভাবে পরিকল্পনা করবেন? মন্তব্যে আপনার মতামত শেয়ার করুন।



