22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমার্কিন বিচারক ইমরান আহমেদের আটক অস্থায়ীভাবে রোধ করেন

মার্কিন বিচারক ইমরান আহমেদের আটক অস্থায়ীভাবে রোধ করেন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে একটি ফেডারেল আদালতে বিচারক ভেরন স. ব্রডেরিক ইমরান আহমেদকে, যিনি যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল হেট বিরোধী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা, তার প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা এবং সম্ভাব্য আটক থেকে রক্ষা করার জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন। আহমেদকে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে আটক করার পরিকল্পনা ছিল, যা তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করেন। এই সিদ্ধান্তটি বুধবার আদালতে তার দায়ের করা মামলার পরেই নেওয়া হয়।

ইমরান আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা এবং তার স্ত্রী ও সন্তানও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। তিনি সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজিটাল হেটের প্রতিষ্ঠাতা, যা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ঘৃণামূলক বিষয়বস্তু ও অ্যান্টি-সেমিটিজমের বিরুদ্ধে কাজ করে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি এবং চারজন সহকর্মীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্তের মুখে পড়ে, যার কারণ সরকার দাবি করে যে তারা টেক কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট মতামত দমন করতে চাপ দিচ্ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্কো রুবিও এই ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন যে তারা আমেরিকান প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি দমন করতে এবং বিরোধী মতামতকে শাস্তি দিতে চাপ দিচ্ছিল। রুবিওর মতে, এমন কার্যকলাপ জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রকাশের স্বাধীনতার নীতির বিরোধী।

আহমেদ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা দায়ের করেন, যেখানে তিনি রাষ্ট্রদূত রুবিও এবং যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পামেলা বন্ডিকে অভিযুক্ত করেন। তিনি দাবি করেন যে তার গ্রিন কার্ডধারী অবস্থান সত্ত্বেও তাকে আটক করা এবং সম্ভবত দেশ থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া তার পারিবারিক জীবনের ওপর অনধিকৃত প্রভাব ফেলবে।

ব্রডেরিক জুডিশিয়াল রেকর্ডে দেখা যায়, তিনি আহমেদের অস্থায়ী রেস্ট্রেইনিং অর্ডার (TRO) অনুমোদন করেন, যার মাধ্যমে সরকারকে তার আটক বা ডিপোর্টেশন করার আগে আদালতে তার যুক্তি শোনার সুযোগ দিতে বাধ্য করা হয়। এই অর্ডারটি তৎকালীনভাবে কার্যকর হয় এবং আহমেদের বিরুদ্ধে কোনো অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত রাখে।

আহমেদ আদালতের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তিনি কোনো ধরনের ভয় বা হুমকির মুখে না থেকে তার কাজ চালিয়ে যাবেন, বিশেষ করে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা এবং অ্যান্টি-সেমিটিজমের বিরুদ্ধে লড়াই। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে তার পরিবারকে ছেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, এখন তিনি আইনগত সুরক্ষায় আছেন।

আহমেদের আইনজীবী রবার্টা ক্যাপলান উল্লেখ করেন যে বিচারকের দ্রুত সিদ্ধান্ত সরকারী নীতি ও মানবিক অধিকারগুলোর মধ্যে তীব্র টানকে প্রকাশ করে। তিনি বলেন, গ্রিন কার্ডধারী কোনো ব্যক্তিকে অবিলম্বে বহিষ্কৃত করা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির মৌলিক নীতির বিরোধী।

রাষ্ট্রদূত বিভাগের মুখপাত্রের মন্তব্যে উল্লেখ করা হয় যে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ও কংগ্রেস স্পষ্টভাবে বলেছে, দেশটি বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ বা বসবাসের বাধ্যবাধকতা বহন করে না। এই বক্তব্যটি সরকারী নীতির আইনি ভিত্তি তুলে ধরে এবং আহমেদের মামলায় প্রাসঙ্গিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ইউরোপীয় দেশগুলোর নেতারা এই সিদ্ধান্তের ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করে, বিশেষ করে অনলাইন বিষয়বস্তু পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার কাজকে সমর্থন করার কথা বলেন। তারা যুক্তি দেন, এমন নিষেধাজ্ঞা প্রকাশের স্বাধীনতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।

পরবর্তী পর্যায়ে, আহমেদের মামলাটি পূর্ণ শুনানির দিকে অগ্রসর হবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি, ডিজিটাল হেট বিরোধী কার্যক্রম এবং প্ল্যাটফর্মের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে বিস্তৃত বিতর্ক প্রত্যাশিত। বিচারকের অস্থায়ী রেস্ট্রেইনিং অর্ডারটি সরকারকে আইনি প্রক্রিয়ার আগে কোনো একতরফা পদক্ষেপ নিতে বাধা দেবে, ফলে এই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতিতে কী প্রভাব ফেলবে তা দেখা বাকি।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments