বাংলাদেশে 5জি হ্যান্ডসেটের স্থানীয় উৎপাদন অক্টোবর মাসে এক লাখের সীমা অতিক্রম করেছে, যা জুন ২০২৪‑এর পর দ্বিতীয়বার এই স্তরে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে ১.০৮ লক্ষ ইউনিট উৎপাদিত হয়েছে, যা সেপ্টেম্বরের ৬৩,০০০ ইউনিটের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। একই বছর জুন মাসে উৎপাদন শীর্ষে পৌঁছে ১.৫৫ লক্ষ ইউনিট রেকর্ড করা হয়েছিল।
এই উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে মোবাইল অপারেটরদের সীমিত বাণিজ্যিক 5জি সেবা চালু করা একটি প্রধান কারণ। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে রবি অক্ষিতা ও গ্রামীণফোনের কিছু এলাকায় 5জি নেটওয়ার্ক চালু করা হয়। গ্রামীণফোন আটটি বিভাগীয় সদর দফতরে 5জি সেবা প্রদান করেছে, যদিও কভারেজ এখনো নির্বাচিত এলাকায় সীমাবদ্ধ। রবি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের কিছু অংশে 5জি সেবা চালু করেছে।
স্থানীয় উৎপাদনকারীরা এই সেবা সম্প্রসারণকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছে। ইস্মার্টু টেকনোলজি বিডি লিমিটেডের সিইও রেজওয়ানুল হক উল্লেখ করেন, দেশের 5জি প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকদের 5জি সমর্থিত হ্যান্ডসেটের চাহিদা বাড়ছে, তাই উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, টেকনো ব্র্যান্ডের জন্য দেশীয়ভাবে চারটি 5জি স্মার্টফোন মডেল ইতিমধ্যে বাজারে আনা হয়েছে।
হক আরও জানান, বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে এখন 5জি ডিভাইসের আধিপত্য রয়েছে, ফলে অনেক স্থানীয় নির্মাতা তাদের উৎপাদন লাইন 5জি মডেলে রূপান্তরিত করেছে। তিনি যোগ করেন, ৩০,০০০ টাকার উপরে মূল্যের হ্যান্ডসেটের ক্ষেত্রে গ্রাহকরা 5জি সমর্থনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
বিটিআরসির সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত মোট ডিভাইসের প্রায় ৬২ শতাংশ স্মার্টফোন, যার বেশিরভাগই 4জি সক্ষম। তবে 5জি নেটওয়ার্কে সংযোগের সক্ষমতা থাকা ডিভাইসের হার মাত্র ৬.৬ শতাংশে সীমাবদ্ধ। এই পরিসংখ্যান নির্দেশ করে যে 5জি গ্রহণের জন্য এখনও বড় পরিসরে হ্যান্ডসেট পরিবর্তন প্রয়োজন।
স্মার্টফোন বাজারের অর্ধেকের বেশি অংশ আমদানি করা বা বিদেশে বসবাসকারী বংশধরদের উপহার হিসেবে প্রাপ্ত ডিভাইস দ্বারা গঠিত। এই আমদানি করা হ্যান্ডসেটের বেশিরভাগই উচ্চমানের 5জি-সক্ষম মডেল, যা স্থানীয় উৎপাদনের তুলনায় দাম ও স্পেসিফিকেশন দুটোই বেশি। ফলে, দেশীয় উৎপাদনকারীদের জন্য উচ্চমূল্যের সেগমেন্টে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
উৎপাদন বৃদ্ধি এবং অপারেটরদের ধীরে ধীরে কভারেজ সম্প্রসারণের ফলে আগামী বছরগুলোতে 5জি হ্যান্ডসেটের বাজার শেয়ার দ্রুত বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, গ্রাহকের চাহিদা যদি টাকার সীমা অতিক্রম করে 5জি সমর্থনযুক্ত ডিভাইসের দিকে ঝুঁকে থাকে, তবে স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো উচ্চমানের মডেল বিকাশে আরও বিনিয়োগ করবে।
অবশেষে, 5জি নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি এবং স্থানীয় উৎপাদনের উত্থান দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এটি কেবল দ্রুত ডেটা সংযোগই নয়, বরং ই-কমার্স, টেলিমেডিসিন ও স্মার্ট সিটি প্রকল্পের জন্য ভিত্তি স্থাপন করবে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে।



