বিপিএল শুরুর আগে মাত্র এক দিন বাকি, নোয়াখালি এক্সপ্রেসের প্রধান কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন ও বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের অনুশীলন মাঠ থেকে বিদায় নিলেন। দলটি অনুশীলনের সময় সরঞ্জামের ঘাটতি, দায়িত্বহীন ব্যবস্থাপনা এবং বেতন না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সিলেট ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়।
বিপিএল শুরুর ২৪ ঘণ্টা বাকি থাকায় ফ্র্যাঞ্চাইজি দলগুলোতে একের পর এক অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। মালিকানা জটিলতার পর এবার নোয়াখালি এক্সপ্রেসের কোচিং স্টাফের পদত্যাগ দলকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
সিলেটের অনুশীলন মাঠে কোচরা সরঞ্জামের অভাবের মুখোমুখি হন। বল, ব্যাট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী যথাযথ সময়ে সরবরাহ না হওয়ায় প্রশিক্ষণ সুষ্ঠুভাবে চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। কোচিং স্টাফের মতে, এই ঘাটতি দলীয় প্রস্তুতিতে বড় বাধা সৃষ্টি করেছে।
তালহা জুবায়ের মতে, “আমাদের কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি, তাই আমরা কোচ হিসেবে সীমিত কাজ করতে পারি।” তিনি আরও যোগ করেন, “অনুশীলনের সময় বলের সরবরাহ সময়মতো না হওয়ায় খেলোয়াড়দের কাছ থেকে বল সংগ্রহ করে প্র্যাকটিস চালাতে হয়।” এই মন্তব্যগুলো দলের ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের ত্রুটির দিকে ইঙ্গিত করে।
বেতন ও ডে-এলাউন্স না পাওয়াও তালহা জুবায়ের অভিযোগের একটি অংশ। তিনি জানান, “এখন পর্যন্ত কোনো পেমেন্ট পাইনি,” যা কোচিং স্টাফের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই সব সমস্যার সমাধান না হওয়ায় সুজন ও তালহা একত্রে সিলেটের অনুশীলন মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মাঠ ত্যাগের পর তারা সিএনজিতে চড়ে স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে যান। দুজনই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়া তাদের জন্য আর যুক্তিসঙ্গত নয়।
সিলেটের অনুশীলন মাঠে কোচদের প্রস্থান দলীয় মনোবল ও প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন। অনুশীলনের ধারাবাহিকতা বজায় না থাকলে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে।
শুক্রবার বিকেল ৩টায় সিলেট টাইটান্স ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের মধ্যে উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সন্ধ্যা ৭:৪৫ মিনিটে নোয়াখালি এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের মুখোমুখি হবে। দু’দলই এই ম্যাচের আগে অনুশীলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।
কোচদের পদত্যাগের পর দলীয় ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিস্থিতি সামলাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অনুশীলনের সময় সরবরাহের ঘাটতি, আর্থিক দায়বদ্ধতা এবং দায়িত্বের স্পষ্টতা না থাকলে টুর্নামেন্টের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক।
বিপিএল আয়োজক সংস্থা এখনো কোচদের পদত্যাগের কারণ ও সমাধান নিয়ে কোনো সরকারি মন্তব্য প্রকাশ করেনি। তবে এই ঘটনা টুর্নামেন্টের আগে দলীয় প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা কাঠামোর পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় কোচরা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করলেও, তাদের মুখে দৃঢ় সংকল্প স্পষ্ট ছিল। অনুশীলনের সময় সরবরাহের ঘাটতি, দায়িত্বহীন ব্যবস্থাপনা এবং বেতন না পাওয়া তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।
বিপিএল শুরুর দিনগুলোতে এ ধরনের অস্থিরতা টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু পরিচালনা ও দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। দলীয় ব্যবস্থাপনা ও ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সমস্যার সমাধান করা জরুরি।
এই পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, “যদি দলীয় কাঠামো ও আর্থিক দায়বদ্ধতা স্পষ্ট না হয়, তবে খেলোয়াড় ও কোচ উভয়েরই পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়বে।” তাই টুর্নামেন্টের শুরুর আগে সব দিক থেকে সমন্বয় করা প্রয়োজন।
বিপিএলের ১২তম আসরে নোয়াখালি এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের ম্যাচে উভয় দলের প্রস্তুতি কীভাবে হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে কোচদের পদত্যাগের পর দলীয় ম্যানেজমেন্টের দ্রুত পদক্ষেপ টুর্নামেন্টের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হবে।



