২৬ ডিসেম্বর, মধ্য ইউরোপের আল্পস পর্বতমালায় অবস্থিত স্লোভেনিয়া স্বাধীনতা ও ঐক্য দিবস পালন করে। এই দিনটি ১৯৯০ সালের একই তারিখে সরকারীভাবে ঘোষিত হয় যে স্লোভেনিয়ার জনগণ ইউগোস্লাভিয়া থেকে আলাদা হয়ে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠন করতে চায়। ১৯৯০ সালের ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘স্লোভেনিয়া কি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হবে?’ প্রশ্নের উত্তরে প্রায় ৯৫ শতাংশ ভোটার স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দেন, এবং তিন দিন পর লুবলিয়ানা পার্লামেন্টে ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়।
ভোটের ফলাফল স্লোভেনিয়ার জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে গণ্য হয়। এই গণভোটের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা ইউগোস্লাভিয়ার সমাজতান্ত্রিক ফেডারেশন থেকে বিচ্ছিন্নতার ভিত্তি স্থাপন করে। ভোটের পরপরই দেশজুড়ে একতা ও আনন্দের পরিবেশ দেখা যায়; রাজনৈতিক পার্থক্যগুলো সাময়িকভাবে পেছনে সরিয়ে সবাই একত্রে জাতীয় পতাকার নিচে সমবেত হয়।
যদিও গণভোটের মাধ্যমে মানসিক বিজয় অর্জিত হয়, তবে স্বতন্ত্রতা নিশ্চিত করার জন্য স্লোভেনিয়াকে সামরিকভাবে লড়াই করতে হয়। ১৯৯১ সালের জুনে, ইউগোস্লাভিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার ও স্লোভেনিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলনের মধ্যে দশ দিনের সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ ঘটে, যা শেষ পর্যন্ত স্লোভেনিয়ার পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করে। এই সংঘর্ষের পর স্লোভেনিয়া আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় এবং পরবর্তীতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোতে যোগদান করে।
আজকের স্লোভেনিয়ায় ২৬ ডিসেম্বর সরকারি ছুটি হিসেবে নির্ধারিত। দেশের প্রতিটি বাড়ি জাতীয় পতাকায় সজ্জিত থাকে, এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই দিনটি স্লোভেনিয়ার জনগণের জন্য আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার গর্বের মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়, এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উদযাপিত হয়।
স্লোভেনিয়ার স্বাধীনতা ও ঐক্য দিবসের গুরুত্বকে তুলনা করে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও জনগণের ভোট ও মতামতকে কেন্দ্রীয় ভূমিকা হিসেবে গণ্য করা হয়। উভয় দেশের ইতিহাসে জনগণের ম্যান্ডেটকে গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, ইউগোস্লাভিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এই বিচ্ছিন্নতাকে হুমকি হিসেবে দেখেছিল এবং স্লোভেনিয়ার স্বায়ত্তশাসনকে রোধ করার জন্য রাজনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করে। তবে গণভোটের বৈধতা ও উচ্চ ভোটদান হার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পায়, যা স্লোভেনিয়ার স্বাধীনতা প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকোণ থেকে, স্বাধীনতা ও ঐক্য দিবস স্লোভেনিয়ার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ইউরোপীয় সংহতির প্রতীক হিসেবে কাজ করে। এই দিনটি দেশের অভ্যন্তরে জাতীয় সংহতি বজায় রাখতে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্লোভেনিয়ার স্বতন্ত্র পরিচয়কে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে স্লোভেনিয়া তার অভ্যন্তরীণ নীতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই ঐতিহাসিক দিনকে স্মরণীয় রূপে ব্যবহার করে।
সারসংক্ষেপে, ২৬ ডিসেম্বর স্লোভেনিয়ার জন্য কেবল একটি সরকারি ছুটি নয়, বরং একটি জাতীয় স্মারক যা স্বাধীনতা অর্জনের পথে জনগণের ঐক্য, দৃঢ়সংকল্প এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে পুনরায় নিশ্চিত করে। এই দিনটি স্লোভেনিয়ার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ রাখে।



