ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি বড়দিনের আগের দিন রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। তিনি ক্রিসমাসের প্রাক্কালে রাশিয়ার কর্মকাণ্ডকে পুনরায় তুলে ধরেন এবং দেশের পূর্বাঞ্চলে শান্তি অর্জনের জন্য ২০ ধাপের একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
রাশিয়া ২৪ ডিসেম্বরের পূর্বে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন চালনা করে, যার ফলে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী কমপক্ষে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। এই আক্রমণগুলো লুহানস্ক ও দোনেৎস্কের বেশিরভাগ অংশে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণকে আরও দৃঢ় করেছে।
জেলেনস্কি তার ভাষণে উল্লেখ করেন, রাশিয়ার আক্রমণগুলো দেশের মানুষের মধ্যে শেয়ার করা একটি স্বপ্নের দিকে ইঙ্গিত করে – রাশিয়ার অবসান এবং ইউক্রেনের স্বাধীনতা। তিনি বলেন, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করার সময় আমরা বৃহত্তর শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য আবেদন করি। এই বক্তব্যের সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইউক্রেনের শত্রুতা শেষ করার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের সময় তিনি ২০ ধাপের একটি পরিকল্পনা উন্মোচন করেন, যার মূল লক্ষ্য হল পূর্বের শিল্পাঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা, তবে একই শর্তে রাশিয়াকেও তার দখলকৃত এলাকায় থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। প্রত্যাহারকৃত অঞ্চলগুলোকে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে নিরস্ত্রীকৃত জোনে রূপান্তর করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সামরিক সংঘর্ষের সম্ভাবনা কমে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই পরিকল্পনা দনবাস অঞ্চলের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট সমঝোতার ইঙ্গিত দেয়। একই রকম ব্যবস্থা রাশিয়ার দখলে থাকা জাপোরিজঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশেপাশের এলাকাতেও প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, কোনো শান্তি চুক্তি জনগণের ভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত হতে হবে, যাতে জাতীয় ঐক্য বজায় থাকে।
রাশিয়া এখনও দখলকৃত অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো স্পষ্ট সংকেত দেয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে লুহানস্কের অধিকাংশ এবং দোনেৎস্কের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই বাস্তবতা উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার জটিলতা বাড়িয়ে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
জেলেনস্কির এই বক্তৃতা এবং পরিকল্পনা ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। রাশিয়ার সামরিক পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা এবং ইউক্রেনের শান্তি প্রচেষ্টার মধ্যে সমন্বয় কিভাবে গড়ে উঠবে, তা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হবে।
শান্তি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া উভয়ই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও চাপের ওপর নির্ভরশীল। যদি রাশিয়া প্রত্যাহারের সংকেত দেয়, তবে উভয় পক্ষের সমঝোতা দ্রুত অগ্রসর হতে পারে, অন্যথায় সংঘাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই, পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে উভয় দেশের কূটনৈতিক পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার হস্তক্ষেপের দিকে নজর রাখা জরুরি।



