19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাশীতকালীন সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়ে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে

শীতকালীন সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়ে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে

ঢাকার প্রধান কৃষি বাজারগুলোতে শীতকালীন সবজির পূর্ণ মৌসুমের ফলে সরবরাহে তীব্র বৃদ্ধি দেখা গেছে, যার ফলে বেশিরভাগ শাকসবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজারে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে জানা যায়, বিক্রেতারা একাধিক সপ্তাহের অতিরিক্ত সরবরাহের কথা জানিয়েছেন।

শীতের এই মৌসুমে টমেটো, শিম, মুলা, শালগম, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি এবং ব্রকলি সহ বিভিন্ন শাকসবজি বাজারে প্রচুর পরিমাণে পৌঁছেছে, ফলে কেজি দরে ৫০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, দেশি টমেটোর দাম বর্তমানে ৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল, যা পূর্বের ১০০-১৫০ টাকার দামের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস।

পেঁয়াজের ক্ষেত্রে, পুরোনো পেঁয়াজের সরবরাহ প্রায় শেষ হয়ে গেছে এবং নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ তিন সপ্তাহ ধরে বাজারে রয়েছে। শুরুর দিকে নতুন পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ১৩০-১৫০ টাকা ছিল, তবে সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে কেজি ৬০-৭০ টাকায় নেমে এসেছে। একই সময়ে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ৭০-৭৫ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল, যা নির্দেশ করে পেঁয়াজের দাম প্রায় অর্ধেক কমেছে।

আলুর দিকেও একই প্রবণতা দেখা যায়। পুরোনো আলু বাজারে আর নেই, নতুন মৌসুমের আলু কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্রি হচ্ছে। মৌসুমের শুরুর দিকে আলুর দাম কেজি ১০০ টাকার উপরে ছিল, কিন্তু এখন তা ২০-২৫ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে এবং গত এক সপ্তাহে দামে প্রায় ১০ টাকার হ্রাস ঘটেছে।

মরিচের দামেও স্থিতিশীলতা দেখা যায়; গতকাল কেজি ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা গত সপ্তাহের দামের সমান। তবে মরিচের দাম পূর্বে ১০০ টাকার উপরে ছিল, তাই বর্তমান দামের হ্রাস সরবরাহের বাড়তি পরিমাণের ফল।

এক মাসেরও বেশি আগে সবজির দাম বেশ উঁচু ছিল; অধিকাংশ শাকসবজির কেজি দামের পরিসীমা ১০০-১৫০ টাকার মধ্যে ছিল। এখন অধিকাংশ শীতকালীন শাকসবজি ৫০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে, যদিও মৌসুমের বাইরে থাকা কিছু শাকসবজির দাম এখনও ৮০-১০০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

বিনের দামের ক্ষেত্রে, বিভিন্ন প্রজাতির শিম কেজি প্রতি ৪০-৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা গ্রীষ্মকালে ১২০ টাকার বেশি দামের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সাশ্রয়। বেগুনের দামও একইভাবে কমে কেজি ৬০-৮০ টাকায় স্থিতিশীল, যেখানে গ্রীষ্মে দাম ১২০ টাকার উপরে ছিল।

মুলা, শালগম এবং পেঁপে কেজি প্রতি প্রায় ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা পূর্বের উচ্চ দামের তুলনায় গ্রাহকদের জন্য স্বস্তিকর। এ সব শাকসবজির দাম হ্রাসের ফলে গৃহস্থালী ব্যয় কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

মুরগি, ডিম এবং মাছের দাম পূর্বের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে, ফলে প্রোটিনের মূল্যে কোনো বড় পরিবর্তন ঘটেনি। এই স্থিতিশীলতা সবজির দামের হ্রাসের সঙ্গে মিলিয়ে মোট খাদ্য ব্যয়ের ভার হালকা হতে পারে।

বাজারে সরবরাহের অতিরিক্ততা মূলত শীতের মৌসুমের ফল, যখন বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা একসঙ্গে ফসল তোলেন। এই সমন্বিত উৎপাদন শাকসবজির বাজারে ভারসাম্য রক্ষা করেছে এবং দামকে স্বাভাবিক স্তরে নামিয়ে এনেছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, বর্তমান সরবরাহের পরিমাণ এবং দাম হ্রাসের প্রবণতা স্বল্পমেয়াদে বজায় থাকলে গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে এবং বিক্রেতাদের জন্যও বিক্রয় পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। তবে, যদি সরবরাহের অতিরিক্ততা দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত থাকে, তবে কৃষকদের আয় কমে যাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

সারসংক্ষেপে, শীতকালীন সবজির মৌসুমের ফলে বাজারে সরবরাহের তীব্র বৃদ্ধি এবং দাম হ্রাস ঘটেছে, যা গৃহস্থালী ব্যয় কমাতে সহায়ক। তবে, সরবরাহের অতিরিক্ততা ও মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কৃষক ও বিক্রেতাদের জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা প্রয়োজন।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments