পশ্চিম তীরের হেব্রন শহরের উত্তরে সাইর গ্রামে ইসরায়েলি বসতিদের গোষ্ঠী দ্বারা গৃহে পাথর নিক্ষেপের ফলে আট মাসের শিশুটি মুখ ও মস্তকের মাঝারি আঘাত পায়। ঘটনাটি বুধবার রাতের দিকে ঘটেছে এবং স্থানীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানায় শিশুর অবস্থার গুরুতর নয়, তবে চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন।
ইসরায়েলি পুলিশ বৃহস্পতিবার একই ঘটনার পর পাঁচজন বসতিকে গ্রেফতার করেছে, কারণ তারা পাথর নিক্ষেপের অভিযোগে গৃহে প্রবেশের তথ্য পেয়েছিল। গ্রেফতারের পর পুলিশ জানায়, সন্দেহভাজনরা গৃহের জানালায় পাথর ছুঁড়ে আঘাতের কারণ হয়েছে।
সাইর গ্রামটি হেব্রনের উত্তর দিকে অবস্থিত এবং এখানে বসতি সম্প্রসারণের ফলে স্থানীয় প্যালেস্টিনীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে উত্তেজনা বেড়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এই বসতিগুলোকে অবৈধ বলে গণ্য করা হয়, যদিও ইসরায়েল সরকার এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে। শান্তি সংস্থা পিস নাও অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৭ লক্ষ বসতি বাসিন্দা পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসে আছেন।
সাইরের পাশাপাশি, নাবলুসের পূর্বে বিট ফুরিক শহরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আক্রমণে ১৭ বছর বয়সী এক তরুণ গুলি হয় এবং বহু প্যালেস্টিনীয় নাগরিক গ্যাসের ধোঁয়া শ্বাসে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। ওয়াফা জানায়, সেনারা শহরের বিভিন্ন পাড়া জুড়ে বিস্তৃত অভিযান চালিয়ে সরাসরি গুলি ও গ্যাস ক্যানিস্টার ব্যবহার করেছে।
বিকাশের ধারায়, হেব্রনের দক্ষিণে মাসাফার ইয়াট্টা অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী তিনজন প্যালেস্টিনীয়কে গ্রেফতার করেছে, যারা পূর্বে বসতিদের আক্রমণে আক্রান্ত হয়েছিল। একই সময়ে, নিরাপত্তা বাহিনীর দলগুলো বাসিন্দাদের ঘর ও তাঁবুতে প্রবেশ করে, সামগ্রী নষ্ট করে এবং একজনকে আটক করেছে।
রামাল্লাহর পূর্বে ডেইর জারির গ্রামে আরেকটি বসতি আক্রমণে একজন তরুণ প্যালেস্টিনীয়ের হালকা আঘাত হয়েছে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, সশস্ত্র বসতিবাসীরা গ্রামপ্রবেশের পথে গৃহগুলোতে গুলি করে এবং কিছু বাসিন্দা আহত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ধারাবাহিক সহিংসতাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি বিশেষজ্ঞ ড. রাহুল চৌধুরী বলেন, “ইসরায়েলি বসতিগুলোর সম্প্রসারণ এবং প্যালেস্টিনীয় গৃহে আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন, যা দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলছে।”
ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার প্রতিনিধি, মারিয়া গোমেজ, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে তীব্রভাবে নিন্দা করে এবং “বসতি সম্প্রসারণ ও গৃহহিংসা বন্ধ করা জরুরি, নতুবা দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনার কোনো অগ্রগতি হবে না” বলে মন্তব্য করেছেন।
ইসরায়েলি সরকার এখনও বসতি সম্প্রসারণকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপায় হিসেবে উপস্থাপন করে, তবে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার গোষ্ঠী এই নীতি বিরোধী। গৃহহিংসা, গ্যাস ব্যবহার এবং গুলিবর্ষণকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি এই ধরনের আক্রমণ বন্ধ না হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরের সংঘর্ষের সম্ভাবনা বাড়বে। বিশেষ করে, হেব্রন ও নাবলুসের আশেপাশে বসতি সম্প্রসারণের গতি ত্বরান্বিত হলে, প্যালেস্টিনীয় জনগণের মানবিক অবস্থার অবনতি ত্বরান্বিত হবে।
এই পরিস্থিতিতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়ছে এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের আহ্বান বাড়ছে। তবে, বর্তমান সময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে শান্তি প্রক্রিয়া স্থবির অবস্থায় রয়েছে।
অবশেষে, সাইরের শিশুর আঘাত, বিট ফুরিকের গুলি ও গ্যাস, এবং মাসাফার ইয়াট্টা ও ডেইর জারির বসতি আক্রমণগুলো একত্রে ইসরায়েলি-ফিলিস্তিন সংঘর্ষের জটিলতা ও মানবিক দিককে উন্মোচন করে। আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও নিরাপত্তা নীতির দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনাগুলোকে সমাধান করা জরুরি, যাতে অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায়।



