২০২৬ সালের বিশ্বকাপের উদ্বোধনের আগে মাত্র ছয় মাস বাকি, তবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গরমের কারণে খেলোয়াড় ও দর্শকদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ে, পাশাপাশি স্টেডিয়াম পরিচালনা, টিকিট বিক্রয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আয়োজক সংস্থা এখনো চূড়ান্ত সমাধান খুঁজে বের করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
লস এঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়াম, যেখানে মোট আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে বিশেষভাবে ১৫টি শিল্পধর্মী মিস্টিং ফ্যান সংরক্ষিত রয়েছে। তাপমাত্রা ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ২৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস) অতিক্রম করলে এই ফ্যানগুলো স্টেডিয়ামের বিভিন্ন স্থানে চালু করা হবে। ফ্যানগুলোকে দুই মিটারের বেশি উচ্চতায় স্থাপন করা হয়েছে, যাতে শীতল বাতাস সরাসরি দর্শকদের দিকে পৌঁছায়।
স্টেডিয়ামের ছাদটি মাঠের উপরে প্রায় ৪৫ মিটার উচ্চতায় ঝুলে আছে, যা দর্শকদের জন্য ছায়া প্রদান করে। পাশাপাশি, স্টেডিয়ামের পার্শ্বে বড় বড় খোলা অংশ রয়েছে, যেখান থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের হালকা বাতাস প্রবেশ করে প্রাকৃতিক শীতলতা তৈরি করে। এই নকশা গরমের সময়েও কিছুটা স্বস্তি দেয় বলে আশা করা হচ্ছে।
স্টেডিয়াম পরিচালনাকারী সংস্থার অপারেশন ভাইস প্রেসিডেন্ট ওটো বেঞ্চেড উল্লেখ করেছেন, ৭০,০০০ দর্শককে একসাথে এক স্থানে সমাবেশ করানোর সময় তাপমাত্রা বাড়লে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য। তিনি বলেন, গরমের প্রভাব কমাতে ছায়া, বায়ুপ্রবাহ ও মিস্টিং ফ্যানের সমন্বয়ই এখনো সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
সোফি স্টেডিয়াম ছাড়াও বিশ্বকাপের মোট ১৬টি স্টেডিয়াম রয়েছে, তবে সবগুলোই আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ নয়। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নি অঞ্চলকে উচ্চ তাপমাত্রার ঝুঁকি বেশি বলে বিবেচনা করা হয় না, যদিও টুর্নামেন্টটি ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে, যা কাতারের শীতকালীন বিশ্বকাপের তিন বছর অর্ধেক পরের সময়।
জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক জার্নাল অফ বায়োমেটিওরোলজি-তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় গরমের কারণে খেলোয়াড় ও ম্যাচ অফিসারদের স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাবের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষণাটি ছয়টি শহরকে উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে: মন্টেরি, মিয়ামি, কানসাস সিটি, বস্টন, নিউ ইয়র্ক ও ফিলাডেলফিয়া। এই শহরগুলোতে গরমের তীব্রতা ও আর্দ্রতা এমন স্তরে পৌঁছাতে পারে, যা শারীরিক পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করতে পারে।
ফুটবল সংস্থার “পিচেস ইন পারিল” নামে একটি রিপোর্টও একই ধরনের সতর্কতা প্রকাশ করেছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, গরমের কারণে মাঠের পৃষ্ঠের গুণগত মান হ্রাস পেতে পারে, যা খেলোয়াড়দের পায়ের আঘাতের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া, গরমের সময় ম্যাচের সময়সূচি পরিবর্তন করা, সন্ধ্যায় বা রাত্রিকালীন খেলা আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
আয়োজক সংস্থা ইতিমধ্যে তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে এবং প্রতিটি স্টেডিয়ামে তাপমাত্রা মাপার সেন্সর স্থাপন করা হবে। তাপমাত্রা নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে ম্যাচের শুরুর সময় পরিবর্তন, হাফটাইমে অতিরিক্ত বিরতি বা হাইড্রেশন স্টেশন বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া, খেলোয়াড়দের জন্য শীতল পানীয় ও ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
গরমের ঝুঁকি সত্ত্বেও, বিশ্বকাপের সময়সূচি ও ম্যাচের সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। তবে, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত প্রযুক্তি ও পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। গরমের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা, হোস্ট দেশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা চলবে, যাতে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপটি সফল ও নিরাপদভাবে অনুষ্ঠিত হয়।



