22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাগাজা শিফা হাসপাতালের ধ্বংসাবশেষে ১৬৮ ডাক্তার পেশাগত সনদ অর্জন

গাজা শিফা হাসপাতালের ধ্বংসাবশেষে ১৬৮ ডাক্তার পেশাগত সনদ অর্জন

গাজা শহরের শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সের ধ্বংসাবশেষের সামনে বৃহস্পতিবার ১৬৮ জন ফিলিস্তিনি ডাক্তার তাদের প্যালেস্টাইনি বোর্ডের উন্নত সনদ গ্রহণ করে। দুই বছরের ইসরায়েলি যুদ্ধের পরেও তারা অবিচল থেকে, রোগী সেবা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি একসাথে চালিয়ে গেছেন।

স্নাতকোত্তর সনদ প্রদান অনুষ্ঠানটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত হয়, যা ফিলিস্তিনের সর্ববৃহৎ হাসপাতালের অবশিষ্ট রূপ। এই অনুষ্ঠানকে “মানবিক কোহর্ট” নামে পরিচিত ডাক্তারগণ তাদের কঠিন সময়ে অর্জিত জ্ঞানকে প্রতীকীভাবে উপস্থাপন করেছেন।

স্নাতকোত্তর পরীক্ষার প্রস্তুতি চলাকালীন ডাক্তাররা গাজার হাসপাতালগুলোতে অবিরাম কাজ করেছেন, যেখানে খাদ্য সংকট, স্থানচ্যুতি এবং মানবিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিছু চিকিৎসক আঘাতপ্রাপ্ত, গ্রেফতার বা পরিবারের সদস্যের মৃত্যু সহ নানা কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছেন।

গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ইউসুফ আবু আল-রেইশ অনুষ্ঠানকে “যন্ত্রণা ও রক্তের নদীর মাঝে, বোমাবর্ষণের অধীনে, কষ্টের গর্ভ থেকে স্নাতক” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই সনদ গ্রহণ গাজার স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক।

শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সের মেডিকেল ডিরেক্টর মোহাম্মদ আবু সলমিয়া জানান, ইসরায়েলি আক্রমণগুলো মানবসম্পদ ধ্বংসের লক্ষ্য ছিল, তবে এই সনদপ্রাপ্ত ডাক্তাররা তা ব্যর্থ করেছে। তিনি বলেন, “যদিও হাসপাতালগুলো ধ্বংস হয়েছে, আমাদের মানবিক ও বৈজ্ঞানিক শক্তি অটুট রয়ে গেছে।”

স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী ডা. আহমেদ বাসিলের মতে, ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনে এই সাফল্য গাজার জনগণের জীবনের প্রতি ভালোবাসা এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির প্রতি অটুট প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে। তিনি যোগ করেন, “এই মুহূর্তে আমরা দেখিয়েছি যে সংকটের মাঝেও শিক্ষা ও গবেষণা থামবে না।”

অনুষ্ঠানের সময় শূন্য চেয়ারগুলোতে যুদ্ধের সময় নিহত স্বাস্থ্যকর্মীদের ছবি প্রদর্শিত হয়, যা গাজার মানবিক ক্ষতির স্মারক হিসেবে কাজ করে। শিফা হাসপাতাল অক্টোবর ২০২৩ থেকে ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যবস্তু হয়ে এসেছে; প্রথমবার নভেম্বর ২০২৩-এ আক্রমণ হলে ডা. সলমিয়া সাত মাসের জন্য গ্রেফতার হন, আর মার্চ ২০২৪-এ দ্বিতীয়বারের আক্রমণে সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এপ্রিল ২০২৪-এ করা মূল্যায়নে শিফা হাসপাতালকে “শূন্য খোলস, মানবিক কবরের সমাহার” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যদিও কিছু অংশ পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে, তবে বেশিরভাগ কাঠামো এখনও ধ্বংসাবশেষের মধ্যে রয়েছে।

শিফা হাসপাতালের ধ্বংসাবশেষে এই স্নাতকোত্তর অনুষ্ঠান গাজার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার পুনর্গঠন ও মানবিক পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে গাজার চিকিৎসা শিক্ষার উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর জন্য এই ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কাজ করা তরুণ পেশাজীবীদের জন্য এই ঘটনা একটি উদাহরণস্বরূপ অনুপ্রেরণা। কঠিন পরিস্থিতিতে অধ্যয়ন চালিয়ে যাওয়া এবং সামাজিক দায়িত্ব পালন করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এই স্নাতকোত্তর অনুষ্ঠান স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে।

আপনার মতামত কী? গাজার মতো সংকটাপন্ন অঞ্চলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে কী ধরনের নীতি বা আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রয়োজন, তা নিয়ে আপনার চিন্তা শেয়ার করুন।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments