22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমেঘনা নদীতে দুই লঞ্চের ধাক্কা, ঝালকাঠি পুলিশ চারজনকে আটক করেছে

মেঘনা নদীতে দুই লঞ্চের ধাক্কা, ঝালকাঠি পুলিশ চারজনকে আটক করেছে

শুক্রবার সকালেই চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে দুইটি যাত্রীবাহী লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটায়, ফলে দু’টি জাহাজের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কিছু যাত্রী আহত হয়। ঝালকাঠি থানা থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ‘অ্যাডভেঞ্চার‑৯’ লঞ্চের কর্মী অন্তর্ভুক্ত।

সংঘর্ষের সময় নদীর তীব্র কুয়াশা দৃশ্যমান ছিল, যা দু’টি জাহাজের দৃষ্টিপাতকে সীমিত করে দেয়। এই পরিবেশে ‘অ্যাডভেঞ্চার‑৯’ এবং ‘এমভি জাকির সম্রাট‑৩’ লঞ্চের মুখোমুখি হওয়া অবধি দুজনের গতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা দেখা দেয়।

‘অ্যাডভেঞ্চার‑৯’ লঞ্চে বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি দল ঢাকা থেকে অনুষ্ঠিত দলের জনসভা থেকে ফিরে আসছিল। তারা বৃহস্পতিবার রাতের দিকে ঝালকাঠি ফেরার পথে ছিলেন। একই সময়ে, ভোলার ঘোষেরহাট থেকে ঢাকা দিকে যাত্রা করা ‘এমভি জাকির সম্রাট‑৩’ লঞ্চটি রাত দুইটায় হাইমচর এলাকায় প্রবেশ করছিল।

কুয়াশার কারণে দু’টি জাহাজের মধ্যে দূরত্ব কমে যায় এবং হঠাৎ সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের মুহূর্তে ‘অ্যাডভেঞ্চার‑৯’ লঞ্চের সামনের অংশে দৃশ্যমান বিকৃতি দেখা যায়, যা জাহাজের কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

সংঘর্ষে আহতদের সংখ্যা নিশ্চিত না হলেও, জানা যায় যে আহতদের বেশিরভাগই জরুরি চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে‑ই‑বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এবং তাদের অবস্থার বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি।

ঝালকাঠি থানার সুপারইনস্পেক্টর মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় যে ‘অ্যাডভেঞ্চার‑৯’ লঞ্চটি প্রথমে ধাক্কা মেরেছে, ফলে তা দায়ী হিসেবে ধরা হয়।

এই ভিত্তিতে পুলিশ ‘অ্যাডভেঞ্চার‑৯’ লঞ্চের চারজন কর্মীকে গ্রেফতার করে এবং জেলখানায় আটক করে রাখে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ক্যাপ্টেন এবং সহকারী কর্মী অন্তর্ভুক্ত, যাদের বিরুদ্ধে লঞ্চের নিরাপত্তা মানদণ্ড লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মিজানুর রহমান গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, “যেহেতু প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে ‘অ্যাডভেঞ্চার‑৯’ প্রথমে ধাক্কা মেরেছে, তাই সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

পুলিশের মতে, লঞ্চের চালক ও সহকারী কর্মীদের লাইসেন্স, রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এছাড়া, কুয়াশা পরিস্থিতি এবং নৌচলাচল নিয়মাবলী লঙ্ঘনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে।

স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনাটিকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ঝালকাঠি থানা থেকে জানানো হয়েছে যে, তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দ্রষ্টব্য, এই ধরনের নৌযান দুর্ঘটনা পূর্বে বহুবার ঘটেছে, তবে কুয়াশা এবং রাতের সময়ে নেভিগেশন নিয়মের লঙ্ঘন বিশেষভাবে ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব এবং পর্যাপ্ত আলোর সরঞ্জামের অনুপস্থিতি এই ধরনের ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

অধিক তদন্তে দেখা যাবে যে, লঞ্চের মালিক ও পরিচালনাকারী সংস্থা কি নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রোটোকল অনুসরণ করেছে কিনা। এছাড়া, কুয়াশা পরিস্থিতিতে নৌচলাচল নিয়মাবলী মেনে চলা হয়েছে কিনা তা যাচাই করা হবে।

এই ঘটনার পর, স্থানীয় জনগণ এবং যাত্রীদের মধ্যে নৌযান নিরাপত্তা সম্পর্কে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে নৌচলাচল নিয়মাবলী কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হোক এবং কুয়াশা সময়ে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হোক।

প্রতিবেদন অনুসারে, আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মামলার ফাইল আদালতে দাখিল করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। আদালতের রায়ের পরেই চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারিত হবে।

এই ঘটনায় প্রভাবিত পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের জন্য স্থানীয় সমাজের সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, নৌযান পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর উপর নিরাপত্তা মানদণ্ড উন্নত করার চাপ বাড়ছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments