প্রাইম ব্যাংক পিএলসি এবং ফেম গ্রুপ সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা শহরের ব্যাংকের কর্পোরেট অফিসে একটি পে‑রোল চুক্তি সম্পন্ন করেছে। চুক্তির মাধ্যমে ফেম গ্রুপের কর্মচারীরা প্রাইম ব্যাংকের বিশেষ ব্যাংকিং সুবিধা ও ডিজিটাল পে‑রোল সেবা পাবে। উভয় সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এই চুক্তি অনুসারে ফেম গ্রুপের কর্মচারীরা প্রাইম ব্যাংকের বিভিন্ন সুবিধা পাবেন, যার মধ্যে রয়েছে অগ্রাধিকার ভিত্তিক সেবা, ক্রেডিট কার্ড ও ঋণ সুবিধা। এছাড়া তারা প্রাইমপে নামক ডিজিটাল পে‑রোল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় বেতন বিতরণ ও ২৪ ঘন্টার কর্পোরেট পেমেন্ট সেবা ব্যবহার করতে পারবেন।
প্রাইমপে একটি ক্লাউড‑ভিত্তিক সিস্টেম, যা বেতন প্রক্রিয়াকরণে মানবিক ত্রুটি কমিয়ে আনে এবং সময়মত পেমেন্ট নিশ্চিত করে। সিস্টেমটি রিয়েল‑টাইমে লেনদেন রেকর্ড করে, ফলে হিসাবরক্ষণে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। কর্মচারীরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তাদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক তথ্য সহজে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
চুক্তির স্বাক্ষরকারী হিসেবে প্রাইম ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এম নাজিম এ চৌধুরী এবং ফেম গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাসুদ আলাম নাম উল্লেখযোগ্য। উভয় সংস্থার প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রাইম ব্যাংকের সিইভিপ মামুর আহমেদ, সিভিপি মেহেদি জমান খান এবং ভিপ হাসিনা ফারদৌস উপস্থিত ছিলেন। ফেম গ্রুপের সিওও মো. গোলাম কবির, ফাইন্যান্স অ্যাডভাইজার পারিতোষ সarker, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (অ্যাডমিন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুরাদ জমান (অবসরপ্রাপ্ত) এবং জেনারেল ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রাইম ব্যাংকের জন্য এই চুক্তি পে‑রোল ব্যাংকিং সেক্টরে তার উপস্থিতি শক্তিশালী করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। ফেম গ্রুপের মতো বড় কর্পোরেট ক্লায়েন্টের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে ব্যাংকটি নতুন আয় উৎস তৈরি করতে পারে। এছাড়া ডিজিটাল পে‑রোল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়লে লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে, যা ব্যাংকের মোট আয় ও বাজার শেয়ার বাড়াতে সহায়তা করবে।
ফেম গ্রুপের দৃষ্টিকোণ থেকে চুক্তি কর্মচারী ব্যবস্থাপনা সহজতর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। স্বয়ংক্রিয় বেতন বিতরণ সিস্টেমের মাধ্যমে পে‑রোল প্রক্রিয়ার সময় ও খরচ কমবে, ফলে মানবসম্পদ বিভাগে কাজের দক্ষতা বাড়বে। তদুপরি, কর্মচারীরা দ্রুত ও নিরাপদে তাদের বেতন পাবে, যা কর্মী সন্তুষ্টি ও সংস্থার অভ্যন্তরীণ মনোবল বাড়াতে পারে।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং বাজারে পে‑রোল সেবা সম্প্রতি দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। ডিজিটালাইজেশন ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের প্রসার সঙ্গে সঙ্গে কর্পোরেট ক্লায়েন্টদের চাহিদা বাড়ছে। প্রাইম ব্যাংকের এই পদক্ষেপটি বাজারের প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং প্রতিযোগীদের তুলনায় একটি পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
তবে নতুন সিস্টেমের বাস্তবায়নে কিছু ঝুঁকি অগ্রাহ্য করা যায় না। ডেটা সিকিউরিটি, সিস্টেমের স্থায়িত্ব এবং কর্মচারীদের নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়াবে। এই ঝুঁকিগুলি কমাতে যথাযথ সাইবার সিকিউরিটি ব্যবস্থা ও ব্যবহারকারীর প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
ভবিষ্যতে প্রাইম ব্যাংক এই ধরনের চুক্তি অন্যান্য শিল্পখাতে বিস্তৃত করার সম্ভাবনা বিবেচনা করতে পারে। ফেম গ্রুপের বিভিন্ন শাখা ও সহযোগী সংস্থার সঙ্গে একই প্ল্যাটফর্ম শেয়ার করলে স্কেল ইকোনমি অর্জন করা যাবে। এছাড়া ফিনটেক পার্টনারশিপের মাধ্যমে অতিরিক্ত সেবা, যেমন ইনস্ট্যান্ট লোন ও সেভিংস প্রোডাক্ট, যুক্ত করা সম্ভব।
সামগ্রিকভাবে, প্রাইম ব্যাংক ও ফেম গ্রুপের পে‑রোল চুক্তি উভয় সংস্থার জন্য কৌশলগত সুবিধা প্রদান করে। ব্যাংকটি তার কর্পোরেট পোর্টফোলিও সম্প্রসারিত করবে, আর ফেম গ্রুপ তার মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করবে। উভয় পক্ষের সহযোগিতা বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করবে।
এই চুক্তি ব্যবসা ও আর্থিক খাতে ডিজিটাল রূপান্তরের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। ভবিষ্যতে আরও সংস্থা এই ধরনের সমন্বয়মূলক সেবা গ্রহণের মাধ্যমে কার্যকরী দক্ষতা ও গ্রাহক সন্তুষ্টি বাড়াতে পারে।



