মেলবোর্নের মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত চতুর্থ অশেস টেস্টের প্রথম দিনে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন‑আপ মাত্র ১১০ রান করে আউট হয়ে গেল। অস্ট্রেলিয়ার দল ২০টি উইকেট নেয়ার মাধ্যমে ১৯০৯ সাল থেকে প্রথম দিনেই সর্বোচ্চ উইকেট সংখ্যা রেকর্ড করেছে, যা এই সিরিজের পার্থের প্রথম দিনে গৃহীত ১৯টি উইকেটকে ছাড়িয়ে গেছে।
স্টিভ স্মিথ, অস্ট্রেলিয়ার অস্থায়ী ক্যাপ্টেন, পিচের ১০ মিমি লম্বা ঘাসের কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন যে ব্যাটসম্যানদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। তার এই মন্তব্যের পরই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা ১৫২ রান করে শেষ হয়ে গেল, এরপর ইংল্যান্ডের ব্যাটিং সেশনটি চা বিরতির পর দ্রুত ভেঙে পড়ে।
অস্ট্রেলিয়ার দলকে শেষ ইনিংসে মাত্র এক ওভার খেলতে হয়েছিল, যা টেস্ট ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো প্রথম দিনেই তৃতীয় ইনিংস শুরু হওয়ার ঘটনা। সিরিজে অস্ট্রেলিয়া এখন ৪-০ নেতৃত্বে, মোট ৪৬ রানের পার্থক্য নিয়ে।
পার্থে ১০৪ বছর পর প্রথম দুই‑দিনের অশেস টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মেলবোর্নে এই রেকর্ড পুনরায় ভাঙার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ মাত্র পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে আবারও দুই‑দিনের টেস্ট হতে পারে।
ইংল্যান্ডের ফিল্ডিং ও বোলিং পারফরম্যান্স পূর্বের উন্নত স্তর থেকে দূরে সরে গিয়েছিল। পেস বোলার জশ টংগের ৫ উইকেটের সঙ্গে ৪৫ রান দান করে দলের বোলিং বিভাগে একমাত্র উজ্জ্বল দিক হিসেবে দেখা গেল।
বাটিং দিক থেকে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা ২৯.৫ ওভারে সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়ে। শুরুর দিকে স্কোর ৮‑৩ এবং পরে ১৬‑৪ হয়ে গিয়েছিল, যা দ্রুত পতনের ইঙ্গিত দেয়।
হ্যারি ব্রুকের প্রথম বোলার মিচেল স্টার্কের উপর আক্রমণ প্রথমে অযৌক্তিক মনে হলেও, তার সাহসই ইংল্যান্ডকে সম্পূর্ণ পতন থেকে রক্ষা করে। ব্রুক ৪১ রান সংগ্রহ করে, যার মধ্যে দুইটি ছয়ও রয়েছে।
ইংল্যান্ডের অন্য দুই ব্যাটসম্যান বেন স্টোকস এবং গাস অ্যাটকিনসনই ডাবল ডিজিট স্কোর করতে সক্ষম হয়। তাদের ছাড়া অন্য কেউই দুই অঙ্কের বেশি রান করতে পারেনি।
অস্ট্রেলিয়ার বোলার মাইকেল নেসার চারটি উইকেট নেয়ার মাধ্যমে শীর্ষে ছিলেন, আর স্কট বল্যান্ড তিনটি উইকেটের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। বল্যান্ড রাতের ওয়াচম্যান হিসেবে ব্যাটিং শুরু করেন এবং পরে ব্রুককে লবওয়ে আউট করে দেন।
ইংল্যান্ডের অশেস পরাজয়ের পর নোসার ভ্রমণে অতিরিক্ত মদ্যপানের খবর প্রকাশ পায়। দলটি আশা করেছিল যে ক্রিকেটের মাঠে ফিরে এসে ক্রিসমাসের ছুটিতে কিছু স্বস্তি পাবে, তবে মাঠের পরিস্থিতি তা নিশ্চিত করতে পারেনি।
দুই সেশন জুড়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং পারফরম্যান্স দুর্বল দেখায়, যা টেস্ট সিরিজের সামগ্রিক চিত্রকে আরও কঠিন করে তুলেছে। অস্ট্রেলিয়ার পিচের শর্ত এবং দ্রুত গতি সম্পন্ন বোলিং ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
এই ম্যাচের পর অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের পরবর্তী টেস্টের সময়সূচি এখনও নির্ধারিত, তবে এই প্রথম দিনের নাটকীয়তা এবং রেকর্ড ভাঙা পারফরম্যান্স ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।



