সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার দূরবর্তী সীমান্ত এলাকায় শুক্রবার সকালের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ গার্ড (বিজিবি) একটি অভিযান চালায় এবং সেখানে ২৪টি ইলেকট্রিক ডেটোনেটর, অর্থাৎ বিস্ফোরক ডিভাইস, উদ্ধার করা হয়। এই পদক্ষেপটি সীমান্তে অবৈধ অস্ত্রসামগ্রী প্রবাহ রোধের লক্ষ্যে নেওয়া হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা বৃদ্ধি পেতে পারে এমন সম্ভাব্য হুমকি দূর করতে সহায়তা করে।
অভিযানটি সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন‑২৮ বিজিবি অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল একেএম জাকারিয়া কাদিরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। গোপন সূত্রের ভিত্তিতে সীমান্তের মাইজহাটি এলাকায় অনুসন্ধান করা হয় এবং পলিথিনে মোড়ানো, গাছের ডালপালার মধ্যে লুকানো অবস্থায় ডেটোনেটরগুলো পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত ডিভাইসগুলো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইমপ্রোভাইজড বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য বলে জানানো হয়েছে।
ডেটোনেটরগুলো ইলেকট্রিক সিগন্যালের মাধ্যমে সক্রিয় করা যায় এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করলে বৃহৎ ধ্বংস সাধন করতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ডিভাইস সাধারণত সশস্ত্র গোষ্ঠী বা সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো দ্বারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। সুতরাং, সুনামগঞ্জের এই উদ্ধার কার্যক্রম দেশের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা হুমকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সীমান্তের মাধ্যমে এই বিস্ফোরক সামগ্রী প্রবাহের সূত্রে ভারত থেকে চোরাচালান করে আনা হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যদিও এখনও অপরাধীর পরিচয় বা সরবরাহের সুনির্দিষ্ট পথ নিশ্চিত করা যায়নি, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, এই ধরনের সামগ্রী সীমান্ত পারাপার করে দেশের অভ্যন্তরে নাশকতামূলক কাজের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।
লেফট্যানেন্ট কর্নেল একেএম জাকারিয়া কাদির উল্লেখ করেন, “উদ্ধার করা ডেটোনেটরগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সেগুলোকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সনাক্ত করে অপসারণ করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এই ডিভাইসগুলো দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল এবং সেগুলোকে তৎক্ষণাৎ নিষ্ক্রিয় করা জরুরি।” এই মন্তব্যগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, নিরাপত্তা সংস্থা এই ধরণের হুমকি মোকাবেলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
উদ্ধারকৃত ডেটোনেটরগুলোর বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ডিভাইসগুলোকে ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য নিরাপদ স্থানে পাঠাবে এবং অপরাধী চিহ্নিত করার জন্য তদন্ত চালাবে। যদি অপরাধীর পরিচয় নিশ্চিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ঘটনা দেশের সীমান্তে অবৈধ অস্ত্রসামগ্রী প্রবাহের একটি নতুন উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। পূর্বে বগুড়ায় ককটেল নিষ্ক্রিয় করা, পেট্রল বোমা পাওয়া ইত্যাদি ঘটনার পরেও সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, সীমান্তে অবৈধ সামগ্রী প্রবাহ রোধে সমন্বিত নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্যের সঠিক ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য।
অবশেষে, সুনামগঞ্জের এই উদ্ধার কার্যক্রম দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ হুমকি মোকাবেলায় ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে। নিরাপত্তা সংস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি বজায় রেখে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে।



