ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদি মিরোশনোভিচ জেলেনস্কি বড়দিনের আগের সন্ধ্যায় জাতীয় টেলিভিশনে এক ভাষণ দেন, যেখানে তিনি দেশের জনগণকে একত্রে ভাগ করা স্বপ্নের কথা স্মরণ করিয়ে বলেন এবং রাশিয়ার পরাজয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
জেলেনস্কির ভাষণের ঠিক এক দিন আগে, রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই আক্রমণে অন্তত তিনজন নাগরিক নিহত হয় এবং বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়।
হামলার পর জেলেনস্কি রাশিয়াকে “ঈশ্বরহীন আঘাত” বলে বর্ণনা করেন এবং উল্লেখ করেন যে রাশিয়ান বাহিনী ক্রিসমাসের প্রাক্কালে আবারও তাদের প্রকৃত স্বভাব প্রকাশ করেছে। তিনি বলছেন, রাশিয়ার এই ধারাবাহিক গুলিবর্ষণ, শত শত শহীদ ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও কিনঝাল হামলা দেশের নিরাপত্তা ও নাগরিক জীবনে গভীর ক্ষতি করেছে।
যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝেও জেলেনস্কি শান্তির আহ্বান তীব্র করেন। তিনি বলেন, যখন মানুষ ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে, তখন বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রার্থনা করা উচিত, এবং ইউক্রেনের জন্য শান্তি চাওয়া উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের স্বাধিনতা ও নিরাপত্তা অর্জনের জন্য দেশটি লড়াই চালিয়ে যাবে এবং শান্তি অর্জনের যোগ্যতা রয়েছে।
একই সময়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি ব্রিফিংয়ে জেলেনস্কি ২০ ধাপের একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন, যা যুদ্ধের সমাপ্তি লক্ষ্য করে। পরিকল্পনার মূল অংশে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের শিল্পাঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার অন্তর্ভুক্ত, তবে শর্ত থাকে যে রাশিয়াও একইভাবে তার সেনা প্রত্যাহার করবে এবং ওই অঞ্চলকে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে নিরস্ত্রীকৃত এলাকা হিসেবে রূপান্তরিত করা হবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই প্রস্তাবটি ডনবাস অঞ্চলের বিষয়ে জেলেনস্কির সবচেয়ে স্পষ্ট সমঝোতার ইঙ্গিত বহন করে। একই ধরনের ব্যবস্থা রাশিয়ার দখলে থাকা জাপোরিজঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পারিপার্শ্বিক এলাকাতেও প্রয়োগ করা যেতে পারে বলে তারা অনুমান করেন।
জেলেনস্কি আরও জোর দিয়ে বলেন যে কোনো শান্তি চুক্তি জনগণের গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত হতে হবে, যাতে সমাধানটি সর্বজনীন স্বীকৃতি পায়। এই শর্তটি দেশের অভ্যন্তরে শান্তি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়া এখনো দখলকৃত অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো ইতিবাচক সংকেত দেয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে লুহানস্কের অধিকাংশ এলাকা এবং ডোনেটস্কের প্রায় সত্তর শতাংশ রাশিয়ান নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই বাস্তবতা জেলেনস্কির পরিকল্পনার বাস্তবায়নকে জটিল করে তুলছে।
বৈশ্বিক পর্যায়ে জেলেনস্কির বড়দিনের ভাষণ ও তার শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সূচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশগুলো এই প্রস্তাবের সম্ভাব্যতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছে, তবে রাশিয়ার অবস্থান এখনও অনিশ্চিত। ভবিষ্যতে কী ধাপ নেওয়া হবে, তা উভয় পক্ষের কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও জনগণের মতামতের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।



