গাজীপুরের কনাবাড়ি এলাকায় যাসিন এন্টারপ্রাইজের জুত গুদামে আজ প্রাতঃকালীন সময়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। অগ্নি প্রায় সকাল ৪টায় শুরু হয় এবং দ্রুতই আশেপাশের এলাকায় ধোঁয়া ছড়িয়ে দেয়।
গুদামের ভিতরে জুত ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থের সঞ্চয় অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, গুদামের ভেতরে প্রচুর পরিমাণে জুতের বর্জ্য এবং দাহ্য উপকরণ সংরক্ষিত ছিল, যা আগুনকে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া মাত্রই গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের প্রধান সাইফুল ইসলাম জানান, ইউনিটগুলো তৎক্ষণাৎ কাজ শুরু করে এবং আগুনের বিস্তার রোধে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালায়।
সকাল ১১টায় গুদাম থেকে ধোঁয়া কমে যাওয়া এবং আগুনের তীব্রতা হ্রাস পেয়েছে বলে জানানো হয়। তবে পুরো গুদাম সম্পূর্ণভাবে নিভে যেতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লাগতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, গুদামে সঞ্চিত জুতের বর্জ্য এবং অন্যান্য দাহ্য পদার্থের উপস্থিতি অগ্নিকাণ্ডের দ্রুত বিস্তারে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। তবে এখনও নিশ্চিত করা যায়নি যে, কোনো বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণ এই অগ্নিকাণ্ডের মূল সূত্র কিনা।
আসন্ন সময়ে গুদামের আশেপাশের বাড়ি ও অন্যান্য কারখানায় কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুনের শিখা ও ধোঁয়া হঠাৎই গুদাম থেকে বেরিয়ে এসে দ্রুতই ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়।
অগ্নিকাণ্ডের সময় কোনো মানুষ আহত হয়নি বা প্রাণহানি ঘটেনি। স্থানীয় মানুষদের মতে, দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের পদক্ষেপের ফলে বড় কোনো ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের ফলাফল জানার পরেই সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ বা দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে।
অগ্নিকাণ্ডটি অপরাধমূলক দিক থেকে বিবেচিত হওয়ায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুদাম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে আইনগত দায়িত্বের আওতায় আনতে পারে। জুতের বর্জ্য ও দাহ্য পদার্থের সঠিক সংরক্ষণ না করা, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন ইত্যাদি বিষয়গুলো তদন্তের মূল ফোকাস হবে।
গাজীপুরের কনাবাড়ি এলাকায় এই ধরনের অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধে ভবিষ্যতে কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা উত্থাপিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও শিল্প সংস্থাগুলোকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
অবশেষে, ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্কতা অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতি সীমিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের অপেক্ষা করা হবে।



