১৪ বছর বয়সী ক্রিকেট প্রতিভা বৈভাব সুরিয়াভানশি, এই শুক্রবার দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় শিশু পুরস্কার গ্রহণ করবেন। ভারতের সর্বোচ্চ শৈশব‑কিশোর সম্মাননা এই পুরস্কার, যা ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সের তরুণদের অসামান্য দক্ষতা ও অর্জনের জন্য প্রদান করা হয়।
সুরিয়াভানশি বর্তমানে বিহার দলের হয়ে খেলছেন, তবে ভিজায় হাজারে ট্রফি উদ্বোধনী ম্যাচের পর তিনি দল থেকে সাময়িকভাবে বিরত থাকবেন। কোচ মানিশ ওঝা জানান, পুরস্কার গ্রহণের পর তিনি অল্প সময়ের মধ্যে ভারতীয় যুব দলের অধিবাসী ক্যাম্পে যোগ দেবেন, যেখানে তিনি অধীন-১৯ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নেবেন।
গত বুধবারের ভিজায় হাজারে ট্রফি উদ্বোধনী ম্যাচে সুরিয়াভানশি ১৫ বলের মধ্যে ৮৪ রান তৈরি করেন, মোট ১৯০ রানের ইনিংসের অংশ হিসেবে। ৩৬ বলের সেঞ্চুরি করে তিনি লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সর্বনিম্ন বয়সে শতকোটি রেকর্ড স্থাপন করেন – ১৪ বছর ২৭২ দিন। একই ইনিংসে ৫৯ বলেই তিনি দেড়শত রান সম্পন্ন করে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম দেড়শত রেকর্ডের ধারকও হন।
বৈভাবের শৈশবের কোচ ওঝা উল্লেখ করেন, এই পুরস্কার সুরিয়াভানশির জন্য এক ধরনের স্বীকৃতি, যিনি ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকভাবে উচ্চমানের পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, সুরিয়াভানশি এখনো পূর্ণ সময়ের ওপেনার হিসেবে বিহার দলের সঙ্গে যুক্ত নন, তবে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যুব দলের ক্যাম্পে অংশগ্রহণের দিকে কেন্দ্রীভূত।
সুরিয়াভানশি প্রথমবারের মতো ১৩ বছর বয়সে আইপিএল নিলামে দল পেয়ে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে সাতটি ম্যাচে ২৫২ রান সংগ্রহ করেন, যার স্ট্রাইক রেট ২০৬.৫৫। এই পারফরম্যান্স তাকে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে পরিচিত করে, যা আইপিএল ইতিহাসে একটি মাইলফলক।
আইপিএল পরবর্তী সময়ে তিনি অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড সফরে সেঞ্চুরি করেন। ইংল্যান্ডের যুব ওয়ানডে সিরিজে ৩৫৫ রান তৈরি করে ১৭৪ স্ট্রাইক রেটে পারফর্ম করেন। এখন পর্যন্ত তিনি ১৫টি যুব ওয়ানডে ম্যাচে ৭৬৭ রান সংগ্রহ করেছেন, গড়ে ৫১.১৩ এবং স্ট্রাইক রেট ১৫৮.৭৯। এই পরিসংখ্যান তাকে দেশের তরুণ ক্রিকেটারদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় করে তুলেছে।
সম্প্রতি তিনি ইউ-১৯ এশিয়া কাপের ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ১৪ বলের মধ্যে ৯৫ রান করেন, মোট ১৭১ রানের ইনিংসের অংশ হিসেবে। এই পারফরম্যান্স তার ধারাবাহিকতা ও আক্রমণাত্মক শৈলীর প্রমাণ।
পুরস্কার অনুষ্ঠানে ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন, যা সুরিয়াভানশির অর্জনকে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি দেয়। কোচ ওঝা আশা প্রকাশ করেন, এই সম্মান সুরিয়াভানশির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে এবং তিনি আরও বড় মঞ্চে নিজের ছাপ ফেলবেন।
সুরিয়াভানশির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট: অধীন-১৯ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি, যুব দলের ক্যাম্পে অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করা। তার বয়সের তুলনায় অর্জিত রেকর্ড ও পারফরম্যান্স তাকে ভারতের ক্রিকেটের নতুন দিগন্তে নিয়ে যাবে, যা দেশের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য একটি উদাহরণস্বরূপ মডেল।
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই সম্মানজনক অনুষ্ঠান সুরিয়াভানশির ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা তার পরবর্তী চ্যালেঞ্জের জন্য শক্তি ও প্রেরণা যোগাবে।



