কুয়ালালামপুর হাই কোর্ট শুক্রবার নাজিব রজাককে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দোষী রায় প্রদান করে। ৭২ বছর বয়সী নাজিবের বিরুদ্ধে চারটি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং একুশটি মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে রায় শোনানো হয়, যেখানে প্রায় ২.২ বিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিংগিট (প্রায় ৫৩৯ মিলিয়ন ডলার) অবৈধভাবে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
প্রসিকিউশন দাবি করে নাজিব তার প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং ১এমডিবি পরামর্শক বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদ ব্যবহার করে মালয়েশিয়ার সার্বভৌম সম্পদ তহবিল থেকে বিশাল পরিমাণ অর্থ নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেন। এই লেনদেনগুলো এক দশকেরও বেশি সময় আগে সংঘটিত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাজিবের পূর্বে ২০২০ সালে একই স্ক্যান্ডাল নিয়ে ১২ বছরের কারাদণ্ড আরোপিত হয়েছিল, যেখানে তিনি ১এমডিবি তহবিল থেকে প্রায় ৯.৯ মিলিয়ন ডলার অপব্যবহার করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। পরবর্তীতে তার শাস্তি ছয় বছরে কমিয়ে দেওয়া হয়।
এই রায়টি নাজিবের দ্বিতীয় প্রধান ট্রায়াল, যা ১এমডিবি সংস্থাগুলোর সরাসরি জড়িততা এবং বড় পরিমাণ অর্থের কারণে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। মামলাটি সাত বছর ধরে চলেছে এবং মোট ৭৬ জন সাক্ষী আদালতে হাজির হয়েছেন, যার মধ্যে নাজিব নিজেও সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মামলার জটিলতা ও দীর্ঘায়ু নিয়ে নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এশিয়া গবেষণা ইনস্টিটিউটের একজন গবেষক উল্লেখ করেছেন যে আর্থিক অপরাধগুলো বহুস্তরীয় এবং বুঝতে সময়সাপেক্ষ। তিনি বলেন, এই ধরনের মামলায় প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ অত্যন্ত কঠিন।
নাজিব গত বছর ১এমডিবি স্ক্যান্ডাল নিয়ে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছিলেন, তবে তিনি দাবি করেন যে তিনি বহিরাগত আর্থিক জালিয়াতি বিশেষজ্ঞ ঝো লো-এর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। ঝো লো ২০১৬ সাল থেকে ইন্টারপোলের তালিকায় রয়েছে এবং তার বর্তমান অবস্থান অজানা।
সপ্তাহের আদালত সেশনে বিচারক কলিন লরেন্স সেকুয়েরা রায়ে উল্লেখ করেন যে প্রমাণগুলো দেখায় নাজিবের ঝো লোর সঙ্গে স্পষ্ট সম্পর্ক ও সংযোগ ছিল, যেখানে লো নাজিবের প্রক্সি ও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছিল। এই মন্তব্যটি নাজিবের প্রতিরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে চ্যালেঞ্জ করে।
বিচারক নাজিবের সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন যে তিনি কিছু অবৈধ তহবিলকে বৈধ বলে বিশ্বাস করতেন। তিনি বলেন, নাজিবের দায়িত্ব ছিল তহবিলের গতি ও গন্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখা, যা তিনি উপেক্ষা করেছেন।
এই রায়ের ফলে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দিকনির্দেশনা দেখা দিতে পারে। নাজিবের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও তার পারিবারিক দলের অবস্থান এখন অনিশ্চিত, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলমান।
মালয়েশিয়ার সরকার ও বিরোধী দলগুলো রায়ের পরিণতি নিয়ে বিশ্লেষণ চালিয়ে যাবে, যেখানে নাজিবের দোষী সাব্যস্ত হওয়া আইনগত ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অবশেষে, নাজিব রজাকের এই দোষী রায় মালয়েশিয়ার আর্থিক দুর্নীতি মোকাবেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে, যা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।



