কারা বিভাগে সম্প্রতি একটি গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে কিছু লোক দাবি করে যে লটারির মাধ্যমে বন্দিদের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এই দাবি মূলত বন্দি আত্মীয়-স্বজনকে লক্ষ্য করে আর্থিক লোভের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। গুজবের বিস্তার থামাতে বিভাগে জরুরি তদন্ত শুরু করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধোঁকাবাজরা লটারির ফলাফল জানিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দাবি করে, যা বাস্তবে কোনো সরকারি নীতি বা প্রক্রিয়ার অংশ নয়। এ ধরনের প্রতারণা সাধারণত দুর্ভাগ্যজনক পরিবারকে শোষণ করে, ফলে আর্থিক ক্ষতি এবং মানসিক কষ্ট বাড়ে।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. জান্নাত-উল ফরহাদ গুজবের ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য দেন। তিনি বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, মিডিয়াকে জানিয়ে জানান যে, লটারির মাধ্যমে বন্দি মুক্তি দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা বা অনুমোদন নেই।
মো. জান্নাত-উল ফরহাদ উল্লেখ করেন, এই ধরনের কোনো কার্যক্রমের জন্য কোনো আইনগত ভিত্তি গড়ে ওঠেনি এবং সরকারী কোনো নীতি এই গুজবকে সমর্থন করে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই গুজবের শিকার হয়ে কোনো অর্থ প্রদান করা সম্পূর্ণই অবৈধ।
বিভাগের মতে, লটারির মাধ্যমে বন্দি মুক্তি দেওয়া একটি সম্পূর্ণ কল্পনা এবং এর কোনো বাস্তবতা নেই। এধরনের প্রতারণা বন্ধ করার জন্য বিভাগে তৎপরতা বজায় রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জনসাধারণকে সতর্ক করা হচ্ছে যে, এধরনের গুজবের শিকার হয়ে কোনো অর্থ প্রদান করা তাদের নিজস্ব ক্ষতি বাড়াবে। যদি কেউ এমন কোনো প্রস্তাব পায়, তবে তা অবিলম্বে প্রত্যাখ্যান করা উচিত।
বিভাগের হটলাইন নম্বর ১৬১৯১-এ কল করে গুজবের সত্যতা যাচাই করা যায়। এই নম্বরে কল করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তথ্য প্রদান করবে এবং প্রয়োজনে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
হটলাইন নম্বরটি ১-৬১-৯১, যা ২৪ ঘন্টা সক্রিয়। এই সেবা ব্যবহার করে যেকোনো সন্দেহজনক তথ্যের ব্যাপারে দ্রুত স্পষ্টতা পাওয়া যাবে এবং ধোঁকাবাজি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, গুজবের ভিত্তিতে আর্থিক লেনদেন করা এবং অন্যকে প্রতারণা করা উভয়ই অপরাধের আওতায় পড়ে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, এমন কার্যকলাপের জন্য শাস্তি নির্ধারিত আছে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপ করা হবে।
কারা বিভাগে পূর্বে একই রকম গুজবের প্রতিবেদন পাওয়া গিয়েছে, তবে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তা দমন করা হয়েছে। এইবারও একই পদ্ধতি অনুসরণ করে গুজবের শিকারের সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে।
জনসাধারণকে অনুরোধ করা হচ্ছে যে, কোনো সন্দেহজনক তথ্য পেলে অবিলম্বে হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করুন এবং গুজবের শিকার হয়ে আর্থিক ক্ষতি না করেন। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত তথ্য যাচাইই এই ধরনের প্রতারণা মোকাবিলার মূল চাবিকাঠি।
বিভাগের পক্ষ থেকে শেষ বার্তা হল, লটারির মাধ্যমে বন্দি মুক্তি দেওয়া কোনো বাস্তবতা নয় এবং এধরনের গুজবের প্রতি সর্বদা সতর্ক থাকা প্রয়োজন। হটলাইন নম্বর ১৬১৯১-এ কল করে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে এবং ধোঁকাবাজি থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।



