রাজবাড়ি জেলার পাংশা উপজেলায় বুধবার রাত ১১ টার কাছাকাছি হোসেনডাঙ্গা গ্রামে এক গ্যাং নেতা হিংসাত্মক গ্যাংদলীর হাতে প্রাণ হারান। মৃতের পরিচয় অমৃত মন্ডল, যাকে সাম্রাট নামেও চেনা যায়, স্থানীয়দের মতে গ্যাং গঠন ও জবরদস্তি সহ অপরাধে লিপ্ত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, হোসেনডাঙ্গা গ্রাম, কলিমহর ইউনিয়নের এই ঘটনা ঘটার পর তৎক্ষণাৎ পাংশা সি.ই.আই.ডি.এর সহকারী সুপারইন্টেন্ডেন্ট দেবরত সর্কার ঘটনাস্থলে পৌঁছান। গ্যাংদলীর আক্রমণে সাম্রাট গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে রাত ২ টার দিকে ডাক্তারদের ঘোষণায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
গ্যাংদলীর সঙ্গে সাম্রাটের এক সহকর্মী মোহাম্মদ সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি পিস্তল ও এক শ্যুটার গন উদ্ধার করা হয়। সেলিমকে গ্যাংদলীর সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করে গৃহবন্দি করা হয়েছে।
পুলিশের মতে, সাম্রাটের বিরুদ্ধে পাংশা থানা থেকে অন্তত দুইটি মামলা দায়ের রয়েছে, যার মধ্যে একটি হত্যার মামলা। স্থানীয় মানুষদের কথায়, সাম্রাট দীর্ঘদিন জবরদস্তি ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত ছিলেন এবং ভারতীয় সীমান্তে লুকিয়ে থাকায় বেশ কিছু সময়ের জন্য গ্রাম থেকে অনুপস্থিত ছিলেন। সাম্প্রতিককালে তিনি ফিরে এসে গ্রামবাসীর কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন।
বিক্রেতা গ্রামবাসী যখন টাকা দিতে অস্বীকার করেন, তখন সাম্রাট ও তার দলের সদস্যরা গ্রামবাসীর বাড়িতে গিয়ে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করেন। বাড়ির লোকজন “দস্যা” বলে চিৎকার করে সতর্কতা জানায়, ফলে আশেপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্যাংদলীর সদস্যদের ওপর আক্রমণ করে। সাম্রাটের অন্যান্য সঙ্গীরা পালিয়ে যায়, তবে সেলিমকে গুলি ও অস্ত্রের সঙ্গে ধরা পড়ে।
অধিকন্তু, একই দিনে রাজবাড়ি জেলার গুলশান এলাকায় বিএনপি নেতা তারেক রহমানের গৃহপরিদর্শন শেষ করে তিনি গুলশানের বাড়িতে ফিরে আসেন। তারেক রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রী ও মেয়ে ছিলেন। গৃহে ফিরে তিনি তরুণ প্রজন্মকে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করতে আহ্বান জানান।
তারেকের এই মন্তব্যের সঙ্গে একই সময়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুই নেতার এই সাক্ষাৎকারে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়।
পুলিশের মতে, হোসেনডাঙ্গা গ্রামে গ্যাংদলীর আক্রমণ ও গ্যাং নেতা মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা উন্মোচন করেছে। গ্যাংদলীর বিরুদ্ধে ত্বরিত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মৃতের দেহ রাজবাড়ি সদর হাসপাতালের মরগে পাঠিয়ে অটোপসি করা হবে।
এই ঘটনার পর, পাংশা থানা প্রধান গ্যাংদলীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি, স্থানীয় প্রশাসন গ্রামবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
রাজবাড়ি জেলার এই হিংসাত্মক ঘটনা এবং একই সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের গৃহপরিদর্শন ও মন্তব্য দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে গ্যাংদলীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক নেতাদের শান্তি বজায় রাখার আহ্বান দুটোই সমন্বিতভাবে কার্যকর হতে পারে।



