19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকসংযুক্ত আরব আমিরাত সৌদি আরবের ইয়েমেন নিরাপত্তা উদ্যোগে সমর্থন জানায়

সংযুক্ত আরব আমিরাত সৌদি আরবের ইয়েমেন নিরাপত্তা উদ্যোগে সমর্থন জানায়

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও সৌদি আরবের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে, ইউএই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে ইয়েমেনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সৌদি আরবের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানায়। একই সময়ে, সৌদি আরবের সরকার জানিয়েছে যে তারা দক্ষিণের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)কে হদ্রামুট ও আল-মাহরা প্রদেশ থেকে প্রত্যাহার করার প্রত্যাশা রাখে।

এসটিসি, যা পূর্বে ইউএই থেকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা পেয়েছিল, সম্প্রতি আদেনের সদর দফতর থেকে সৌদি সমর্থিত আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারকে তাড়া করে দক্ষিণের বেশিরভাগ অঞ্চল দখল করে নিয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে গোষ্ঠীটি দেশের দক্ষিণে বিস্তৃত নিয়ন্ত্রণ দাবি করে, যা অঞ্চলের বিদ্যমান সংঘাতকে তীব্রতর করে তুলেছে।

ইউএই মন্ত্রণালয় তার বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেছে যে, তারা ইয়েমেনের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য সব ধরনের উদ্যোগকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই অবস্থানটি ইউএইয়ের পূর্বের নীতি অনুসরণ করে, যেখানে তারা ২০১৫ সালে হুথি বিদ্রোহের বিরুদ্ধে গৃহীত সামরিক হস্তক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

ডিসেম্বর ১২ তারিখে, সৌদি ও ইউএই যৌথ সামরিক প্রতিনিধিদল আদেনে পৌঁছে ইয়েমেনের উত্তেজনা কমানোর জন্য আলোচনা শুরু করে। উভয় পক্ষের লক্ষ্য ছিল এসটিসি বাহিনীর প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা এবং হদ্রামুট ও আল-মাহরা প্রদেশের সীমা পুনঃস্থাপন করা। সৌদি সরকার এই দলকে “প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা” গ্রহণের দায়িত্ব প্রদান করেছে, যদিও এই প্রক্রিয়া এখনও চলমান।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এসটিসি’র সাম্প্রতিক অগ্রগতি একটি দুর্বল জোটের মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে, যা ইতিমধ্যে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে দশকের বেশি সময় ধরে লড়াই করছে। “যদি এসটিসি এবং কেন্দ্রীয় সরকার একে অপরের সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি হয়, তবে সমগ্র জোটের সামরিক সমন্বয় ব্যাহত হতে পারে,” একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক বলেন।

এসটিসি মূলত ২০১৫ সালে হুথি বিদ্রোহের বিরুদ্ধে গৃহীত সামরিক হস্তক্ষেপে অংশগ্রহণকারী জোটের একটি অংশ ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গোষ্ঠীটি সরকার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দক্ষিণে স্বশাসন দাবি করে। এই বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন দেশের ঐতিহাসিক বিভাজনকে পুনরুজ্জীবিত করেছে, যা ১৯৯০ সালে উত্তর ও দক্ষিণের একীকরণে শেষ হয়েছিল।

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ ২০১৪ সালে শুরু হয়, যখন হুথি বিদ্রোহীরা উত্তর অংশে, যার মধ্যে রাজধানী সানায়া অন্তর্ভুক্ত, নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ফলে সৌদি সমর্থিত সরকারকে দক্ষিণে পিছু হটতে বাধ্য করা হয়। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক শিপিং রুটের নিকটবর্তী রেড সি অঞ্চলে নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সৌদি আরবের সাম্প্রতিক ঘোষণার ভিত্তিতে, এসটিসি’র বাহিনীকে পূর্বে দখল করা প্রদেশ থেকে প্রত্যাহার করা হলে, জোটের সামরিক কাঠামো পুনরায় স্থিতিশীল হতে পারে। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং অতীতের আর্থিক সহায়তার কারণে এই প্রত্যাবর্তন সহজ হবে না।

ইউএইয়ের এই সমর্থনমূলক বিবৃতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে দু’দেশই ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সমাধানে কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের সমন্বয় বজায় রাখতে চায়। একই সঙ্গে, তারা হুথি বিদ্রোহের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন বজায় রাখতে এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর প্রভাব সীমিত করতে চায়।

অঞ্চলীয় বিশ্লেষকরা তুলনা করেন, এই ধরণের কূটনৈতিক সমন্বয় পূর্বের লিবিয়ান সংঘাতে দেখা গিয়েছিল, যেখানে বহুপাক্ষিক জোটের মধ্যে সমন্বয় ব্যর্থ হলে সংঘাতের পরিসর বাড়ে। “ইয়েমেনের ক্ষেত্রে, যদি জোটের অভ্যন্তরে সমন্বয় না থাকে, তবে হুথি ও এসটিসি উভয়েরই সুবিধা হবে,” তিনি মন্তব্য করেন।

ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকোণ থেকে, ইউএই ও সৌদি আরবের যৌথ সামরিক দলকে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এসটিসি’র প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে হদ্রামুট ও আল-মাহরা প্রদেশে পুনরায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর থাকবে কিভাবে এই উদ্যোগগুলি হুথি বিদ্রোহের বিরুদ্ধে সামগ্রিক কৌশলে প্রভাব ফেলবে।

যদি এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হয়, তবে ইয়েমেনের উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিভাজনকে ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে, এবং রেড সি শিপিং রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেন, যেকোনো ব্যর্থতা জোটের অভ্যন্তরে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments