ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জিয়া উদ্যান, সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং রুটের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আজ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বিশাল সংখ্যক কর্মী মোতায়েন করেছে। নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি যানবাহনের সুষ্ঠু চলাচল নিশ্চিত করা এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতিরোধের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিজিবি জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম আজ প্রকাশ্যে জানালেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে এই মোতায়েনটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গার্ডের উপস্থিতি ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, গাড়ি চালকদের নিরাপদ যাত্রা এবং রাস্তায় সম্ভাব্য সন্ত্রাসী বা অপরাধমূলক কার্যকলাপের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে।
মহাসড়কের এই অংশটি পূর্বে কখনো কখনো যানজট এবং অপ্রত্যাশিত ঘটনার কারণে উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তাই বিসিবি গার্ডের উপস্থিতি স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ জাগিয়ে তুলেছে। গার্ডের সদস্যরা রুটের প্রবেশদ্বার, সেতু এবং পার্কিং এলাকা সহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পর্যাপ্ত সংখ্যায় স্থাপিত হয়েছে।
বিজিবি কর্তৃপক্ষের মতে, গার্ডের কাজের পরিধি কেবল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়; তারা ট্রাফিক সিগন্যালের সঠিক কার্যকারিতা তদারকি, অপ্রয়োজনীয় পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত সাড়া দেওয়াও অন্তর্ভুক্ত। এই সবই রাস্তায় গতি বজায় রাখতে এবং যাত্রীদের সময়মত গন্তব্যে পৌঁছাতে সহায়তা করবে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও একই সময়ে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। পুলিশ, রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (আরটিএ) এবং অন্যান্য নিরাপত্তা দায়িত্বশীল সংস্থাগুলি গার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে। এদের সমন্বিত প্রচেষ্টা রাস্তায় কোনো অনিয়ম বা অস্বাভাবিক কার্যকলাপ দ্রুত সনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হবে।
বিজিবি গার্ডের মোতায়েনের পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী পাড়া, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং বাস স্টপগুলোতে অতিরিক্ত পেট্রোলিং ইউনিট পাঠানো হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো রাস্তায় চলাচলকারী সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
বহু বছর ধরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দেশের প্রধান বাণিজ্যিক রুট হিসেবে কাজ করে আসছে। এই রুটে গার্ডের উপস্থিতি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সীমানা সংলগ্ন এলাকায় গার্ডের ভূমিকা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরিহার্য।
বিজিবি গার্ডের এই বৃহৎ মোতায়েনের ফলে রাস্তায় গতি বাড়বে এবং যাত্রীদের সময়মত গন্তব্যে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ট্রাফিক জ্যাম কমে গেলে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনেও সুবিধা হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অধিকন্তু, নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই পদক্ষেপটি দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকার পূর্বে উল্লেখ করেছে যে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও পরিবহন নেটওয়ার্কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে। এই মোতায়েনটি সেই নীতির একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
বিজিবি গার্ডের কর্মকর্তারা জানান, রুটের নিরাপত্তা বজায় রাখতে তারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজন অনুসারে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেবে। গার্ডের সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম আধুনিক মানের, যা জরুরি অবস্থায় দ্রুত ও কার্যকর সাড়া দিতে সক্ষম।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা গার্ডের উপস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক মতামত প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেন, গার্ডের উপস্থিতি রাস্তায় নিরাপত্তা বাড়াবে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কোনো বাধা না দিয়ে চলতে সাহায্য করবে। এই ধরনের সমর্থন গার্ডের কাজকে আরও দৃঢ় করবে।
সারসংক্ষেপে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিসিবি গার্ডের বিশাল মোতায়েন নিরাপত্তা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোর উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাস্তায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে অব্যাহত থাকবে।



