19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধগাজীপুরের কনাবাড়ি জুট গুদামে আগুন, পাঁচটি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট কাজ চালিয়ে

গাজীপুরের কনাবাড়ি জুট গুদামে আগুন, পাঁচটি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট কাজ চালিয়ে

গাজীপুরের কনাবাড়ি এলাকায় আজ প্রাতঃকালে জুট (গার্মেন্টস বর্জ্য) গুদামে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট কাজ করছে। আগুনটি প্রায় সকাল ৪টায় ইয়াসিন এন্টারপ্রাইজের গুদামে শুরু হয় এবং তৎক্ষণাৎ আশেপাশের বাসা ও কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে না বলে জানা যায়। বর্তমানে আগুনের বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, তবে সম্পূর্ণ নিভে যেতে দু’ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

ইয়াসিন এন্টারপ্রাইজের গুদামটি জুট এবং অন্যান্য দাহ্য পদার্থে পরিপূর্ণ ছিল, যা অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। ফায়ার সার্ভিসের সূত্র অনুযায়ী, গুদামের ভিতরে সঞ্চিত বিশাল পরিমাণ জুট দ্রুত জ্বলে উঠার প্রধান কারণ। তবে, গুদাম থেকে আগুনের শিখা কোনো পার্শ্ববর্তী বাড়ি বা শিল্পস্থলে ছড়িয়ে না যাওয়ায় ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে।

কনাবাড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাইফুল ইসলাম সকাল ১১টায় জানান, “দ্রুতই আমাদের ইউনিটগুলোকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বর্তমানে আগুনের বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণে আছে, তবে সম্পূর্ণ নিভে যাওয়ার জন্য আরও দুই ঘন্টা সময় লাগতে পারে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অগ্নি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রাতঃকালের শূন্যতা ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে গুদাম থেকে ধোঁয়া ও শিখা উঁচুতে উঠতে দেখা যায়। তৎক্ষণাৎ তারা নিকটস্থ ফায়ার স্টেশনকে অবহিত করে, যার ফলে দ্রুত সাড়া পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ফায়ারফাইটাররা উচ্চ চাপের পানির জেট ব্যবহার করে অগ্নিকাণ্ড দমন করতে থাকে।

অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণহানি রিপোর্ট করা হয়নি, এবং কোনো আহত ব্যক্তির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়, গুদামের ভিতরে সঞ্চিত জুটের পরিমাণ এবং তার দাহ্য গুণাগুণই আগুনের দ্রুত বিস্তারকে ত্বরান্বিত করেছে। তবে, গুদামটি আশেপাশের বাড়ি ও কারখানার থেকে যথেষ্ট দূরে অবস্থিত হওয়ায় বড় ধরণের সম্পদ ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

অগ্নি নিয়ন্ত্রণের কাজ চলাকালীন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গুদামের কাঠামোগত ক্ষতি এবং জুটের পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য প্রাথমিক পরিদর্শন চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে, গুদামের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নথি, সঞ্চিত জুতের পরিমাণ, এবং নিরাপত্তা মানদণ্ডের অনুসরণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

অধিকন্তু, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ধারণের জন্য আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি গুদামের নিরাপত্তা ব্যবস্থার যথার্থতা, জুতের সঞ্চয় পদ্ধতি, এবং অগ্নি প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন পত্রের উপস্থিতি যাচাই করবে। প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পর, সংশ্লিষ্ট আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উল্লেখ করেন, গুদামের ভিতরে সঞ্চিত জুটের পরিমাণের কারণে অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে সঠিক সঞ্চয় পদ্ধতি ও নিরাপত্তা মানদণ্ডের প্রয়োগের গুরুত্বকে তুলে ধরে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষও এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গুদাম ও শিল্পস্থলগুলোর অগ্নি নিরাপত্তা পর্যালোচনা করার কথা জানিয়েছে।

সারসংক্ষেপে, গাজীপুরের কনাবাড়ি জুট গুদামে প্রাতঃকালের অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও, বড় পরিমাণ জুটের দাহ্যতা অগ্নিকাণ্ডকে দ্রুত বিস্তৃত করেছে। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত সাড়া এবং নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপের ফলে ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে। এখন তদন্ত চলমান, এবং ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments