পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি, দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর কারাগারে আটক হয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার এলিস জিল এডওয়ার্ডস গত সপ্তাহে তাদের আটক পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানিয়েছেন যে বর্তমান শর্তাবলী বুশরা বিবির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করতে পারে এবং দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইমরান খান ও বুশরা বিবি গত জানুয়ারিতে দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে শাস্তি পেয়েছেন। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর দুজনেই পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত হয়েছেন, যেখানে তাদের অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নজর রাখছেন। এই ঘটনার পর থেকে মানবাধিকার সংস্থাগুলি ধারাবাহিকভাবে কারাবন্দি শর্তাবলী নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
এডওয়ার্ডস উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হল আটক ব্যক্তির স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মানবিক মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবেশ প্রদান করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে বুশরা বিবি বর্তমানে একটি ছোট ও অপরিচ্ছন্ন সেলে রাখা হয়েছে, যা তার স্বাস্থ্যের জন্য অনুকূল নয়। এ ধরনের শর্তাবলী দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক অসুস্থতা এবং মানসিক চাপ বাড়াতে পারে।
বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার আরও উল্লেখ করেন যে, কোনো বন্দিকে অতিরিক্ত গরম, দূষিত খাবার বা পানির সংস্পর্শে আনা উচিত নয়, বিশেষ করে যদি তার পূর্বে কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকে। তিনি বলেন, বর্তমান শর্তাবলী এমন পরিবেশ তৈরি করছে যেখানে বিদ্যমান স্বাস্থ্য সমস্যাগুলি তীব্রতর হতে পারে। এধরনের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এডওয়ার্ডস পাকিস্তান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন যে, বুশরা বিবির বর্তমান অবস্থার বিষয়ে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আটক অবস্থার সব দিকই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। সরকারকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা, পরিষ্কার পানি এবং উপযুক্ত শারীরিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
পাকিস্তান সরকারকে এডওয়ার্ডসের আহ্বান অনুসরণ করে বুশরা বিবির স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, যদি এই উদ্বেগগুলো উপেক্ষা করা হয়, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে অতিরিক্ত চাপ ও সমালোচনা আসতে পারে। সরকারকে দ্রুত একটি স্বচ্ছ সমাধান উপস্থাপন করতে হবে, যাতে মানবিক নীতির লঙ্ঘন না হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে, এই বিষয়টি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। ইমরান খান ও তার স্ত্রীর কারাবন্দি অবস্থার ওপর আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়লে সরকারকে মানবাধিকার সংক্রান্ত নীতি পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে। একই সঙ্গে, বিরোধী দলগুলো এই বিষয়টি ব্যবহার করে বর্তমান শাসনের সমালোচনা বাড়াতে পারে।
অবশেষে, এডওয়ার্ডসের মন্তব্য পাকিস্তানকে মানবিক দায়িত্বের পুনর্বিবেচনা করতে এবং বুশরা বিবির স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়। এই পরিস্থিতি সমাধান না হলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার কাছ থেকে আরও কঠোর সমালোচনা ও সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে পারে। সরকারকে এখনই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে হবে।



