20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকরাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ২০২৬ সালে থামবে কি? বিশ্লেষণ ও সামরিক পরিস্থিতি

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ২০২৬ সালে থামবে কি? বিশ্লেষণ ও সামরিক পরিস্থিতি

কিয়েভের সোফিয়া স্কোয়ারে, শহরের বৃহত্তম ক্রিসমাস গাছের পাশে, রাশিয়ান সৈন্যদের ইউক্রেনীয়দের প্রতি ভয় প্রকাশকারী এক উচ্চকায় কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তিনি কিয়েভের রাস্তায় অস্থায়ীভাবে হেঁটে চলছিলেন এবং তার বাম পা ল্যান্ডমাইনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হেঁটে চলছিলেন। তার মন্তব্য অনুযায়ী রাশিয়ান সৈন্যরা ইউক্রেনীয়দের কাছ থেকে তীব্র ভয় অনুভব করে।

অফিসারটি নিজেকে ভাসিলি বলে পরিচয় দিয়েছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে তিনি শত্রুর খাঁড়িতে প্রবেশ করে তাদের ভয় দেখেছেন। তিনি বলেছিলেন, শত্রুদের ট্যাঙ্কের অবস্থান জানলেও যথাযথ শেল না থাকায় কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে পারছেন না। এই অভাবের ফলে ৮০০ মিটারের দূরত্বে থাকা ট্যাঙ্কের লক্ষ্য নির্ধারণ করেও তা ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে না।

যদিও রাশিয়ান সৈন্যদের মধ্যে ভয় আছে, তবু কিয়েভের শর্তে যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ধারণের ক্ষমতা সীমিত। রাশিয়া অধিক সংখ্যক সৈন্য, শক্তিশালী অর্থনীতি এবং বৃহত্তর যুদ্ধ তহবিল নিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ইউক্রেনের সৈন্যসংখ্যা ও অস্ত্রশস্ত্রের ঘাটতি রয়েছে। এই বৈষম্য যুদ্ধের গতিপথকে প্রভাবিত করছে।

ভাসিলি ২০২৩ সালে একটি ল্যান্ডমাইনের কারণে বাম পা হারিয়ে ফেলেন, তবু তিনি সেবায় অব্যাহত রয়েছেন। তিনি নিজের শেষ নাম গোপন রাখতে অনুরোধ করেছেন, যা যুদ্ধকালীন নিয়মের অধীনে অনুমোদিত। তার গোপনীয়তা বজায় রাখতে তিনি শুধুমাত্র প্রথম নাম ব্যবহার করছেন।

একজন চার-তারকা জেনারেল, যিনি ইউক্রেনের সামরিক স্টাফের প্রাক্তন ডেপুটি হেড, যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাপ্তি সম্পর্কে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধের পঞ্চম বর্ষে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে একটি সাময়িক বিরতি সম্ভব হতে পারে, তবে পূর্ণ সমাপ্তি কঠিন। তিনি যুক্তি দেন, রাশিয়ার আক্রমণাত্মক স্বভাবের কারণে সম্পূর্ণ শান্তি অর্জন শুধুমাত্র ইউক্রেনের ১৯৯১ সালের সীমানা পুনরুদ্ধার করার পরই সম্ভব।

যদি মস্কো কোনো চুক্তি লঙ্ঘন করে, তবে কিয়েভকে সামনের সারিতে রাশিয়ান সৈন্যদের থামাতে উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তিবৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য তিনি সর্বজনীন ও ন্যায়সঙ্গত মোবিলাইজেশন, কোনো ব্যতিক্রম ছাড়া, দাবি করেন। পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র উৎপাদন বাড়িয়ে তোলা, অর্থনৈতিক নীতিতে যুদ্ধকালীন অগ্রাধিকার প্রদান এবং কঠোর সামরিক আইন প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ইউক্রেনের সামরিক শিল্প এই বছর তার প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ৪০ শতাংশ সরবরাহ করেছে, যা ২০২২ সালে ১৫-২০ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই উন্নতি দেশীয় উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর ফলাফল। বাকি ৬০ শতাংশের জন্য ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো সমর্থন প্রদান করে চলেছে।

সামগ্রিকভাবে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষের পরবর্তী পর্যায়ে যুদ্ধের স্থবিরতা, মোবিলাইজেশন নীতি এবং দেশীয় অস্ত্র উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উভয় পক্ষের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমর্থনের মাত্রা, ২০২৬ সালে সংঘর্ষের সম্ভাব্য দিকনির্দেশ নির্ধারণে মূল চাবিকাঠি হবে।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments