শাওমি নতুন ফ্ল্যাগশিপ মডেল ১৭ আল্ট্রা লেইকা এডিশন উন্মোচন করেছে, যেখানে ম্যানুয়াল জুম রিং যুক্ত করা হয়েছে। এই রিং ঘুরিয়ে ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয় এবং জুমের সূক্ষ্ম সমন্বয় সম্ভব করে। স্মার্টফোনের এই নকশা ফটোগ্রাফি অভিজ্ঞতাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
প্রধান ক্যামেরা হিসেবে ১‑ইঞ্চি সেন্সরযুক্ত ৫০ মেগাপিক্সেল, f/1.67 অ্যাপারচার সহ একটি লেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। টেলিফটো অংশে ১/১.৪‑ইঞ্চি সেন্সরযুক্ত ২০০ মেগাপিক্সেল পেরিস্কোপ লেন্স রয়েছে, যা উচ্চ রেজোলিউশন ও দীর্ঘ জুম ক্ষমতা প্রদান করে। উভয় লেন্সই শাওমি ও লেইকা যৌথভাবে টিউন করা, ফলে রঙের স্বচ্ছতা ও বিস্তারিত পুনরুদ্ধার উন্নত হয়েছে।
ম্যানুয়াল জুম রিংটি ঘুরানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরা শাটার সক্রিয় হয়, ফলে স্ক্রিনে ট্যাপ করার দরকার কমে যায়। শাওমি দাবি করে রিংটি ০.০৩ মিমি পর্যন্ত ক্ষুদ্র স্থানান্তর সনাক্ত করতে পারে, যা সূক্ষ্ম ফোকাস ও এক্সপোজার সমন্বয়ে সহায়ক। ব্যবহারকারী রিংকে এক্সপোজার কম্পেনসেশন বা ম্যানুয়াল ফোকাসের মতো ফাংশনেও পুনঃপ্রোগ্রাম করতে পারেন।
প্রধান ও টেলিফটো লেন্সের পাশাপাশি ৫০ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা‑ওয়াইড এবং ৫০ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে। আল্ট্রা‑ওয়াইড লেন্স ১২০‑ডিগ্রি ফিল্ড অফ ভিউ প্রদান করে, যা বিস্তৃত দৃশ্য ধারণে সুবিধা দেয়। সেলফি ক্যামেরা উচ্চ রেজোলিউশন ও f/2.0 অ্যাপারচার সহ, ফলে স্বল্প আলোতেও পরিষ্কার ছবি তোলা যায়।
প্রসেসিং দিক থেকে শাওমি ৮ এলিট জেন ৫ স্ন্যাপড্রাগন চিপসেট ব্যবহার করেছে, যা সর্বোচ্চ ১৬ গিগাবাইট LPDDR5X র্যাম ও ১ টেরাবাইট UFS ৪.১ স্টোরেজ সমর্থন করে। ডিসপ্লে ৬.৯ ইঞ্চি ১২০ Hz AMOLED প্যানেল, যার পিক ব্রাইটনেস ৩৫০০ নিট পর্যন্ত পৌঁছায়, ফলে উজ্জ্বল সূর্যালোকেও স্পষ্ট ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা দেয়।
ব্যাটারি ক্ষমতা ৬,৮০০ mAh সিলিকন‑কার্বন প্রযুক্তি ভিত্তিক, যা ৯০ ওয়াট ওয়্যার্ড ও ৫০ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং সমর্থন করে। দ্রুত চার্জিংয়ের ফলে এক ঘণ্টারও কম সময়ে ব্যাটারি ৫০% পর্যন্ত পূর্ণ করা যায়, আর ওয়্যারলেস চার্জিং ব্যবহারকারীকে কেবল ফোনটি প্যাডে রাখলেই চার্জিং শুরু করতে দেয়।
লেইকা এডিশন মডেলে দুই‑টোন ফিনিশ, সামনের অংশে লাল ডট স্ট্যাটাস সিম্বল, টেক্সচার্ড এজ এবং লেইকা নির্দিষ্ট ফিল্ম সিমুলেশন অন্তর্ভুক্ত। এই সিমুলেশনগুলোর মধ্যে লেইকার মনোপ্যান ৫০ ব্ল্যাক‑অ্যান্ড‑হোয়াইট মোড রয়েছে, যা ক্লাসিক ফিল্মের চেহারা পুনরায় তৈরি করে। ডিজাইন ও সফটওয়্যার উভয় দিকেই লেইকার স্বাক্ষর স্পর্শ দেখা যায়।
অতিরিক্ত সফটওয়্যার বৈশিষ্ট্যের মধ্যে “লেইকা মোমেন্টস” ৩:২ অ্যাসপেক্ট রেশিও, বিশেষ এনক্রিপশন চিপ এবং ডুয়াল‑স্যাটেলাইট কানেকশন অন্তর্ভুক্ত। এনক্রিপশন চিপ ডেটা সুরক্ষায় অতিরিক্ত স্তর যোগ করে, আর স্যাটেলাইট কানেকশন নেটওয়ার্ক কভারেজ দুর্বল এলাকায়ও স্থিতিশীল সংযোগ নিশ্চিত করে। এই ফিচারগুলো উচ্চমানের ফটোগ্রাফি ও নিরাপদ যোগাযোগের চাহিদা পূরণে সহায়ক।
প্যাকেজিংয়ে কাস্টম বক্স, লেন্স ক্যাপ, ল্যানিয়ার্ড, চৌম্বকীয় কেস এবং লেইকা লোগোযুক্ত ক্লিনিং কাপড় অন্তর্ভুক্ত। এই আনুষঙ্গিক সামগ্রীগুলো ফোনের ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে সুবিধা দেয়, পাশাপাশি লেইকা ব্র্যান্ডের এক্সক্লুসিভ ইমেজ বজায় রাখে।
মূল্য নির্ধারণে চীনা বাজারে লেইকা এডিশন ৭,৯৯৯ ইউয়ান (প্রায় ১,১৪০ ডলার) থেকে শুরু হয়, আর স্ট্যান্ডার্ড ১৭ আল্ট্রা ৬,৯৯৯ ইউয়ান (প্রায় ৯৯৫ ডলার) থেকে বিক্রি হবে। উভয় মডেলই ৫১২ GB স্টোরেজ ও ১৬ GB র্যাম কনফিগারেশন দিয়ে উপলব্ধ, যা একই দামের পিক্সেল ১০ ও গ্যালাক্সি ২৫ সিরিজের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে।
উচ্চ রেজোলিউশন সেন্সর, ম্যানুয়াল জুম রিং এবং লেইকা-নির্দিষ্ট সফটওয়্যার সমন্বয় স্মার্টফোন ফটোগ্রাফিকে পেশাদার ক্যামেরার কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে। ব্যবহারকারী এখন ফোনের মাধ্যমে সূক্ষ্ম ফোকাস ও এক্সপোজার নিয়ন্ত্রণে বেশি স্বায়ত্তশাসন পাবে, যা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ফটোগ্রাফি উত্সাহীদের জন্য বড় সুবিধা।
শাওমির এই নতুন মডেল স্মার্টফোন বাজারে ক্যামেরা প্রযুক্তির নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে, বিশেষ করে ম্যানুয়াল জুমের মতো হাইব্রিড ফিচার যুক্ত করে। ভবিষ্যতে এই ধরনের উদ্ভাবন মোবাইল ফটোগ্রাফিকে আরও সৃজনশীল ও প্রযুক্তিগতভাবে সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা যায়।



